Column
উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বাংলাদেশের

28 Feb 2018

#

বাংলাদেশকে এখন সারা বিশ্বে বলা হচ্ছে 'অসম্ভব অভীষ্ট সাধনের দেশ।' ক্ষুধা এবং দারিদ্র্য-মুক্ত সমাজের লক্ষ্যে মিলেনিয়াম ডেভলপমেন্ট গোলস-এরনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ইতিমধ্যেই পূরণ করেছে এই দেশ। দারিদ্র্য অপনয়ণে দেশের সাফল্য সারা পৃথিবীতে বহুল প্রশংসিত। ইয়োহানেস জুট, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক কান্ট্রি ডিরেক্টর, বাংলাদেশ, বলেছেন, "সমস্ত প্রতিকূলতার মুখে দাঁড়িয়েও বাংলাদেশ গত দশ বছরে এক কোটি ষাট লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্যসীমার উপরে নিয়ে এসেছে এবং কমিয়ে এনেছে অসাম্য। এটি একটি অতি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

পনেরো কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশের কাছে  একমাত্র বড় আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জ তার দারিদ্র্য । দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার সর্বাগ্রেই রয়েছে দারিদ্র্যমোচনের লক্ষ্য, যা সমস্ত পরিকল্পনার নথিপত্র থেকেই প্রতীয়মান হয়। এ ব্যাপারে এ পর্যন্ত যা সাফল্য এসেছে, তা দারিদ্র্যমোচনের লক্ষ্যে অক্লান্ত কাজেরই ফসল। গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশে যে হারে দারিদ্র্যহার কমেছে, তাতে এই চিত্রই মনে আসে যে, ২০২১ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে চলেছে দেশ।

 

দু'হাজার ন' সালে যখন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসে, তখন দেশে গরীব মানুষের সংখ্যা ছিল পাঁচ কোটি। এর মধ্যে ২. ৮৮ কোটি মানুষই ছিলেন চরম গরীব। ঐ সময় থেকে সরকারের মেয়াদকাল, অর্থাৎ ২০১৪ সালের মধ্যে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার গড়ে ১.১৬ শতাংশ বাড়লেও গরীব এবং অতি গরীবের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৩.৮৫ কোটি এবং ১.৫৭ কোটি। উল্লেখযোগ্য যে, অতি দরিদ্র্য সীমায় বাস করা মানুষদের ৪৫ শতাংশ উপরে তুলে আনা হয়েছে গত পাঁচ বছরে।
দু'হাজার  ন' সালে  যখন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসে, তখন দেশে গরীব মানুষের সংখ্যা ছিল পাঁচ কোটি।  এর মধ্যে ২. ৮৮ কোটি মানুষই ছিলেন চরম গরীব। ঐ সময় থেকে সরকারের মেয়াদকাল, অর্থাৎ ২০১৪ সালের মধ্যে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার গড়ে ১.১৬ শতাংশ বাড়লেও গরীব এবং অতি গরীবের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৩.৮৫ কোটি এবং ১.৫৭ কোটি। উল্লেখযোগ্য যে, অতি দরিদ্র্য সীমায় বাস করা মানুষদের ৪৫ শতাংশ উপরে তুলে আনা হয়েছে গত পাঁচ বছরে।

 

জি ডি পি'র  সাধারণ হিসেবে দেশের অর্থনীতি এখন বিশ্বে ৪৪তম এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সমতা ৩৩তম। পৃথিবীতে যে এগারোটি দেশের অর্থনীতির বিকাশ আসন্ন বলে মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশ তাদের মধ্যে অন্যতম। ইন্টারন্যাশনাল মানিটারই ফান্ডের বক্তব্য, ৭.১ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের অর্থিনীতির বৃদ্ধি ছিল পৃথিবীতে দ্বিতীয় দ্রুততম।

 

বাংলাদেশ সরকার বর্তমান অর্থবর্ষে ৭.২৪ শতাংশ হারে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ্লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে।বর্তমান অর্থবর্ষে  জি ডি পি বৃদ্ধি হারের লক্ষ্যমাত্রা ৭.২ শতাংশ। দেশে ভোগ্যপণ্যের তেজি চাহিদা, রপ্তানি, লগ্নি এবং রেমিট্যান্স বৃদ্ধি আশা করে বিশ্বব্যাংক আগামী দু'বছরের অর্থনীতির এক উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরেছে। 'গ্লোবাল ইকনমিক প্রস্পেক্টস', যা বিশ্বব্যাংকের একটি অন্যতম প্রধান প্রতিবেদন, তাতে বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে বর্ধিত চাহিদা এবং রপ্তানিবৃদ্ধির ফলে ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতি ৭.২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা দফতরের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হুসেন জানিয়েছেন, ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে যে ১৩৪টি দেশের অর্থনীতি গড়ে ৬.৭ শতাংশ অথবা তার বেশি হারে বৃদ্ধি পাবে বলে ধরা হচ্ছে, তাদের প্রথম ১৭টির মধ্যে আছে বাংলাদেশ।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ডঃ শামসুল আলম, যিনি জেনারেল ইকনমিক ডিভিশনের প্রধান এবং একজন প্রথম সারির চিন্তাবিদ, বলেছেন বাংলাদেশ দুর্দান্ত অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে, বিশেষত গত ন'বছরে, অনেক উত্থানপতন সত্ত্বেও। তাঁর বক্তব্য অনুসারে, দেশের জি ডি পি -তে পরিষেবা ক্ষেত্রের অবদান এখন ৫৩ শতাংশ। এটা সম্ভব হয়েছে শিল্পের বৃদ্ধির ফলে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এ এক বিশাল পরিবর্তন।

