Column



বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন উৎসাহজনক, জানাচ্ছে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন উৎসাহজনক, জানাচ্ছে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক
এ বছরের ১২ই জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার তার উপর্যুপরি দ্বিতীয় দফার শাসনকালের পঞ্চম এবং শেষ বছরে পা রাখল। দেশকে এই সরকার এই সময়ের মধ্যে অর্থনীতি, পরিকাঠামো, কূটনীতি, জাতীয় সুরক্ষা এবং সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্‌দেশে এক ভাষণে তাঁর সরকারের প্রধান সাফল্যগুলির কথা জানিয়ে  বাংলাদেশকে একটি সম্পন্ন দেশের স্তরে উন্নীত করার লক্ষ্যে আগামী বছরের কর্মসূচীর রূপরেখা  তুলে ধরেন। দেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয় এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত আয়ের দেশে পরিণত করার দৃঢ় অঙ্গীকার করেছে   তাঁর সরকার।

 

দ্বিতীয় দফার চতুর্থ বছর পার করে এখন এই সরকার শুধু যে শক্ত জমির উপর দাঁড়িয়ে আছে, তা-ই নয়, সারা পৃথিবী জুড়েই শেখ হাসিনা তাঁর নেতৃত্বের জন্য বন্দিত হচ্ছেন।   জাতি হিংসার শিকার হয়ে  মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা হাজার হাজার রোহিংগিয়াকে আশ্রয়দান করে মানবতা এবং শান্তির যে অনন্য নজির তিনি গড়েছেন, তার জন্য  আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁকে "মাদার অফ হিউম্যানিটি", "নিউ স্টার অফ দি ইস্ট"- ইত্যাদি বিশেষণে প্রশংসা করা হচ্ছে।

 

আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে প্রতিটি মাপকাঠিতেই  পরিকাঠামো উন্নয়ন, দারিদ্র্য অপনয়ণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পুষ্টি, মা এবং শিশুর স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষা এবং নারী ক্ষমতায়ণে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ  সন্তোষজনক  সাফল্য অর্জন করেছে।

 

কার্যকরীভাবে নীতি রূপায়ন করে এবং সময়োচিত সরকারি হস্তক্ষেপের ফলে গত কয়েক বছরে দেশের কৃষি ক্ষেত্রে বড় রকমের অগ্রগতি ঘটানো গেছে এবং      প্রধান খাদ্যশস্যের চাহিদা পূরণ করে স্বনির্ভর হওয়া গেছে। এ কথা বলেছেন বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইন্সটিট্যুটের ডিরেক্টর জেনারেল আবুল কালাম আজাদ। 

 

দ্বিতীয় দফার চতুর্থ বছর পার করে এখন এই সরকার শুধু যে শক্ত জমির উপর দাঁড়িয়ে আছে, তা-ই নয়, সারা পৃথিবী জুড়েই শেখ হাসিনা তাঁর নেতৃত্বের জন্য বন্দিত হচ্ছেন। জাতি হিংসার শিকার হয়ে মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা হাজার হাজার রোহিংগিয়াকে আশ্রয়দান করে মানবতা এবং শান্তির যে অনন্য নজির তিনি গড়েছেন, তার জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁকে "মাদার অফ হিউম্যানিটি", "নিউ স্টার অফ দি ইস্ট"- ইত্যাদি বিশেষণে প্রশংসা করা হচ্ছে।
ওয়ার্ল্ড ব্যাংক সূত্রে পাওয়া একটি সুখবর সবারই প্রায় চোখ এড়িয়ে গেছে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০ সালে বাংলাদেশে ছ' কোটি তিরিশ লক্ষ মানুষ দারিদ্র্য  সীমার নীচে বাস করতেন, কিন্তু ২০১০ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে চার কোটি তিরিশ লক্ষে। এই কৃতিত্বের দাবিদার  দারিদ্র্য অপনয়ণের জন্য অক্লান্ত  প্রচেষ্টা চালানো বর্তমান সরকার। এই সময়কালের মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধি সত্ত্বেও দারিদ্র্য সীমার নীচে বাস করা মানুষের সংখ্যা কমেছে ২৬ শতাংশ।

 

ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর হার কমেছে, বেড়েছে স্বাক্ষরতার হার। দেশের ৯৮ শতাংশ মেয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়া, যা সর্বকালীন রেকর্ড। এই উন্নতির পিছনেও আছে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা এবং শিক্ষার প্রসারের জন্য সরকারের প্রচেষ্টা।

 

দেশের অতি দরিদ্র মানুষদের দূর্দশা থেকে টেনে বের করে আনার প্রতিজ্ঞা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর মেয়াদের বাকি সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এ কাজ করতে চান তিনি। তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য ক্ষুধা এবং দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

 

সুরক্ষা প্রকল্পগুলির আওতা এবং সেগুলির জন্য বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ বাড়িয়ে সরকার ৫৭. ৬৭ লক্ষ মানুষকে আর্থিক সহায়তা করে তাদের চরম দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছে। অন্যদিকে, লৌহ কঠিন হাতে সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গিবাদকে দমন করেছে এই সরকার।

 

শেখ হাসিনা টানা ন' বছর ক্ষমতায় থাকার সময়কালে যে সব বৃহৎ সাফল্য বাংলাদেশ অর্জন করেছে, তার তালিকা দীর্ঘ। সেগুলির  মধ্যে অল্প কয়েকটি এই - অনুন্নত পর্যায় থেকে বাংলাদেশের নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত  হয়েছে  এবং আগের অর্থবর্ষে  জি ডি পি বৃদ্ধি  হয়েছে সর্বোচ্চ-   ৭.২৮ শতাংশ , মাথাপিছু আয় বেড়ে হয়েছে ১৬১০ ডলার, বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে হয়েছে ৪,৯৪২ মেগাওয়াট, দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে পরিকাঠামো উন্নয়ন, কঠোর হাতে রোখা হয়েছে জঙ্গি দৌরাত্ম এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে।

 

পরিকাঠামো উন্নয়নে সরকার অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বহুপ্রতীক্ষিত বহুমুখী পদ্মা সেতু প্রকল্প, যার ৫০ শতাংশ কাজ সম্পূর্ন হয়ে গেছে এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে যেটি উন্মুক্ত হবার কথা।

 

এই সরকার ১৯০.৪৮ কিমি দীর্ঘ  চার লেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের কাজ সম্পূর্ন করে ফেলেছে, সম্পূর্ন করেছে পটুয়াখালীর কালাপাড়ায় দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর এবং চট্টগ্রাম এবং ফেনিতে বেশ কয়েকটি ফ্লাইওভারের কাজও। দেশের প্রথম মেট্রো রেলের নির্মাণ কাজ  চলছে এবং প্রথম পর্যায়ে এই পরিষেবা ২০১৯ সালে উত্তরা থেকে আগরগাও-র মধ্যে চালু হয়ে যাবে। বাকি পথ (উত্তরা-মতিঝিল) খুলে যাবে ২০২০-তে। .

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭-র ডিসেম্বরের মধ্যে মোট ৪০৮৬ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২৮ টি বিদ্যুৎ  প্রকল্প স্থাপন করেছে। এগুলি হয়েছে পাব্লিক-প্রাইভেট উদ্যোগের মাধ্যমে। '২০১৮ সালের মধ্যে সকলের জন্য বিদ্যুৎ' কর্মসূচী অনুযায়ী ২৬ টি উপজিলা একশো শতাংশ বিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় এসেছে।

 

কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হয়েছে বহুগুণ এবং স্বনিযুক্তি ও স্বনির্ভরতা বেড়েছে দশ শতাংশ। বৃদ্ধি ঘটেছে কর্মনিযুক্তিতেও।  বেশিরভাগ পরিবারেই আজকাল একাধিক রোজগেরে সদস্য। গড় আয় গত দশ বছরে- ২২০৭ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে- বেড়েছে ৯.৫  শতাংশ। দ্য নিউ এজ, ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল, দ্য ইকনমিস্ট এবং অন্য বহু আন্তর্জাতিক স্তরের পত্রিকায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে দক্ষিন এশিয় দেশগুলির মধ্যে অন্যতম সেরা বলে বর্ননা করা হয়েছে।

 

প্রযুক্তির ক্ষেত্রে 'ইয়ং বাংলা' মাইক্রোসফটের সংগে হাত মিলিয়েছে গ্রামীণ জনগণকে প্রযুক্তিগত সহায়তা করার উদ্দেশ্যে। সারা দেশে বিভিন্ন শিক্ষা কেন্দ্রের ৫০,০০০ ছাত্র ছাত্রীকে তারা প্রাথমিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেবে।  সারা দেশে কম্পিউটার এবং ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে সরকারের আই সি টি ডিভিশনের সংগেও সহযোগিতা করছে ইয়ং বাংলা। এ পর্যন্ত এ রকম ২,৮০০ ল্যাব গড়ে উঠেছে এবং এই বছরেই খুলে যাবে  আরও ১০০০ ল্যাব।  শেখ হাসিনার 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' ভিশনের কল্যাণে দেশের ১৬ কোটি মানুষের জীবনের ধারা অচিরেই রূপান্তরিত হবে ডিজিটাল- বিদ্যাভিত্তিক সমাজে।

 

গ্লোবাল নিউক্লিয়ার ক্লাবেও প্রবেশ ঘটেছে বাংলাদেশের। দেশের প্রথম নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট- রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণকার্যের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩০শে নভেম্বর, ২০১৭ সালে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, এ কথা পরিষ্কার যে, দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে যাওয়া, রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সুনিশ্চিত করা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বন্দোবস্ত করা এবং হিংসাত্মক তথা জঙ্গিবাদী কার্যকলাপ দমনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকার জন্য ক্রমাগত ঊর্দ্ধমুখী হয়ে চলেছে তাঁর জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতা।

 

এই বছরেরই মার্চে বাংলাদেশ তার প্রথম বাণিজ্যিক উপগ্রহ-বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ করবে।

 

এপ্রিল, ২০১৭ তে প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ব্যাংক রিপোর্ট অনুযায়ী নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে ভারত এবং পাকিস্তান-উভয় দেশকেই পিছনে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ। বস্তুতপক্ষে, দেশের ৫৭.৪ শতাংশ কর্মজীবী হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের থেকেই এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ।

 

সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার লক্ষ্য ৭.৪ শতাংশ হারে জি ডি পি বৃদ্ধি ঘটানো। এখানে এ কথা বলা অপ্রাসঙ্গিক হবেনা যে, ২০১৫ সালে বি এন পি এবং তার মিত্রশক্তিগুলির হিংসাত্মক রাজনীতি, গুণ্ডামি, অগ্নিসংযোগ, অবরোধ এবং হরতালের ফলে সাম্প্রতিক অতীতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল জি ডি পি বৃদ্ধির হার।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, এ কথা পরিষ্কার যে, দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে যাওয়া, রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সুনিশ্চিত করা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বন্দোবস্ত করা এবং হিংসাত্মক তথা জঙ্গিবাদী কার্যকলাপ দমনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকার  জন্য ক্রমাগত ঊর্দ্ধমুখী হয়ে চলেছে তাঁর জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতা।




Video of the day
Bangla News Today 16 February 2018 Bangladesh Jamuna News Latest Bangla Tv News all bangle bd update
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics