Column
তৃতীয় সীমান্ত হাট খুলল ভারত-বাংলাদেশ

26 Jan 2015

#

২০১৫ সালের ১৩ই জানুয়ারি ভারত ও বাংলাদেশ ত্রিপুরা সীমান্তের শ্রীনগরে 'পূর্বা' নামে তৃতীয় সীমান্ত হাটটির (সাপ্তাহিক) উদ্বোধন করা হয়েছে। এই 'হাট' স্থাপনের উদ্দেশ্য দু'দেশের মধ্য সীমান্ত বাণিজ্যের সুযোগ করে দিয়ে তার প্রসার ঘটানো।

 বাংলাদেশের সঙ্গে  ৮৬৫ কিমি সীমান্ত থাকা ত্রিপুরার ক্ষেত্রে এটি এই ধরণের প্রথম হাট।  আরও একটি হাট করার কাজ শুরু হয়েছে পশ্চিম ত্রিপুরার কমলাসাগরে। সেই কাজ শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে।   


ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের উপস্থিতিতে  সীমান্ত হাটটির উদ্বোধন করেন ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশনার পঙ্কজ সারন এবং দু\'দেশের উচ্চপদস্থ আধিকারকরাও উপস্থিত ছিলেন এই উপলক্ষ্যে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সীতারামন বলেন বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে ভারত অত্যন্ত আগ্রহী। "বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক এবং সমস্ত দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রে এবং সেই সঙ্গে  দু\'দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে চায় ভারত," তিনি বলেন। " উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিন এশিয় দেশগুলির নিবিড় যোগাযোগ ঘটিয়ে তাদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী লুক ইস্ট নীতিকে অ্যাক্ট ইস্ট নীতিতে পরিণত করার কথা ঘোষণা করেছেন।" সীতারামন আরও বলেন, এই হাট করার ফলে দু\'দেশেরশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বাস করা মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে।

 বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, " ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বের প্রতীক এই হাট। এখানে বিক্রি করতে আনা জিনিষপত্রের উপর কোনও শুল্ক বসানো হবেনা। ব্যাপারীরা বাংলাদেশ এবং ভারত-উভয় দেশের টাকা  ব্যবহার করার পাশাপাশি বিনিময় প্রথাতেও কেনা-বেচা করতে পারবেন।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই হাট সীমান্তের দু\'ধারে থাকা মানুষদের কাছে পণ্যসামগ্রী কেনাবেচার একটি বাজার হয়ে উঠবে এবং দু\'দেশের মধ্যে বাণিজ্যের বহর ক্রমেই বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করবে।

সীমান্তের দু\'দিকের পাঁচ কিমি অঞ্চল জুড়ে বাস করা মানুষের প্রয়োজন মেটাবে এই হাট। এখানে কেনাবেচার জন্য স্থানীয়ভাবে উৎপন্ন এমন ১৬টি পণ্য সামগ্রীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ গুলির মধ্যে আছে কৃষি এবং উদ্যানজাত ফসল, মশলা, হাঁস-মুরগী এবং দুগ্ধজাত সামগ্রী, কুটিরশিল্পজাত সামগ্রী, আসবাব,হস্তশিল্প এবং হস্তচালিত তাঁতে তৈরি জিনিষপত্র।

এই হাট শুধু যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়াবে তা-ই নয়, দু\'দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগকে আরও দৃঢ় করবে।

সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য করার উপযোগী পরিকাঠামো কতটা আছে, তা দেখতে ২০১২ সালে ভারত ও বাংলাদেশের আধিকারিকরা  একটি যৌথ সমীক্ষা করে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য জোরদার করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পরিকাঠামো পরীক্ষা করার পর তা কী ভাবে আরও উন্নত এবং বিস্তৃত করা যায়, সে ব্যপারেও প্রস্তাব দিয়েছিলেন তাঁরা। তাঁদের  সেই প্রস্তাবগুলির মধ্যেই সীমান্ত অঞ্চলের রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন এবং একটি সীমান্ত হাট তৈরির কথা বলা হয়েছিল।

  ত্রিপুরার শিল্প এবং বাণিজ্য দপ্তরের ডিরক্টর এবং স্পেশাল সেক্রেটারি পি এল আগরওয়াল জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নতুন দিল্লি সফরের সময়েই (জানুয়ারি ১০-১৩, ২০১০) সীমান্ত-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো এবং দু\'দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়িয়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী দু\'দেশের মধ্যে একটি মেমোর‍্যান্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং (মৌ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে সীমান্ত হাট স্থাপন করা হয়। 

এর আগে ২০১২ সালে মেঘালয়-বাংলাদেশ সীমান্তের কালাইচর (ভারত)-বালিয়ামারি (বাংলাদেশ) এবং দালোরা(বাংলাদেশ)-বালাত (ভারত) অঞ্চলে দু\'টি সীমান্ত হাট তৈরি করা হয়।

 এই ধরণের আরও সীমান্ত হাট গড়ে তুলতে ত্রিপুরা এবং বাংলাদেশ আগ্রহী।

বস্তুতপক্ষে, বাংলাদেশের সীমান্ত বরাবর ৭০টি সীমান্ত হাট গড়ে তুলতে চায় ভারত। প্রস্তাবমত এর মধ্যে ৩৫টি হবে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশের সীমান্ত অঞ্চলে, ২২টি মেঘালয় সীমান্তে, ৫টি ত্রিপুরা সীমান্তে এবং মিজোরাম ও আসাম সীমান্তে ৪টি করে।



Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics