Column
মৌলবাদের প্রসারর ঃ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও ভারত

25 Sep 2013

#

মৌলবাদী এবং উদারপন্থী-ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির মধ্যে বর্তমানে এক মারাত্মক সংঘাত চলছে নির্বাচনমুখী বাংলাদেশে এবং এই ঘটনাপ্রবাহ দেশের ভাগ্য সম্পর্কে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাষা এবং সংস্কৃতিগত সত্ত্বাকে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্দ্ধে রেখে যে রাষ্ট্র একসময় সার্বভৌমত্ব লাভ করেছিল, ঘটমান বর্তমান শুধু যে তার চূড়ান্ত পরিচয়ের ব্যাপারে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে,

 তা-ই নয়, দেশকে সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে যোগ থাকা ইসলামি মৌলবাদের উত্থানের বিপদের সামনেও দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। অতীতে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করা এই মৌলবাদীরা বিপুল শক্তি অর্জন করে এখন শুধু বাংলাদেশ নয়,  গোটা দক্ষিন এশিয়া এবং ভারতের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় চালচিত্রের গভীরে প্রবেশ করা \'বাংলাদেশঃ ট্রাইস্ট উইথ ডেসটিনি\' বইটিতে এইসমস্ত ব্যাপারগুলি উঠে এসেছে। 

 
দিল্লির আসপেন ইন্ডিয়ার প্রোগ্রাম ডিরেকটর দীপাঞ্জন রায় চৌধুরি তাঁর লেখা এই বইটিতে দেখাতে চেয়েছেন কেমনভাবে \'ধর্মীয় পরিচয় জাতীয় পরিচয়ের নির্ণায়ক হতে পারেনা\' বলে  দ্বিজাতি তত্ত্ব ছুঁড়ে ফেলে স্বাধীন হওয়া মুসলমান-গরিষ্ঠ একটি দেশে সমান্তরাল ধারায় পুষ্ট হয় সে দেশের  রাজনৈতিক ইতিহাসে শিকড় থাকা মৌলবাদী শক্তি, কীভাবে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আবার  মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনেন এবং তাঁর স্ত্রী তথা পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির প্রধান বেগম খালেদা জিয়া  শক্তিশালী করে তোলেন সেই সব ধর্মান্ধদের,  স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম নেওয়া আটকাতে একদা যারা পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল, কেমন করে ক্রমে ছড়িয়ে পড়া সেইসব মৌলবাদী শক্তিগুলি আল কায়দার মত সংগঠনগুলির সঙ্গে যোগসাজসে জিহাদি চক্র গঠন করে  তৈরি করে  ইতিহাসের একটি বিপরীত ধারা এবং বাংলাদেশকে গড়ে তোলে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মের একটি নতুন আঞ্চলিক ঘাঁটি হিসেবে, আর কীভাবেই বা এতকিছু সত্ত্বেও সংস্কৃতি এবং ভাষার পরিচয়ে আত্মপরিচয়কামী বিশাল সংখ্যক মানুষ সে দেশকে ইসলামি মৌলবাদীদের কবলে চলে যাওয়ার বিরুদ্ধে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।
 
অতীতে সাংবাদিক হিসেবে মেইল টুডে, কুয়ায়েত নিউজ এজেন্সি এবং ইউনাইটেড নিউজ অফ ইন্ডিয়ায় কাজ করা লেখক  বিদেশনীতি এবং রণনীতি বিষয়ে বিশেষ উৎসাহী।  বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট এবং বাংলাদেশের মাটিতে শিকড় গেঁড়ে থাকা সন্ত্রাসবাদের বিপদ কীভাবে ভারতের মাটিতে থাবা বসিয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে আরও ভয়ানক আকার নিতে পারে, এই বইতে তিনি সেকথাও আলোচনা করেছেন।
 
তবে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬--এই দুই পর্বে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার শাসনকালে যা যা হয়েছে, প্রধানত সেইসব বিষয় আলোচিত হয়েছে এই বইয়ে। লেখক মনে করেন, যে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে ভারতের, সেই দেশের রাজনৈতিক ঘটনাবলীর আলোচনা করা জরুরী এবং তা আরও তাৎপর্যপূর্ন এই কারণে ্যে, চার দশক আগে পশ্চিম পাকিস্তানের উৎপীড়ক শাসকদের পরাস্ত করে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির জয় সূচিত করে বাংলাদেশের জন্ম নেওয়ার পিছনে ভারতের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন।
 