 

বাংলাদেশের মাথাপিছু গড় আয় এখন ১,৬১০ ডলার, স্বাধীনতা প্রাপ্তির সময় ছিল মাত্র ১৯ ডলার। একই সঙ্গে দারিদ্র্যের হার, যা ১৯৭৩-৭৪ সালে ছিল ৮২.৯ শতাংশ, কমে হয়েছে ২৪.৩ শতাংশ। চরম দারিদ্র্য ১২.৯ শতাংশ (বাংলাদেশ ব্যুরো অফ স্ট্যাটিসটিক্স)। বিশ্লেষকদের মত, বাংলাদেশের অর্থনীতি বহুদিন ধরেই ছিল একমাত্রভাবে কৃষি-নির্ভর। সেই জায়গা থেকে সরে বেশি করে পরিষেবা এবং শিল্পমূলক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ফলেই এই সমৃদ্ধি এসেছে।

 

উন্নয়ন বিষয়ক খ্যাতিমান বিশ্লেষক ডঃ জাইদ বখত্‌ মনে করেন, দু'টি কাঠামোগত পরিবর্তন- অর্থনীতিকে আরও উন্মুক্ত করা এবং দ্রুতহারে দারিদ্র্য কমিয়ে আনা-বাংলাদেশ সরকারকে আজকের সাফল্য অর্জনে সাহায্য করেছে। "জি ডি পি -তে আমদানি-রপ্তানির অবদান ২০ থেকে লাফিয়ে ৪০ শতাংশ হওয়ায় দেশের অর্থনীতি এখন অনেক খোলা," তিনি বলেছেন। অর্থনীতি বেশি করে উন্মুক্ত হওয়ার অর্থ  রপ্তানি এবং আমদানি দুই-ই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশ আরও সক্ষম এবং প্রতিযোগী হয়ে উঠেছে।"

 

তিনি মনে করেন কৃষি, নারী ক্ষমতায়ন, গ্রামীণ অর্থনীতির সংস্কার, এনজিওদের ভূমিকা এবং ক্ষুদ্র ঋণ এই বিশাল মাত্রার দারিদ্র্য মোচনে সাহায্য করছে। তাঁর মতে জি ডি পি -তে কৃষির হ্রাসমান অংশও দারিদ্র্য অপনয়ণে সাহায্য করেছে।

 

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ডঃ শামসুল আলম, যিনি জেনারেল ইকনমিক ডিভিশনের প্রধান এবং একজন প্রথম সারির চিন্তাবিদ, বলেছেন বাংলাদেশ দুর্দান্ত অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে, বিশেষত গত ন'বছরে, অনেক উত্থানপতন সত্ত্বেও। তাঁর বক্তব্য অনুসারে, দেশের জি ডি পি -তে  পরিষেবা ক্ষেত্রের অবদান এখন ৫৩ শতাংশ। এটা সম্ভব হয়েছে শিল্পের বৃদ্ধির ফলে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এ এক বিশাল পরিবর্তন।

 

বাংলাদেশ এখন একটি নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশ, যেখানে মাথাপিছু গড় আয় ১,৬১০ ডলার। বিশ্বব্যাংকের বেঁধে  দেওয়া মান অনুযায়ী মাথাপিছু আয়  পর পর তিন বছর ১,০৪৫ ডলার থাকলেই সে মধ্য আয়ের দেশের শ্রেণীভুক্ত হয়ে যাবে। 

 

সরকারের মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের গড় মাথাপিছু আয় এখনকার ১,৬১০ ডলার থেকে ৫,০০০ ডলার  হওয়ার কথা, যা  ২০৪১ সালের মধ্যে  প্রথমে ১২,০০০ ডলার এবং তারপর ১৫,০০০ ডলার হবে, ডঃ শামসুল আলম জানিয়েছেন। তা করতে গেলে সামাজিক এবং রাজনৈতিক স্থিতি রক্ষা এবং মানব দক্ষতাকে শিল্প-নির্ভর অর্থনীতির কাজে লাগানোই হবে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তিনি বলেছেন। 




Video of the day
Recent Photos and Videos

Web Statistics