Column
যে কোনও ভাবে ক্ষমতা দখলে মরীয়া বিএনপি

26 Jan 2015

#

গত বছরের জানুয়ারি মাসের ৫ তারিখে অনুষ্ঠিত যে সাধারন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামি লিগ উপর্যুপরি দু'বার ক্ষমতায় আসে, তার প্রথম বার্ষিকীর দিনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছে বিএনপির কর্মী বলে কথিত চার ব্যক্তি। ঐ দিন বেশ কিছু শহরেই রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ-প্রতিবাদ সংগঠিত করা হয় এবং পুলিশের উপর পাথর ছোঁড়ে বিক্ষোভকারীরা। এদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি চালায় এবং রাবার বুলেট ব্যবহার করে।

 সেই থেকে বিএনপির সমর্থনপুষ্ট লোকেরা গুন্ডামি, আগুন লাগানো, গাড়ির উপর আক্রমণ আর বোমা বিস্ফোরনের মত কাজ করেই চলেছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে আইনরক্ষকরা  ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করায়   বিএনপি এবংঁ সেই সাথে জামাত সহ তাদের  মিত্র দলগুলির অনেক শীর্ষ নেতা  এখন আত্মগোপন করে রয়েছেন।

\'দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও- এই ডাক দিয়ে খালেদা জিয়া এই প্রতিবাদ-আন্দোলনের নেতৃত্ব দিলেও প্রকৃতপক্ষে দেশ বা দেশের মানুষকে বাঁচানোর কোনও চেষ্টাই করা হয়নি।  অবরোধ শুরুর দিন থেকে একমাত্র \'সাফল্য\' যা বিএনপি অর্জন করতে পেরেছে, তা হলো, সারা দেশে এ পর্যন্ত ১৩ জন মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১৬৫ টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ছাড়াও আক্রমণের লক্ষ্য হয়েছে মন্ত্রীদের বাড়ি এবং রাজনৈতিক দলগুলির দপ্তর। দেখে শুনে মনে হচ্ছে বিএনপি এবং তাদের মিত্র দলগুলির এই তান্ডবের কোনও শেষ নেই।

এই জঙ্গি আক্রমণ আর নাশকতার বহর বেড়েই চলেছে। যে পদ্ধতিতে এরা কাজ করছে, তা হল হঠাৎ করে আক্রমণ চালিয়ে পালিয়ে যাওয়া। বিচারকদের বাড়ির উপর বোমা ছোঁড়া হচ্ছে,  আগুন লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে মানুষের বাসস্থানে, আর আক্রান্ত হয়ে নিহত হচ্ছেন সাধারন মানুষ। এর ফলে আতঙ্ক বেড়ে চলেছে সবার মনে।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যাবসা সংস্থা এফ বি সি সি আই-এর হিসাব অনুযায়ী অবরোধের ফলে প্রতি দিন দেশের ১৫০০ থেকে ২০০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে, যা রক্তক্ষরণ ঘটাচ্ছে  অর্থনীতির। সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তিনটি ক্ষেত্র- পরিবহণ, উৎপাদন এবং পর্যটন। অরবোধের কারনে দু\'লক্ষের বেশি বাস, ট্রাক, ভ্যান বসে গেছে এবং কুড়ি লক্ষ পরিবহণ কর্মী কাজ হারা হয়ে রয়েছেন বর্তমানে।

অধিকন্তু, অনির্দিষ্ট কালের এই অবরোধ সারা দেশ জুড়ে মানুষের জীবনযাত্রা  এবং যান চলাচলকে ভীষণ ভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। সাংঘাতিক অবস্থা হয়েছে রপ্তানি শিল্পের, কেননা  জাহাজ ঘাটে পণ্য নিয়ে যাবার অন্য কোনও উপায় নেই।  এই অবস্থায় ব্যবসায়িক কাজকর্ম দারুন ভাবে মার খাচ্ছে আর অন্য দিকে মারদাঙ্গার ভয়ে মানুষ ঘর ছেড়ে বের হচ্ছেননা। দেশে সব থেকে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আনে  তৈরি পোষাক রপ্তানির যে শিল্প, তা-ও ভীষন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। সমুদ্র ও স্থল বন্দর থেকে বিদেশ থেকে আমদানি করে আনা জিনিষপত্র বাজারে পৌছচ্ছেনা। আর এ সব কিছুর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষপ্ত্র অগ্নিমূল্য হয়ে মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এর আগে ২০১৩ সালের শেষ দিক দিয়ে ঘন ঘন অবরোধ আর হরতাল করে, মানুষ খুন করে জনগণের অবর্ননীয় দুরবস্থার কারন হয়েছিল বিএনপি। কিন্তু এত হিংসাত্মক ঘটনা ঘটানো সত্ত্বেও ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির সাধারণ নির্বাচন আটকাতে পারেনি তারা।  এবারও সেই একই কৌশল নিয়ে তারা মানুষের মনে ভীতি জাগিয়ে তুলেছে। এ কথা সত্যি যে সরকার রাজনৈতিক পরিসর না দেওয়ায় বিএনপির পিঠ এখন দেওয়ালে ঠেকে গেছে, কিন্ত যে পরিমান হিংসার তান্ডব দেখা যাচ্ছে তার সমর্থনে কিছুই বলার থাকতে পারেনা।

