Bangladesh
গণপিটুনি : ফুটেজ দেখে দোষীদের শনাক্ত করছে পুলিশ

Bangladesh Live News | @banglalivenews | 22 Jul 2019

Bangladesh: Mob beats up woman to death in Dhaka
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা, জুলাই ২২ : রাজধানীর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমা বেগম রেনুকে পিটিয় হত্যার ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন যুবককে শনাক্ত করেছে পুলিশ। স্কুলের দোতলা থেকে করা একটি মোবাইলের ভিডিও দেখে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের নাম-পরিচয় ও বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

শনিবার (২০ জুলাই) সকালে ওই ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে তোড়জোড় শুরু করেছে পুলিশ। গণপিটুনি বন্ধে জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বার্তাও পাঠিয়েছে। তবে সারাদেশের গণপিটুনির ঘটনায় পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করেনি।


এদিকে ঘটনাস্থলে ধারণকৃত একটি মোবাইলের ফুটেজে দেখা যায়, ওই নারীকে প্রধান শিক্ষকের রুম থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করার পর মুহূর্তেই লোক জড়ো হয়ে তাকে ঘিরে ফেলে। তবে স্থানীয় চার-পাঁচ যুবক তাকে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছিল ও এলোপাতাড়ি লাথি মারছিল। ভিডিওর ৩-৪ মিনিটের মধ্যেই সে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়।


স্কুলের অভিভাবকরা জানান, অনেকে ভিড় করলেও স্থানীয় তিন-চার যুবকই মূলত তাকে মারধর করে। বাকিরা পেছন থেকে ‘মার, মার’ চিৎকার করছিল। এ ঘটনায় শনিবার রাতে বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় অজ্ঞাত ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।


এ বিষয়ে পুলিশের বাড্ডা জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আহমেদ হুমায়ূন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা ও মোবাইলে ধারণকৃত কিছু ফুটেজ যাচাই-বাছাই করছি। অনেকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে মামলা যেহেতু হয়েছে, জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা হবেই।’


এদিকে রোববার (২১ জুলাই) নিহত রেনুর মহাখালীর বাড়িতে চলছিল শোকের মাতম। তার চার বছরের মেয়ে তাসলিম তুবা এখনো জানে না তার মা কোথায়। পরিবারের কেউ জিজ্ঞেস করলে শুধু বলে, ‘আম্মু নাই।’ রেনুর পরিবার জানায়, আড়াই বছর আগে রেনুর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে সন্তানদের নিয়ে তিনি মহাখালী ওয়ারলেসের বাসায় থাকতেন। তিনি আড়ং ও ব্র্যাকের মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। শুক্রবার রাতেও তিনি পরিবারের লোকজনকে জানান, তুবা বাসায় অনেক দুষ্টুমি করে তাই তাকে স্কুলে ভর্তি করে দেবে।


শনিবার সকালে ঢাকার উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তি করতে গিয়ে অভিভাবকদের গণপিটুনির শিকার হন মানসিক রোগে আক্রান্ত তাসলিমা বেগম রেনু। চার বছর বয়সী মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করতে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাড়ি ফিরেছেন লাশ হয়ে।




Video of the day
More Bangladesh News
Recent Photos and Videos

Web Statistics