Sports
তহুরা মাঠে যেত বলে কত কথাই না শুনতে হয়েছে তার বাবা ফিরোজ মিয়াকে

Bangladesh Live News | @banglalivenews | 17 Oct 2018

Bangladeshi footballer's dad used to face harassment as his daughter used to play
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা, অক্টোবর ১৭ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি গণভবনে সংবর্ধনা দিয়েছেন গত মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এএফসি অনুর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলে গ্রুপ পর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়া মেয়েদের।

কিশোরী ফুটবলারদের প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি উপহার হিসেবে আরো দিয়েছেন ফুটবলারদের মায়েদের জন্য শাড়ী।

 

তহুরার বাবা ফিরোজ মিয়া মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনে বাফুফে ভবনে এসেছিলেন মেয়ের উপহার হিসেবে পাওয়া রেফ্রিজারেটর নেয়ার জন্য। সাফ অনুর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়ন হওয়া মেয়েদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি করে রেফ্রিজারেটর উপহার দিয়েছে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। তহুরা ওই দলেরও সদস্য। ময়মনসিংহের কলসিন্দুরের ৯ ফুটবলার পেয়েছেন এই রেফ্রিজারেটর। তহুরার বাবা ফিরোজ মিয়া ও নাজমার বাবা আবুল কালাম ময়মনসিংহ থেকে পিকআপ নিয়ে এসেছেন ৯ জনের রেফ্রিজারেটর নিয়ে যেতে।


যে তহুরা ফুটবল খেলে মুঠোভরে দিচ্ছেন বাবাকে, সেই তহুরা মাঠে যেতেন বলে একদিন কত কথাই না শুনতে হয়েছে তার বাবা ফিরোজ মিয়াকে। তহুরার বাবা বলেন, ‘আমি চিল্লা (তাবলিগে গিয়ে) করেছি। এলাকার অনেক হুজুর বলতেন, আপনি চিল্লা করেছেন আর মেয়ে ফুটবল খেলছে। এটা নাজায়েজ। আমি একদিন তহুরাকে বললাম, মারে ফুটবলটা তোমার জন্য ভালো হচ্ছে না। তুমি ফুটবল ছেড়ে দাও। তহুরা বলতো- তুমি হুজুরদের বিশ্বাস করো না। মানুষ তো ভালো বলছে। এভাবেই তহুরা খেলা চালিয়ে যেতে থাকে।’


তহুরার বাবা বলেন,  তিনি স্বপ্নেও কল্পনা করেননি ১০ লাখ টাকা পাবেন। প্রথমে তিনি শুনে বিশ্বাসও করেননি। তহুরা যখন ফোন করে বললো- বাবা, আমাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ লাখ টাকা দিয়েছেন, তখন তিনি আর অবিশ্বাস করেননি। তিনি বলেন- প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এই ১০ লাখ টাকা দিয়ে ২০ কাঠা জমি কিনবেন। আগেই ঠিক করা ছিল। বাড়ীর পাশে তারই এক বন্ধু জমি বিক্রি করবেন। তহুরার খুব পছন্দ ওই ফসলি জমিটা। সেই বলে রেখেছিল বাবা, এই জমিটা আমি তোমাকে কিনে দেবো একদিন।


তহুরা এখন ফিরোজ মিয়ার গর্বের সবচেয়ে বড় জায়গা। তহুরা কেবল বাবা ফিরোজ মিয়ার গর্বই নন, পুরো দেশের গর্ব। প্রতিপক্ষের ডিফেন্স চুরমার করে ম্যাচের পর ম্যাচ গোল করে যান তহুরা। এলাকার মানুষ তহুরাকে দেখলে মেসি বলে ডাকেন, ‘আমার মেয়েকে অনেকে মেসি বলেন। আমার অনেক ভালো লাগে। এখন সে যতদিন পারবে খেলবে। তহুরা এখন বাড়িতে গেলে মানুষ দেখতে আসে। আত্মীয়স্বজন ছুটে আসেন। আমার এর চেয়ে কী আর থাকতে পারে আনন্দের’-বলছিলেন তহুরার বাবা।




Video of the day
More Sports News
Recent Photos and Videos

Web Statistics