Bangladesh
নারায়ণগঞ্জে চারজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের ৪ দিন পরও পুলিশ অন্ধকারে

Bangladesh Live News | @banglalivenews | 26 Oct 2018

4 bodies recovered from Narayanganj
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা, অক্টোবর ২৬ : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মহাসড়কের পাশে চারজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বার বার পুলিশের দিকে দিকে অভিযোগের আঙুল উঠলেও তা অস্বীকার করেই দায় সারছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।

লাশ উদ্ধারের পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ জানাতে পারেনি কারা, কেন, কীভাবে ওই হত্যাকা- ঘটিয়েছে।


ওই চারজনের মধ্যে আড়াইহাজার উপজেলার পুরিন্দা পশ্চিমপাড়া এলাকা থেকে গত শুক্রবার ফারুক হোসেন, সবুজ সরদার ও জহিরুল ইসলামকে কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিল, ঢাকার মাইক্রোবাস চালক লুৎফর রহমান মোল্লা কীভাবে নিরুদ্দেশ হলেন- এসব প্রশ্নের উত্তর বৃহস্পতিবারও পুলিশের কাছ থেকে মেলেনি। সবুজ ও জহিরুলের সঙ্গে তাদের খালোতো ভাই লিটনকেও সেদিন ফারুকের বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে স্বজনরা অভিযোগ করেছেন। পুলিশ এখনও তার কোনো সন্ধান দিতে পারেনি।

অথচ ওই বাড়ির আশপাশের বাসিন্দাদের অনেকেই বলেছেন, সেদিন চারজনকে হাতকড়া পরিয়ে, চোখ বেঁধে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যেতে দেখেছেন তারা। যারা ধরে নিয়ে গেছে, তাদের গায়ে সাধারণ পোশাক থাকলেও সঙ্গে অস্ত্র ছিল। নিজেদের ডিবি পুলিশ বলে পরিচয় দিয়েছিল তারা।


আর ফারুকের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার বলেছেন, ধরে নিয়ে যাওয়ার পর শনিবার তিনি ভুলতা পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে স্বামীকে খাইয়ে আসেন। সে সময় পুলিশ তাকে বলেছিল রোববার সকালে আদালতে চালান করে দেওয়া হবে। কিন্ত তার বদলে তিনি ফারুকসহ চারজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের খবর পান। 


রোববার ভোরে আড়াইহাজারের পাঁচরুখী গ্রামে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যে জায়গায় ফারুক, সবুজ, জহিরুল ও লুৎফরের লাশ পাওয়া যায়, সেখান থেকে ফারুকের বাড়ির দূরত্ব দুই কিলোমিটারের মত। স্থানীয় বাসিন্দারা রাতে গুলির শব্দ পাওয়ার পর সকালে লাশ দেখে পুলিশে খবর দেন। সেদিন বিকালে লাশের ময়নাতদন্তের পর নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আরএমও মো. আসাদুজ্জামান বলেছিলেন, চারজনেরই মৃত্যু হয়েছে মাথার পেছনে শটগানের গুলিতে।


আর ঘটনাস্থলে এক রাউন্ড গুলিসহ দুটি পিস্তল এবং একটি মাইক্রোবাস পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়ার তথ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবদুল্লাহ আল মামুন সেদিন বলেছিলেন, ডাকাত বা সন্ত্রাসীদের ‘কোন্দলে’ ওই চারজন নিহত হয়েছেন বলে তারা ধারণা করছেন।


নিহত চারজনের মধ্যে ঢাকার লুৎফর ছাড়া বাকি তিনজনেরই বাড়ি পাবনা সদরের আতাইকুলা থানার ধর্মগ্রাম মধ্যপাড়ায়। আতাইকুলা থানার ওসি বলেছেন, তার থানায় ওই তিনজনের নামে কোনো অভিযোগ নেই। নারায়ণগঞ্জের পুলিশও নিহত চারজনের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা থাকার কথা জানাতে পারেনি। 




Video of the day
More Bangladesh News
Recent Photos and Videos

Web Statistics