Bangladesh
রানা প্লাজা ট্রাজডির পাঁচ বছর পূর্ণ

24 Apr 2018

Rana Plaza mishap completes five years
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা, এপ্রিল ২৪ঃ রাজধানীর অদূরে সাভারে ‘রানা প্লাজা’ ধসের পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ভয়াবহ ওই ধসে এক হাজার একশ’ ৩৪ জন নিহত হন।

 

এছাড়া গুরুতরভাবে আহত প্রায় আড়াই হাজার লোককে ধ্বংসস্তুপের নীচ  থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

 

এটাই এ যাবতকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ভবন ধ্বসের ঘটনা। ৮-তলা এই ভবনে ছিল বেশ কয়েকটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, একটি ব্যাংক, শপিং কমপ্লেক্স এবং এ্যাপার্টমেন্ট।

 

ভবনে ফাটল দেখা দেয়ায় ব্যাংক ও শপিং কমপ্লেক্স বন্ধ করে দেয়া হলেও ভবন মালিকের একগুয়েমির কারণে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলো খোলা ছিল। ভবনে ফাটল দেখা দেয়ার পরদিনও গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের কাজে আসতে বলা হয়।

 

তারা সকালে কাজে যোগ দেয়ার পর পরপরই ভবনটি ধ্বসে পড়ে। ঘটনার পাঁচ বছর পরও আহতদের অনেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।

 

তাদের কেউ দুই পা হারিয়েছেন, কেউবা এক পা।

 

কেউ কেউ হাত হারিয়েছেন, কেউবা জীবনের তরে পঙ্গু হয়েছেন।


সাভার পৌর এলাকার আমতলা মহল্লায় স্বামীর সঙ্গে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন নিলুফা বেগম (৩৮)। কাজ করতেন রানা প্লাজার ৮-তলায় প্যান্টন অ্যাপারেলস কারখানার সুইং অপারেটর হিসেবে। ভবন ধসের সময় একটি বিম পড়ে ডান পায়ের বিভিন্ন জায়গা ভেঙে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায় তার। প্রায় সাড়ে নয় ঘণ্টা আটকে থাকার পর তাকে উদ্ধার করে নেওয়া হয় হাসপাতালে।

 

সরকারিভাবে তিনি সহযোগিতা পেয়েছিলেন ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা, যার বেশিরভাগই ব্যয় হয়েছে চিকিৎসার পেছনে। অনেক চেষ্টা করেছেন পা ঠিক করার, কিন্তু সুস্থ হয়নি সেই পা। গত কয়েক মাস সেই পায়ে পচন ধরতে শুরু করেছে। চিকিৎসকরাও পা কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু টাকার অভাবে পা কেটে ফেলারও ব্যবস্থা করতে পারেননি তিনি।


নিলুফা আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, ‘স্বামীর একার আয় দিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হতো। এজন্য নিজেই পোশাক কারখানায় চাকরি নিয়ে একটু ভালোভাবে সংসার চালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তখন প্রতি মাসে আট থেকে দশ হাজার টাকা আয় করতেন। স্বামী-সন্তানকে নিয়ে ভালোভাবেই কাটছিল সংসার। একমাত্র সন্তনকে পড়াশোনা শিখিয়ে ভালোভাবে মানুষ করার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু রানা প্লজার ধস সব কেড়ে নিয়েছে। সব কিছু হারিয়ে আমরা এখন নিঃস্ব।’


রানা প্লাজার আটতলার নিউ ওয়েব স্টাইল লিমিটেডের অপারেটর ছিলেন শিউলী খাতুন (২৫)।

 

বর্তমানে সাভারের আড়াপাড়ার জব্বারের বাড়িতে ভাড়া থাকেন শিউলী ও তার স্বামী।

 

তার স্বামী পেশায় দিনমজুর। রানা প্লাজার দুর্ঘটনায় কোমরের হাড় ভেঙে যায় শিউলির। এরপর সিএমএইচ-এ ১৫ দিন চিকিৎসার পর তাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া রানা প্লাজায় আহত নেছার উদ্দিন ও তাজুল ইসলামসহ আরও অনেক শ্রমিককে এখন পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর নির্ভর হয়ে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। 




Video of the day
More Bangladesh News
Recent Photos and Videos

Web Statistics