২০১৪ সালে নির্বাচনে জিতে উপর্যুপরি দ্বিতীয় বারের জন্য দেশের ক্ষমতায় এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গড়াপেটা ফল হবে, এই অভিযোগ তুলে ৫ই জানুয়ারির এই নির্বাচন বয়কট করেছিল খালেদা জিয়ার বিএনপি । সেই থেকে একটি \'নিরপেক্ষ\' তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচন ডাকতে হবে, এই দাবি তুলে আন্দোলন করা বিএনপি-নেতৃত্বাধীন বিরোধীরা নবনির্বাচিত সরকারকে \'অবৈধ\' আখ্যা দিয়েছে। তবে ২০১৯ সালের নির্দিষ্ট সময়েই পরবর্তী নির্বাচন হবে, তার আগে নয়- এই সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে সরকার।

২০১৪ সালে ফের ক্ষমতায় আসার পর থেকে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়ে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ টেনে এনেছে শেখ হাসিনা সরকার, যার একটি উদাহরন হল পদ্মা সেতু নির্মাণে বিনিয়োগ। এ ছারাও ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের সুনির্দিষ্ট ভাবে চিহ্নিত করে তাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। বিরোধী বিএনপি এবং তাদের মিত্র শক্তিগুলির অরাজকতা সৃষ্টিকারী তান্ডবের মধ্যেও শক্ত হাতে হাল ধরে থেকে দেশে শান্তি ফিরিয়ে এনেছেন হাসিনা। দেশের মানুষ সন্তুষ্ট হয়েছেন, যখন জামাত-নেতা আবদুল কাদের মোল্লা, মোতিউর রহমান নিজামি, মুজাহিদ, কামরুজ্জামান এবং মির কাশিম আলির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। যুদ্ধাপরাধের জন্য দন্ডাদেশ হয়েছে দু\'জন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধেও।

সুতরাং শেখ হাসিনা এবং তাঁর সরকারের নীতি-কার্যক্রমকে সমর্থন করার কারন আছে। সাম্প্রদায়িক শক্তির মোকাবিলায় তাঁর দৃঢ়   অবস্থান, দেশে পরিকাঠামো নির্মাণে তাঁর মনোযোগ, কৃষি, শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়নে এবং দেশের ক্রমান্বয় অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে সাফল্যের জন্যই তাঁর সরকার জনসমর্থন পাচ্ছে।  পে কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার মধ্য দিয়ে বেতন এবং ভাতা বৃদ্ধি হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০১৪ সাল খুব ভালো ভাবে শেষ হল  বলা যায়। আর সরকার যেন এই সব মহা সাফল্য উদযাপন করল দেশ জুড়ে স্কুলের পড়ুয়াদের মধ্যে বিনামূল্যে ৩২ কোটি পাঠ্যবই বিতরণ করে।

 বিশ্বজোড়া মন্দার মধ্যেও দেশের আর্থিক বৃদ্ধি সুনিশ্চিত করা, \'মিলেনিয়াম ডেভলপমেন্ট\'-এর লক্ষ্যে পৌছনো, দারিদ্র কমানো এবং কঠোর হাতে জঙ্গি কার্যকলাপ দমন করায় যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা শেখ হাসিনা নিয়েছেন, তার জন্য পৃথবীর বৃহৎ রাষ্ট্রগুলির নেতারা সবাই তাঁর প্রশংসা করেছেন।  বাংলাদেশের অগ্রগতির পিছনে তাঁর প্রশংসনীয় প্রচেষ্টার স্বীকৃতিতে রাষ্ট্রসঙ্ঘ সহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংগঠন অত্যন্ত সন্মানের পুরষ্কার দিয়েছে শেখ হাসিনাকে। একই সঙ্গে কোরান সম্পর্কে অবমাননাসূচক মন্তব্য করার জন্য নিজের দলের বর্ষীয়ান নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছে তাঁকে।

দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও আর্থ-সামাজিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করা, যুদ্ধাপরাধ বিচারের ব্যবস্থা করা এবং দেশে হিংসা কমানোয় তাঁর ভূমিকার জন্য দেশে এবং বিদেশে হাসিনার গ্রহনযোগ্যতা এখন  ঊর্দ্ধমুখী।  আর এই সব কারনেই ভয়ানক ঘাবড়ে  যাওয়া বিএনপি যে কোনও উপায়ে আওয়ামি লিগ সরকারকে ফেলে দিয়ে ক্ষমতা দখল করার মরীয়া চেষ্টায় মেতে উঠেছে।

হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার মধ্যে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠল, যখন দ্বিতীয় দফার জন্য আওয়ামি লিগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর হাসিনা বিজয় সমাবেশের আয়োজন করলেন, আর তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়া ডাক দিলেন সরকার বিরোধী প্রতিবাদ আন্দোলনের। তাঁর প্রতিপক্ষ নেত্রীকে হাসিনা হিংসা ত্যাগ করে নিজের ছত্রভঙ্গ দলকে পুনর্গঠিত করার আহ্বান জানালেন। নাশকতা, হিংসা আর নরহত্যা থেকে দলীয় কর্মীদের বিরত করার জন্যেও খালেদা জিয়ার কাছে আবেদন রাখেন তিনি।

\'অসাংবিধানিক সংসদ\' এবং \'অবৈধ সরকার\'-এর যে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি, বাস্তবিকপক্ষে দেশের মানুষ তাতে কান দিচ্ছেননা। তাঁরা সবাই জানেন যে, বাংলাদেশ সংসদের স্পিকার শিরিন শর্মিন চৌধুরি এবং আওয়ামি লিগের এম পি সাবের হোসেন চৌধুরি গত অক্টোবরে যথাক্রমে কমনোওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন এবং ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। খ্যাতিসম্পন্ন দু\'টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সর্বোচ্চ পদে তাঁদের নির্বাচন দেশ তথা হাসিনা সরকারকে বিশ্ব প্রাঙ্গনে দৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

 
দেশের সামাজিক-আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্য কোনও রকমের অর্থনৈতিক কর্মসূচী অথবা দিশা বিএনপি আজ পর্যন্ত উপস্থিত করতে পারেনি। তাদের একমাত্র লক্ষ্য কী ভাবে অস্থিরতা  সৃষ্টি করে সরকারের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করা যায়, তার উপর। গণতন্ত্রের ব্যাপারে এরা খুবই সরব, কিন্তু কী ভাবে এরা  গণতন্ত্রের পতাকা ঊর্দ্ধে তুলে ধরছে, সবাই তা জানেন। 
 
তাঁর বক্তৃতায় খালেদা জিয়া প্রায়শই বাংলাদেশের বর্তমান সংসদকে \'অসাংবিধানিক\' এবং সরকারকে \'অবৈধ\' বলে থাকেন। অন্য দিকে, তাঁর পালিয়ে থাকা পুত্র তারিক রহমান ১৬ই ডিসেম্বর লন্ডনে বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে একটি বৈঠকে বঙ্গবন্ধুকে \'পাকবন্ধু\' এবং রাজাকার বলে অভিহিত করেছেন। 
 
তাঁর সাম্প্রতিক বক্তৃতাগুলিতে খালেদা জিয়া যা বলেননি, তা হল কী ভাবে এবং কেন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীরা তাঁর শাসনকালে বাংলাদেশকে তাদের  একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিনত করতে পেরেছিল, কী ভাবেই বা পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি বাংলাদেশে পৃষ্ঠপোষকতা এবং আশ্রয় পেয়ে এ দেশের মাটিকে ব্যবহার করে বেপরোয়া ভাবে অন্য দেশে নাশকতামূলক কাজ চালিয়ে যেতে পারল। তিনি এ কথাও জানাননি কেন তাঁর সরকার প্রাকৃতিক সম্পদের অনুসন্ধান ও তার সঠিক ব্যবহার করেনি অথবা দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিকা মেটাতে কেনই বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলেনি। নিজের ব্যর্থতার দিকগুলি খালেদার স্বীকার করে নেওয়া উচিৎ ছিল, কেন না সেই কারনেই আজ দেশ বিদ্যুৎ, জল এবং গ্যাসের সঙ্কটে ভুগছে।  খালেদা এ কথাও বলেননি কেন এ এস এম এস কিব্রিয়া, আহসানুলাআ মাস্টার, আইভি রহমান এবং বেশ কিছু সাংবাদিকের হত্যাকারী সন্ত্রাস্তবাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি তাঁর সরকার, কেন ২০০৪ সালের ২১শে অগাস্ট শেখ হাসিনা এবং আওয়ামি লিগের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের হত্যা করার উদ্দেশ্য নিয়ে আক্রমণ চালানো সন্ত্রাসবাদীদের খুঁজে বের করা যায়নি, কেনই বা  এত বছর ধরে আলোড়ন তোলা চট্টগ্রাম অস্ত্র পাচারের কেসটি ঠান্ডা ঘরে ফেলে রাখা হয়েছিল ? দেশের মানুষ কিন্তু এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর চান। 
 
খালেদা জিয়া যে বিভিন্ন ব্যাপারে আওয়ামি লিগ সরকারকে অভিযুক্ত করছেন, তার উদ্দেশ্য কিন্তু তাঁর দীর্ঘ দিনের মিত্র- ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে বাধার প্রাচীর গড়ে তোলা। বহু দিনে ধরেই কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী এবং পাক সহযোগীদের সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ী তিনি। এদের সঙ্গেই আগে ক্ষমতা ভাগাভাগি করেছেন তিনি। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় বাংলাদেশের জনক শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী অথবা ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের যে কোনও প্রচেষ্টা যাতে ব্যর্থ হয় তার জন্য সব রকমের চেষ্টা করেছেন তিনি। কিন্তু এখন আর তিনি দেশদ্রোহী, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিগুলিকে প্রকাশ্যে সমর্থন করতে সাহস করছেননা। কারন, তিনি জানেন এর ফলে দেশের মানুষ তাঁর প্রতি বিরূপ হবেন, কারন তাঁরা  যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতা বিরোধী, পাক সহযোগীদের শাস্তি চান। দেশের মানুষ অদূরদর্শী নন, তাঁদের দৃষ্টিশক্তি আচ্ছন্নও হয়ে যায়নি। খালেদা জিয়ার বোঝা দরকার যে, খুব দ্রুত তাঁর পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। নিজের অবস্থানের পুনর্মূল্যায়ন করে তাঁর উচিৎ পুত্র তারিক রহমানকে   গুজব, বিদ্বেষ ছড়ানো  বন্ধ করতে বলা, না হলে এ সমস্ত কিছুই কিন্তু অচিরে তাঁর বিরুদ্ধে বুমেরাং হয়ে দেখা দেবে।
 
যারা শুধুমাত্র স্বাধীনতা বিরোধী নয়, ধর্মের নামে বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মে লিপ্ত ছিল এবং এখনও আছে, তাদের সঙ্গে বিএনপির দীর্ঘ দিনের সম্পর্কের কথা মানুষ ভুলে যান নি। যত দিন না বিএনপি দেশের উন্নয়নের  অপেক্ষাকৃত ভালো পরিকল্পনার দিশা দিচ্ছে এবং যতক্ষন না পর্যন্ত তারা পাক-পন্থী স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করছে, ততদিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য তাদের কুম্ভীরাশ্রুতে মানুষ ভুলবেন না। বিএনপি-র অতীত কোনও দিনই পরিচ্ছন্ন নয়। স্বাধীনতা বিরোধী পাক-পন্থীদের সঙ্গে তাদের মাখামাখির ফলেই চরমনপন্থী ধর্মীয় শক্তিগুলি বেড়ে উঠে দেশে অস্থিরতা এবং সাম্প্রদায়িক বিরোধ তৈরি করতে পেরেছে। 
 
মানুষ আজ জানতে চান, বিএনপি ক্ষমতায় ফিরলে তাঁদের কী লাভ হবে ?  যাতে আরও অনেক বাংলা ভাই, আবদুর রাহমান এবং মুফতি হান্নান তৈরি করা যায়- এই জন্যই কি বিএনপি কে ক্ষমতায় আনতে হবে ? যাতে করে ২১শে অগাস্টের মত আরও গ্রেনেড আক্রমণ হয় অথবা যাতে যুদ্ধাপরাধীদের জেল থেকে সসম্মানে মুক্তি দিয়ে তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা যায়, তার জন্যই কি ক্ষমতায় আনতে হবে তাদের ?



Video of the day
Recent Photos and Videos

Web Statistics