Column
মৌলবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের দিকে এগিয়ে চলেছে দেশ

21 Sep 2013

#

বৈশাখ মাসের পয়লা তারিখে শুরু হয় বাংলা নববর্ষ, ্যে দিনটি বাঙ্গালিরা প্রতি বছর খুব উৎসাহের সাথে পালন করেন।

 সারা দেশজুড়েই নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্বাগত জানান হয় নতুন বছরকে। প্রকৃতপক্ষে বাঙ্গালির জাতীয়তাবোধের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে বাংলা নববর্ষ। কিন্তু নববর্ষ নিয়ে বাঙ্গালির আবেগ জামাত-শিবিরের মত গোঁড়া ধর্মীয় দলগুলির পছন্দ নয়। এর কারন, তাদের ধারনা সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় হলে জনমানসে তাদের নিজেদের কোনও জায়গা থাকবেনা এবং তাতে দেশে ইসলামি মৌলবাদের প্রসার ব্যহত হবে।  

 
তাই জামাত-শিবির সহ পাকিস্তান-পন্থী পরাজিত ইসলামি দলগুলি নিশ্চেষ্ট হয়ে বসে নেই।শিল্প-স্থাপত্যের প্রতি অনুরাগ মূর্তিপূজার মতই গর্হিত ইসলাম বিরোধী কাজ, এই ধুয়ো তুলে তারা সেই সব শিল্পকর্ম ধ্বংস করছে। এদের মুখ্য উদ্দেশ্য হল, অর্ধশিক্ষিত এবং অশিক্ষিত মানুষদের ভুল বুঝিয়ে একত্রিত করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা এবং ধর্মীয় আবেগ উস্কে দেওয়া।বাঙ্গালি সংস্কৃতি এবং আধুনিকতা ইসলামের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ন নয়, এই প্রচার চালিয়েও তারা মানুষকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করছে।
 
আসলে মধ্য প্রাচ্যের ইসলামি সংস্থাগুলির থেকে অর্থ সাহায্য পাওয়া জামাত-শিবির এবং তাদের সঙ্গীরা বাংলাদেশে তাদের শিকড় বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত করেছে। যে এন জি ও-গুলির মাধ্যমে এদের কাছে অর্থ সাহায্য আসে, তাদের প্রধান কাজ হল মসজিদ এবং মাদ্রাসা তৈরি করে ওয়াহাবি ইসলামের প্রচার করা। জামাত-শিবিরের উৎসাহে, অর্থের প্রলোভনে এবং মৃত্যুর পরে \'স্বর্গে ঠাঁই পাওয়া\'-র প্রতিশ্রুতিতে ভুলে দেশের বিশাল সংখ্যক বিপথগামী তরুণ তথাকথিত \'ইসলামি আদর্শ\' পালনে জীবন বিসর্জন দিয়েছেন।
 
আগে আরব দেশগুলিতে বহু সংখ্যক বিদেশী শ্রমিক এবং পেশাদার ব্যক্তিদের কাজে নিয়োগ করা হত। কিন্তু সম্প্রতি এইসব কাজে স্থানীয় মানুষরা জায়গা করে নিচ্ছেন।এবং সেইসাথে তাঁরা আধুনিকতাকেও বরন করছেন। জামাত-শিবিরের মত দলগুলি আরবদের আধুনিকতাকে গ্রহন করার বিরোধী না হলেও ইসলামের নামে বাংলাদেশকে মধ্যযুগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে।  
 
কিন্তু এই বাংলাদেশ সে দেশের মানুষের দেশ। অজস্র আত্মবলিদান এবং বিপুল রক্তপাতের বিনিময়ে এই দেশকে মানুষ পাকিস্তানের কবল থেকে মুক্ত করেছিলেন।অন্যদিকে, উনিশশো একাত্তর সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের সেইসব দিনগুলিতে পাকিস্তানপন্থী ইসলামি শক্তিগুলি মুক্তিযোদ্ধা এবং অসামরিক মানুষদের উপর চালিয়েছিল জঘন্যতম পাশবিক অত্যাচার। দখলদারি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে কত মানুষকে তারা হত্যা করেছিল তার সঠিক হিসাব আজও জানা যায়না। বেশিরভাগ হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ছিল তিরিশ লক্ষ এবং আশি লক্ষ থেকে এক কোটি হিন্দু ও মুসলমান প্রান বাঁচাতে  দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিছু তথ্য থেকে মনে করা হয় আক্রমণকারীরা ওই সময়  প্রায় আড়াই লক্ষ বাঙ্গালি মহিলাকে ধর্ষণ করা ছাড়াও আরও অনেক ধরণের নিকৃষ্ট  ্যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল।  
 
 স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় জঘন্য অপরাধ করার জন্য দেশের রাজনীতিতে অংশ নেওয়া দূরে থাক, জামাত-শিবিরকে এই দেশে তাদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে দেওয়াই উচিৎ হয়নি। কারা এইসব স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিগুলিকে দেশের মাটিতে শিকড় গাঁড়তে সাহায্য করে চলেছে ? মানুষের চরম আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করতে হয়েছে, সেই দেশে আত্মবিসর্জনকারীদের \'ভারতীয় দুষ্কৃতী\' বলে অভিহিত করা জামাত-শিবিরের জায়গা হতে পারেনা। অথচ বিস্ময়ের বিস্ময়, দেশের স্বাধীনতা বিরোধী এইসব শক্তিগুলি শুধু যে বাংলাদেশে রয়ে গেছে তাই নয়, দেশের ভিতর ও বাইরের বিভিন্ন অদৃশ্য উৎস থেকে পাওয়া বিপুল অর্থ কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের ভিত মজবুত করে দেশ স্বাধীন করতে যেসব ধর্মনিরপেক্ষ এবং প্রগতিশীল শক্তিগুলি লড়াই করেছিল, তাদের নিষ্ক্রিয় করতে চাইছে। সন্ত্রাসবাদী এবং নাশকতামূলক কাজকর্ম করার জন্য বিদেশ থেকে এদের হাতে অস্ত্রসম্ভারও আসছে। 
 
কী করছে এরা ? হুমকি দিচ্ছে, সালাউদ্দিন চৌধুরিকে মুক্তি দেওয়া না হলে চট্টগ্রাম আদালত এবং রেল ভবন উড়িয়ে দেওয়া হবে, বিচারকদের হত্যা করা হবে। কীভাবে, কাদের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় এই  সন্ত্রাসবাদী জামাত-শিবির এত স্পর্ধা দেখাচ্ছে ? সম্প্রতি জামাত-শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী সংগঠনের নাম--হেফাজত-এ-ইসলাম।
 
দেশের মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে কর্নেল তাহেরের সেই বিখ্যাত উক্তি, " স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কাছে সময় এসেছে আর একবার অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে দেশকে মুক্ত করার।" উনিশশোএকাত্তরে দেশের মানুষ লড়েছিলেন অত্যাচার, দমন, শোষণ আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে। এখনও তাঁরা লড়াই করছেন। কিন্ত এবারের লড়াই জামাত-শিবিরের সন্ত্রাস এবং সাম্প্রদায়িক কাজকর্মের বিরুদ্ধে। 



Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics