Bangladesh
লালন শাহ’র বাণীই পারে আজকের সঙ্কট কাটাতে

Bangladesh Live News | @banglalivenews | 21 Mar 2019

Lalon's message can solve today's problems
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা, মার্চ ২২: প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম) বলেছেন, ‘আমি সাধুদের সঙ্গে মিশে আত্মতৃপ্তি পেয়েছি।

যেটা অন্য কোথাও হয়নি। কিছু মানুষ ধর্মের নামে নিরীহ মানুষের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়ে জাতিকে বিভক্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পৃথিবী আজ বড় সঙ্কটে যা কোনো সভ্য সমাজের কাম্য নয়। লালন সাঁইজির বাণীই পারে আজকের সঙ্কট কাটিয়ে উঠার মন্ত্র দিতে।’


বুধবার রাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় আখড়া বাড়িতে মরমী সাধক বাউল স¤্রাট ফকির লালন শাহের তিনদিনব্যাপী  স্মরণোৎসব উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাঁইজিকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।


তিনি লালনের আদর্শের অসাম্প্রদায়িক চেতনার শিক্ষায় দীক্ষা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বাউল স¤্রাট ফকির লালন সাঁই একমাত্র বাউল সাধক যিনি সব ধর্মের সীমাবদ্ধতাকে ছাড়িয়ে সদা সত্য পথে চলতে মানুষকে মানবতাবাদীর পথে ডাক দিয়েছিলেন। তিনি অহিংস মানবতার ব্রত নিয়ে মানুষের কল্যাণে অসংখ্য গান সৃষ্টি করে গেছেন। তার এই অমর সৃষ্টি সঙ্গীত কোনো ধর্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সব ধর্মের ঊর্ধ্বে থেকে সম্প্রীতির বাধনে আবদ্ধ করতে মরমী এই সাধক মানব মুক্তির জন্য সৃষ্টি করেছিলেন ফকিরী মতবাদ।


জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজুবুর রহমান লালনের আদর্শে অনুপ্রাণীত হয়ে সেদিন সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তুলতে বলেছিলেন ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। আজকের যুগে তার এই আহ্বান বাঙালি জাতির জন্য সমকালীন। তাই আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে লালনের আদর্শে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’


এবারের আয়োজনে মরমী সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইজির অমর বাণী ‘মনের গরল যাবে যখন, সুধাময় সব দেখবি তখন’ প্রতিপাদ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিণায় লালন একাডেমির আয়োজনে এ লালন স্মরণোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০ মার্চ বুধবার থেকে শুরু হয়ে অনুষ্ঠান চলবে টানা তিনদিন আজ ২২ মার্চ শুক্রবার পর্যন্ত।


সাঁইজীর জীবদ্দশায় তার ভক্ত অনুরাগী শিষ্যরা দোলপূর্ণিমায় স্মরণোৎসবের অনুষ্ঠান খুব জাঁকজমকভাবে উদযাপন করতেন।

এবারও তার কোনো ব্যতিক্রমী হয়নি। সাঁইজীর পছন্দের সাদা ধূসর রং দিয়ে রাঙানো হয়েছে মাজার।


এই মানবতার দীক্ষা নিতে আত্মার টানে দেশ-বিদেশের সাধু-গুরু ও ভক্তরা দলে দলে এসে ভিড় করেন সাঁইজির মাজারে। মূল উৎসব শুরু হওয়ার ৭-৮ দিন আগ থেকে আখড়ায় আসা বাউল সাধকরা মাজারের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে আসন গেড়ে গেয়ে চলেছেন সাঁইজির আধ্যাত্মিক মর্মবাণী ও ভেদ তথ্যের গান। জমজমাট লালন শাহের আখড়াবাড়ি। কুষ্টিয়া পরিণত হয়েছে উৎসবের শহরে।




Video of the day
More Bangladesh News
Recent Photos and Videos

Web Statistics