বাংলাদেশের বর্তমান সংকটের কথা আলোচনা করতে গিয়ে শ্রী রায়চৌধুরি জানাচ্ছেন, ভিতর এবং বাইরে থেকে অনেক বিপদের সামনা সামনি করেও কিন্তু সে দেশ তার গণতান্ত্রিক-ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র বজায় রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। "এটি একটি ক্রিয়াশীল গণতন্ত্র, যেখানে নাগরিকরা তাঁদের জাতি পরিচয় সম্পর্কে সচেতন এবং সেই চেতনার ফলেই রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল। যে দ্বিজাতি তত্ত্ব ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানে সৃষ্টি করেছিল, সেই তত্ত্ব খারিজ করে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ দেখিয়েছিল যে, ধর্মই জাতীয় পরিচয়ের একমাত্র বাহক হতে পারেনা। তবে, ভিতর এবং বাইরে থেকে মদত পাওয়া মৌলবাদী শক্তি এ দেশের ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে তাদের রাজনৈতিক বৈধতা আদায় করে নিতে পেরেছে," লেখক বলেছেন।
 
ইতিহাসের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে তিনি দেখিয়েছেন,১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কবল থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করার পর ধর্মনিরপেক্ষতা প্রচার করা প্রথম আওয়ামি লীগ সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের দায়ে মৌলবাদী সংগঠন জামাত-এ-ইসলামির সমস্ত রকম রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল।কিন্তু ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর ঘটনা পরম্পরা সামরিক শাসক হিসেবে জেনারেল জিয়াউর রহমানের ক্ষমতায় আসার পথ সুগম করে।"রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে নিজেদের টিঁকিয়ে রাখতে বি এন পি জামাত-এ-ইসলামিকে ক্ষমা প্রদর্শন করে তাদের রাজনৈতিক কার্যকলাপ আবার শুরু করার অনুমতি দেয়। যে সব জামাত নেতা ১৯৭১-এর যুদ্ধের পর পাকিস্তানে পালিয়ে গিয়েছিলেন, জিয়াউর তাঁদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনলেন।" 
 
"কিন্তু পরবর্তীকালে দেশে অভ্যুত্থানের ফলে একজন সামরিক একনায়কের কাছে বি এন পি ক্ষমতা হারায়। তবে জামাত কিন্তু সেই সামরিক শাসনের নয় বছরে বাড়তেই থাকে। এর পর যখন দেশে গণতন্ত্র আবার ফিরে আসে, অল্প ব্যবধানে নির্বাচনে জিতে বি এন পি দেশের শাসনক্ষমতায় আসে। কিন্ত পরের বার জামাত-এ-ইসলামির সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতায় আসে আওয়ামি লীগ। এর পর, ২০০১ সালে ফের জামাতকে নিজেদের শিবিরে ফিরিয়ে এনে আবার ক্ষমতা দখল করে বি এন পি।"
 
লেখক দেখিয়েছেন, ১৯৯০-এর দশকের প্রথমার্দ্ধে খালেদা জিয়ার প্রথম দফায় প্রধানমন্ত্রীত্বের সময় জামাত এবং অন্যান্য মৌলবাদী সংগঠনগুলিকে কার্যত বল্গাহীন স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল। বছরের পর বছর ধরে জামাত বাংলাদেশে হাজার হাজার মাদ্রাসা স্থাপন করেছে, যার মধ্যে অনেকগুলিই চরমপন্থী \'জিহাদি যোদ্ধা\'দের নিয়োগ করা এবং প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য সুপরিচিত। বিপুল আর্থিক সাহায্যপুষ্ট এইসব ইসলামি সংগঠনগুলি বাংলাদেশে বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আল কায়দা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলি এদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। তবে "বাংলাদেশের মৌলবাদীদের সবথেকে বড় সাহায্যকারী সৌদি আরব", যেখান থেকে এদের কাছে অর্থ সাহায্যের সিংহভাগটাই আসে। 
এর পরিণতি কী হয়েছে ? দৃষ্টান্ত দিয়ে লেখক দু\'হাজারের দশকে ভারতজুড়ে সন্ত্রাসী হানায় বাংলাদেশীদের জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। যার ফলে দক্ষিন এশিয়ার এই দেশটিতে মৌলবাদী ইসলামিদের ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রে ভারত-বিরোধী শক্তির উপস্থিতি উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। 
 
