Column
সীমান্ত পেরিয়ে উষ্ণতর হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

Bangladesh Live News | @banglalivenews | 12 Oct 2018

Cross Border Ties Warming
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নজির বিহীন উন্নতি হয়েছে।

 ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর  বাংলাদেশে সফরের পর থেকে  দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে যে উন্নতিগুলি হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা স্থল এবং জলসীমানা সমস্যার মীমাংসা। এর মধ্যে ছিটমহল,  হাই-টেক ক্ষেত্র সহ ৯০ টি বিষয়ে, যেমন, মহাকাশ, আই টি, ইলেকট্রনিক্স, সাইবার সিকিউরিটি, এবং অসামরিক পারমানবিক শক্তি নিয়েও চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। এ ছাড়া, এই সময়ের মধ্যে দ্বি্পাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে  বেড়ে হয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার, এর অর্থ, ২৮.৫ শতাংশের বৃদ্ধি।

 

ভারত সে দেশের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যসামগ্রীকে শুল্কমুক্ত করেছে। গত বছরে ভারতে বাংলাদেশের রেডিমেড পোশাক রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে ১১৫ শতাংশ (১৩০ মিলিয়ন ডলার থেকে ২৮০ মিলিয়ন ডলার) এবং বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগ তিন বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে দশ মিলিয়ন ডলার।

 

এই সময়ের মধ্যে দু দেশের প্রধানমন্ত্রী সহযগিতা-ভিত্তিক বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প চালু করেছেন। এগুলির মধ্যে আছে ভৈরব এবং তিতাস সেতু নির্মাণ, ৬৬০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ, আট মিলিয়ন ডলার ভারতীয় ঋণে আখাউড়া-আগরতলা রেল লাইন নির্মাণের কাজ, প্রভৃতি।

 

আখাউড়া-আগরতলা রেল প্রকল্পটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতিকে জোরদার করে তুলবে।  এই নতুন রেল লাইন করার ফলে আগরতলা এবং কলকাতার মধ্যে ১৬৫০ কিমি দূরত্ব কমে দাঁড়াবে মাত্র ৫৫০ কিমতে। ১৫ কিমি-র এই রেল প্রকল্পের সম্পূর্ন খরচ বহন করবে ভারত। এই ১৫ কিমি-র মধ্যে পাঁচ কিমি পড়ছে ভারতে এবং বাকি দশ কিমি বাংলাদেশে। ভারত সরকার পরিচালিত ইরকন সীমান্তের দুদিক জুড়ে এই রেল লাইন পাতার কাজ করবে।  এই প্রকল্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'অ্যাক্ট ইস্ট' নীতির প্রসার ঘটাবে।একই ভাবে ১৩২০  মেগাওয়াটের রামপাল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ, ২০১৫ সালে থেকে ভারতে ৪০০০ বাংলাদেশি অফিসারের প্রশিক্ষণ,  ভারতে ১৫০০ বাংলাদেশি জুডিশিয়াল অফিসারের প্রশিক্ষণ এবং ২০১৫ সালে পাঁচ লক্ষ থেকে ২০১৭ তে ১৪ লক্ষ, অর্থাৎ প্রায় তিনগুণ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা মঞ্জুরের কথাও বলতে হয়।

 

ভারত ও বাংলাদেশ যৌথভাবে বাংলাদেশে বেশ কিছু পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করছে। সেপ্টেম্বরের দশ তারিখে বাংলাদেশ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে খুলনা-শাহবাজপুর রেল লাইনের পুনর্নিমাণ কাজের উদ্বোধন করেন। এই রেললাইন  সারিয়ে তুললে বাংলাদেশ থেকে আসামের করিমগঞ্জ জেলা এবং অন্যান্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ তৈরি হবে।

 

সেপ্টেম্বরের ১৮ তারিখে দুই প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি এবং দিনাজপুরের পার্বতিপুরের মধ্যে ১৩০ কিমি দীর্ঘ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন এবং বাংলাদেশে রেলওয়ের ঢাকা-টংগী ও টংগী-জয়দেবপুর সেকশনে তৃতীয় এবং চতুর্থ ডুয়াল গজ রেল লাইনের উদ্বোধন করেছেন।

 

এই ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের ১২৫ কিমি পড়ছে বাংলাদেশে এবং পাঁচ কিমি ভারতে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে ১০,০০,০০০ টন জ্বালানী সরবরাহ করা যাবে। এই অয়েল পাইপলাইন দিয়ে বাংলাদেশে প্রথম বছরে ২৫০,০০০ টন  এবং তারপর থেকে প্রতি বছর ৪০০,০০০ টন ডিজেল পাঠানো যাবে।

 

সম্প্রতি সিলেটে ইন্ডিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনের অফিস খোলা হয়েছে। এই নতুন অফিস খোলার ফলে সিলেট এবং তার সন্নিহিত অঞ্চলগুলির মানুষদের জন্য আরও দ্রুত ভিসা মঞ্জুর করা সম্ভব হবে।  সেই সংগে সিলেট এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্য এবং পর্যটন এবং দু'দিকের মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে তুলবে এই ব্যবস্থা।

 

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের স্মরণে এবং বাংলাদেশের উন্নত ভবিষ্যতের স্বার্থে মুক্তিযোদ্ধাদের অমূল্য অবদাণের সম্মানে বেশ কিছু  কল্যাণমূলক ব্যবস্থা এবং প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়েছে।

 

ভারত সরকার বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নিয়েছে, যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদী একাধিকবার যাতায়াতের জন্য 'মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা'র ব্যবস্থা করা, ভারতের সামরিক হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধায়ের জন্য বিনা খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং 'নূতন মুক্তিযোদ্ধা সনাতন স্কলারশিপ' প্রকল্প চালু করা। ভারত সরকার ২০০৬ সালে মুক্তিযোদ্ধা স্কলারশিপ প্রকল্প শুরু করেছিল, যেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী  ২০১৭ সালে ঘোষণা করলেন নূতন প্রকল্প। এই দুটি প্রকল্প যুক্ত হয়ে গেলে ভারত সরকারের খরচ হবে ৫৬ কোটি টাকা।

 

ভারত সরকার থেকে নূতন স্কলারশিপ দেওয়া হয় হায়ার সেকেন্ডারি এবং আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্তরে পড়াশোনা করা মুক্তিযোদ্ধাদের বংশধরদের জন্য, তাদের শিক্ষা সম্পূর্ন করার প্রয়োজনে। এই স্কলারশিপের জন্য সরাসরিভাবে উপকৃত হয় ২১,০০০ ছাত্রছাত্রী। স্বাধীনতা সংগ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা চরম কষ্ট স্বীকার করেছিলেন এবং তাদের সেই আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে ভারত সরকার অনেক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করেছে। প্রতিবছর কলকাতায় বিজয় দিবস উদযাপনে মুক্তিযোদ্ধাদের এক একটি দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

 

মুক্তিযোদ্ধা,  বাংলাদেশের বয়স্ক নাগরিক, মহিলা-এঁদের জন্য ভারত সরকার  বেশ কিছু বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা করেছে, ঢাকা-খুলনা-কলকাতা বাস  এবং খুলনা-কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেস পরিষেবা চালু হয়েছে ২০১৭ সালে এবং ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেসের যাত্রীদের জন্য দু প্রান্তেই কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের ব্যবস্থা হয়েছে। এই দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে যে পারস্পরিক সম্পর্ক, তাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী "সোনালী অধ্যায়" বলে বর্ননা করেছেন।




Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics