Column
সীমান্ত অপরাধ রুখতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি

11 Mar 2015

#

এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ৩ তারিখে আগরতলায় দু'দিনের ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট তথা কালেক্টর পর্যায়ে দু'দিনের ভারত-বাংলাদেশ যৌথ সীমান্ত সম্মেলন শেষ হল।

 এই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের অফিসারেরা এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিল ডেপুটি কমিশনার তথা ম্যাজিস্ট্রেটদের একটি প্রতিনিধি দল।  আলোচনার শেষে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন করার উদ্দেশ্যে তথ্য বিনিময়ের জন্য একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয় দু\'পক্ষ থেকে। 


দু\'দেশের অফিসারদের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, চোরা চালান, সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র পাচার, জঙ্গি আন্দোলন, মাদক চালান, মানুষ পাচার এবং গৃহপালিত পশু চালানের মত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় সন্তোষ প্রকাশ করে দু\'দেশের তরফ থেকেই বলা হয়েছে যে, এর ফলে তৃণমূল স্তরে বিভিন্ন মতান্তরের ব্যাপারগুলি মিটিয়ে নেওয়া যেমন সম্ভব হবে, তেমনি নতুন দিল্লি এবং ঢাকার মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের জায়গাও তৈরি করবে। 


বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ২৫ জনের প্রতিনিধি দলে ছিলেন চারটি সীমান্ত জেলা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভি বাজার, রাঙ্গামাটি এবং হাবিগঞ্জের ডিস্ট্রিক্ট কমিশনার তথা ম্যাজিস্ট্রেট, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের অফিসার এবং পদস্থ পুলিশ অফিসারেরা। ভারতের দিক থেকে ত্রিপুরার ছ\'টি জেলা- পশ্চিম ত্রিপুরা, উনকোটি, উত্তর ত্রিপুরা, খোওয়াই, ধলাই এবং সিপাহিজলার ডেপুটি কমিশনার তথা ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার এবং বিএসএফ-এর কমান্ডান্টরা। বাংলাদেশের ঐ চারটি জেলা এবং ত্রিপুরার সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয় সম্মেলনের শেষ দিনে। ত্রিপুরার তিন দিক দিয়েই রয়েছে বাংলাদেশ এবং সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৮৭৫ কিমি, সুতরাং সীমান্ত সংক্রান্ত সমসায় এখানে খুবই সাধারণ ব্যাপার। 


নিয়মিত ভাবে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ব্যাপারে দু\'পক্ষের অফিসারেরাই রাজি হন, কারণ এর ফলে পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে এবং সমন্বয় সাধনের সুবিধা হবে। "এই দু\'দিনে আমরা এক সঙ্গে যে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি নিশ্চিত সেগুলি রূপায়িত হবে। আশা করছি, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারব আমরা," পশ্চিম ত্রিপুরা ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট এবং কলেক্টর অভিষেক সিং বলেছেন।  তিনি আরও বলেছেন, "উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশির ভাগ রাজ্যেরই বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত আছে। অনেক বছর ধরেই আমরা লক্ষ্য করেছি, সীমান্তবর্তী জেলাগুলি যে সব সমস্যার মুখোমুখি হয়, সেগুলি খুব বড় নয় এবং স্থানীয় ভাবে হস্তক্ষেপ করেই সেগুলি মেটানো যায়। সেই মত ঠিক হয়েছে যে, এই সব ছোটো সমস্যাগুলির সমাধানের জন্য দু\'দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলির ম্যাজিস্ট্রেট এবং কলেক্টর স্তরে প্রতি ছ\'মাস বাদে বৈঠক হবে।"


রাঙ্গামাটি জেলার ম্যাজিস্ট্রেট মহম্মদ শামসুল আরেফিন বলেছেন, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর অনুরোধে বাংলাদেশের বিজিবি তাঁর জেলায় আরও বর্ডার পোস্ট তৈরি করছে। "যে সব সমস্যা আমাদের ভোগাচ্ছে, সেগুলির সমাধান খুঁজে বের করতে এবং ভারতে সঙ্গে উন্নততর সম্পর্ক গড়ে তুলতেই আমরা এখানে এসেছি। আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা যাবে। আমরা আমাদের মধ্যে ফোন নম্বর, ই-মেল অ্যাড্রেস বিনিময় করেছি এবং সময় নষ্ট না করে যাতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া  যায়, তার জন্য তথ্য বিনিময় করব। এর আগে যে পদ্ধতিতে চলা হত, তা যথেষ্ট সময় নিত, কিন্তু এখন ডিএম, ডিসি, বিজিবি, বিএসএফ এবং পুলিশের মধ্যে দ্রুত তথ্য বিনিময় করে অপরাধ দমনে অনেক তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। আমরা আরও বর্ডার পোস্ট তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বেশি করে রাখা যায়।"


"আমরা এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেগুলি আমাদের স্তরেই রূপায়ন করতে হবে এবং উচ্চতর কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। ভারত সরকারকে আমি কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জানাচ্ছি," হাসান বলেছেন।

 

এই বৈঠকের আগে জানুয়ারি মাসের ৯ এবং ১০ তারিখে ত্রিপুরার চারটি জেলা-সিপাহিজলা, গোমতি, ধলাই এবং দক্ষিন ত্রিপুরার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট এবং অন্যান্য অফিসারেরা কুমিল্লা, ফেনি, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছাড়ি এবং চট্টগ্রাম- বাংলাদেশের পাঁচটি জেলার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে আগরতলায় বৈঠক করেছিলেন। আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, উভয় দেশের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর জল বন্টন, আরও সীমান্ত হাট তৈরি, সীমান্তে বেড়া দেওয়া এবং দু\'দেশের কর্তৃপক্ষের মধ্যে উন্নততর সমন্বয়-প্রভৃতি বিষয় নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেছিলেন।


সীমান্ত দিয়ে জঙ্গিদের পারাপার, অস্ত্র চালান বন্ধ করতে এবং বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ রুখতে ভারত পশ্চিমবঙ্গ (২,২১৬ কিমি), ত্রিপুরা (৮৫৬ কিমি), আসাম (২৬৩ কিমি), মেঘালয় (৪৪৩ কিমি) এবং মিজোরামের (৩১৮ কিমি) সঙ্গে থাকা মোট ৪,০৯৬ কিমি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর কাঁটাতারের বেড়া তুলছে।


অগম্য পাহাড়ি এলাকা, ঘন জঙ্গল এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতার ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি এবং বাংলাদেশের মধ্যে থাকা সীমান্ত বহু জায়গায়তেই অরক্ষিত, যার ফলে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীরা সহজেই সীমান্ত পারাপার করতে পারে। 


 সীমান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য  আগামী দিনে আসাম এবং মেঘালয়েওদু\'দেশের মধ্যে একই ধরণের বৈঠক হবে।




Video of the day
Recent Photos and Videos

Web Statistics