"অযোধ্যা, বাঙ্গালোর, দিল্লি, বারানসি এবং মুম্বাইতে সন্ত্রাসবাদী আক্রমণগুলি যারা করেছিল, তাদের মধ্যে ছিল বাংলাদেশী জঙ্গিরা এবং ভারতীয় উপমহাদেশে তাদের বেড়ে চলা প্রভাব সেই ধর্মীয় গোঁড়াদের উত্থানকে সূচীত করে, যারা ধর্মনিরপেক্ষতা এবং গণতন্ত্র বিরোধী," বইটিতে বলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে বইটিতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জঙ্গিদের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া, তাকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বারংবার সবকিছু অস্বীকার করার কথাও বলা হয়েছে।
 
"আল কায়দা এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগে ক্রমাগত বেড়ে চলা মৌলবাদী ইসলামি আন্দোলন ধীরে ধীরে বাংলাদেশকে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মের এক নতুন আঞ্চলিক ঘাঁটিতে পরিণত করেছে।  শেখ আবদুল সালাম মুহাম্মদের নেতৃত্বে বাংলাদেশে জিহাদি আন্দোলনের সঙ্গে যোগ ছিল ওসামা বিন লাদেনের। এই ব্যক্তি ১৯৯৮ সালে আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ভারতের বিরুদ্ধে ইসলামি জিহাদের ডাক দিয়ে বিন লাদেনের সঙ্গে ফতোয়ায় যৌথ স্বাক্ষর করেছিলেন," লেখক জানিয়েছেন।
 
বইটিতে উপস্থাপিত তথ্য থেকে বাংলাদেশের এইসব মৌলবাদী এবং চরমপন্থী সংগঠনগুলির অপরিমেয়  আর্থিক শক্তির কথা জানা যায়। " একটি অসফল অর্থনীতিতে ৫৪ টি ব্যাংকের অস্তিত্ব এবং তাদের কার্যপদ্ধতির মধ্যে একটি প্রাথমিক উদ্দেশ্য প্রতিফলিত করে--তা হল হাওলা চক্রের সাহায্যে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানোর আগে সন্ত্রাসবাদীদের তহবিলকে কলুষমুক্ত করা। বাংলাদেশ ইসলামি ব্যাংক নামে জামাতের একটি নিজস্ব ব্যাংক আছে এবং তার শাখা সংস্থা আল ফালাহ ইসলামি ব্যাংক, ইসলামি তাফাকুল সঞ্চয়ী বিমা এবং জামাতি জীবন বিমা কর্পোরেশন। এর থেকে বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদীদের অনুসরন করা একটি একক সূত্র স্পষ্ট হয়--তা হল, রাজনৈতিক হিংসার সঙ্গে হিংসার অর্থনীতকে মিলিয়ে দেওয়া।"
 
দু\'হাজার এক থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় দফার শাসনকালে বাংলাদেশে মৌলবাদীদের তান্ডবের কথা বলতে গিয়ে লেখকের উল্লেখ করা ঘটনাগুলির মধ্যে আছে দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী কিব্রিয়ার হত্যা, দেশের ৬৪ টি জেলা্র মধ্যে ৬৩টি জেলায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণ, দেশজুড়ে গ্রেনেড এবং বোমা বিস্ফোরণে ৩০ জনের মৃত্যু, এবং তখনকার বিরোধী দল, আওয়ামি লীগের দু\'জন নেতার হত্যা। এ ছাড়াও বলা হয়েছে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর উপর মহলে জামাতের অনুপ্রবেশের কথা। আমেরিকা যে বাংলাদেশ-কেন্দ্রিক হরকত উল জিহাদি ( হুজি)কে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিল এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি, বিশেষত আই এস আই-য়ের সহায়তায় তাদের জাল বিস্তৃত করা বি এন পি-মিত্র জামাত যে \'সুইসাইড বম্বিং\', রাজনৈতিক হত্যা এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের হেনস্থার সমর্থন করে, সেসব কথাও বলা হয়েছে এই বইতে। 
 
