Bangladesh
"কালকের মধ্যে দাবী না মানলে আরো প্রবল বিক্ষোভ"

04 Dec 2013

#

ঢাকা, ডিসেম্বর ৪: বিএনপির নেতৃত্বে ১৮-পার্টি বুধবার জানায় বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাদের দাবী মানা না হলে সরকারকে আরো প্রবল বিক্ষোভের সন্মুখিন হতে হবে।

 "আমরা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের খাতিরে আরো তীব্র আন্দোলনে নামবো যদি সরকার কাল বিকেল পাঁচটার মধ্যে ঘোষণা না করে যে আগামী নির্বাচন এক নিরপেক্ষ প্রশাসনের নজরদারিতে হবে," জানান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদ।  

 
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সাজিব ওয়াজেদ জয় বলেছেন যে জনমত জরিপে বিএনপি জনসমর্থন হারিয়েছে এবং সেই সাথে হারিয়েছে নির্বাচনে জয় লাভ করার সক্ষমতা।
 
"বিএনপির নির্বাচন বর্জন করার পেছনে প্রকৃত কারণ হচ্ছে, জনমত জরিপে তারা জনসমর্থন হারিয়েছে এবং সেই সাথে হারিয়েছে নির্বাচনে জয় লাভ করার সক্ষমতা
," জয় তাঁর ফেসবুকে লেখেন।  

"অক্টোবর মাসে আমরা ডেমোক্র্যাসি ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে জনমত জরিপ পরিচালনা করাই এবং এ জরিপ দুটি পর্যায়ে প্রকাশিত হয়েছে। সরাসরি জরিপে আমরা ৪৮.৩% জনসমর্থন নিয়ে বিএনপি ৩০.৩% জনসমর্থনের চেয়ে এগিয়ে আছি। জনমত জরিপের প্রথাগত চর্চা হিসেবে জনমিতিক পরিশোধনের পর দেখা যায়, আওয়ামী লীগের জনসমর্থন ৩৯.৬%, বিএনপির জনসমর্থন ৩৪.২%।"

জয় বলেন আগস্ট পর্যন্ত উভয় পক্ষেই জনমত জরিপে খুব কাছাকাছি ছিলো। 

"বিএনপির অপপ্রচারের কারণে এবং আমাদের গণসংযোগের অভাবে এ সময়ে তারা আমাদের প্রায় ধরে ফেলেছিলো। তারা কার্যত ফাঁকা মাঠে গোল দিচ্ছিলো। আমরা আমাদের প্রচারণা শুরু করার পর তাদের মিথ্যা অপপ্রচারের উত্তর দিই এবং আমাদের সরকারের অভূতপূর্ব অর্জনগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরি। এরপর অক্টোবর মাসের মধ্যেই আমরা তাদের তুলনায় অনেক এগিয়ে যেতে থাকি," তিনি বলেন।

"গত মাসে চালানো আরেকটি জরিপের ফলাফল আমার হাতে এসেছে। এটি আরো ক্ষুদ্র নমুনা নিয়ে চালানো জরিপ, যা মাত্র ১০০০ মানুষের মাঝে। কিন্তু চূড়ান্ত ফলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের জনসমর্থন ৩৫.৫%, বিএনপির ২৮.৮%।"

"তাদের জনপ্রিয়তায় নাটকীয়ভাবে ধ্বস নেমেছে, কারণ তারা গত দুই মাস সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়েছে।"

"আমি দুই বছর আগেই অনুমান করেছিলাম যে বিএনপি জয়লাভের নিশ্চয়তা না পেলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। জনমত জরিপে নিজেদের জনপ্রিয়তা কমার আভাস পেয়েই তারা অক্টোবরে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়। সে সময় তারা তাদের সমস্ত নির্বাচনী প্রচারণা ও প্রস্তুতি বন্ধ করে দেয়। বাকি সবই ছিলো তাদের ভাঁওতাবাজি। নির্বাচনে আসার কোনো উদ্দেশ্যই তাদের নেই," জয় বলেন।

"যারা বলে, আমার মায়ের পদত্যাগ করা উচিত, তাদের প্রতি আমার প্রশ্ন, কেন? তিনি অন্যায় কিছু করেননি। আমাদের সরকারের মেয়াদে সংঘটিত ৬০০০ নির্বাচনের একটিতেও তিনি হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেননি। খালেদা জিয়া যেভাবে নিজের মেয়াদে ১ কোটি ৪০ লক্ষ ভুয়া ভোটার দিয়ে ভোটার তালিকায় কারসাজি করেছিলেন, সেরকম কিছু করার চেষ্টাও তিনি করেননি। 

"বিশাল ছাড় দিয়ে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারে সমস্ত দলের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি খালেদা জিয়াকে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। আমার মা কেন তাহলে পদত্যাগ করতে যাবেন?"

"সবচেয়ে বড় কথা, খালেদা জিয়া এবং বিএনপি সারা দেশে সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিয়েছে। কোথাও কোনো বিক্ষুব্ধ মানুষ দেখা যায়নি, কেবল বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা বাসে আর ট্যাক্সিতে জীবন্ত মানুষের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, রেললাইন উপড়ে যাত্রীবোঝাই ট্রেন লাইনচ্যুত করেছে, আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি আর গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করেছে। 

"এমনকি তারা নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়গুলোতেও হামলা করে একজন কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা অন্য কোনো দেশে এমনটি ঘটত, তাহলে তাকে কী বলা হতো? একে বলা হতো সন্ত্রাসবাদ," জয় বলেন।



Video of the day
More Bangladesh News
Recent Photos and Videos

Web Statistics