যে হেতু বাংলাদেশের মৌলবাদীরা ইতিমধ্যেই গ্রামাঞ্চলের এক বিরাট অংশের মানুষের উপর কর্তৃত্ব কায়েম করে ফেলেছে এবং সে দেশে শরিয়তি আইনের প্রবর্তন দাবি করছে, সেই হেতু লেখক মনে করছেন, বাংলাদেশের নিজের স্বার্থেই সে দেশে তালিবান রাজ কায়েম হওয়া বন্ধ করা দরকার। বাংলাদেশ এবং তার সীমান্ত অঞ্চলে তালিবানদের বাড়বাড়ন্ত শুধু ভারত নয়, মায়ানমার, নেপাল এবং ভুটানের সুরক্ষার উপরেও আঘাত আনবে। এ ছাড়াও এই শক্তি দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে ইসলামি জিহাদিদের সহায়তা জোগাতে পারে বলে তিনি মনে করেন। 
 
শ্রী রায়চৌধুরি তাঁর বইতে উল্লেখ করেছেন, কীভাবে চরমপন্থী ইসলামি শক্তিগুলি বহুদিন থেকেই বিদেশী সংগঠনগুলির সঙ্গে তাদের কার্যকলাপ চালানর ব্যাপারে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে এবং কেন তারা মালয়েশিয়া, সিংগাপুর, ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিন ফিলিপিনসকে নিয়ে একটি  ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। "বাংলাদেশে মৌলবাদের উত্থানের পিছনে বিভিন্ন এন জি ও-র একটি বিরাট ভূমিকা আছে। সারভেন্টস অফ সাফারিং হিউম্যানিটি ইন্টারন্যাশনাল, ডাকা নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে লাদেন বাংলাদেশের এই ধরণের কিছু সংগঠনকে অর্থ সরবরাহ করেছিলেন," বইটিতে জানান হয়েছে।
 
খালেদা জিয়ার শাসনকালে পাওয়া গোয়েন্দা রিপোর্টের উল্লেখ করে বইটিতে বলা হয়েছে বাংলাদেশ থেকে ভারতে  অনুপ্রবেশকারীদের মধ্য থেকে অনেককেই আই এস আই তাদের লোক হিসেবে নিয়োগ করেছিল। "আসাম, বিহারের কিছু অংশ, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটে এইসমস্ত মানুষ বহুলাংশে উপস্থিত। এছাড়াও অস্ত্র, বিস্ফোরক, নিষিদ্ধ ড্রাগ এবং জাল নোটের চোরাচালানের পথ হিসেবে বাংলাদেশ-সীমান্ত কুখ্যাতি অর্জন করেছে। শুধুমাত্র  ভারতে সন্ত্রাস সৃষ্টির জন্যই নয়,  সীমান্ত দিয়ে পাচার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতেও যায়।"
 
বইয়ের উপসংহার অংশে লেখক বলছেন, বাংলাদেশের ইতিহাস \'ধর্ম-ভিত্তিক জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের জয়ের ইতিহাস\' এবং এখনও সেখানে মুসলমান এবং হিন্দু, উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ বাঙ্গালি সংস্কৃতিকেই অনুসরণ করে চলেন। "এই ব্যাপারটি এখনও পর্যন্ত ক্রমবর্ধমান চরমপন্থার বিরুদ্ধে বাধা হিসেবে কাজ করছে।"
 
"অসামরিক এবং সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই ভারতের নীতি নির্ধারণ  ্যন্ত্র অসুবিধাজনক অবস্থায় আছে। কাশ্মীর-কার্গিলই হোক, অথবা চিন, ঘটনার গতি, অথবা কি ঘটতে যাচ্ছে আমরা আগে থেকে বুঝে উঠতে পারছিনা। ইসলামি মৌলবাদের বিপদের মূল এখন আর শুধুমাত্র পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তানের মাটিতে সীমাবদ্ধ নেই, বাংলাদেশের ঘাঁটি থেকেও সেই বিপদ এখন ছড়িয়ে পড়তে চাইছে। ব্যাপারটি স্পষ্ট হয় অসমে ইসলামি মৌলবাদী সংগঠনগুলির ছড়িয়ে পড়া থেকে," লেখক বলেছেন।
 
তিনি সতর্কবাণী শুনিয়েছেন এই বলে, " চরমপন্থী ইসলামি আন্দোলনের প্রসারের পক্ষে যেখানে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনুকূল, সেখানে এই ব্যাপারে সরকারের গা-ছাড়া মনোভাব কিন্তু সেই দেশকে অন্যান্য দেশ থেকে তাড়া খাওয়া সন্ত্রাসবাদীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল বানিয়ে তুলতে পারে।"



Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics