Column
চট্টগ্রাম বন্দরে উদ্ধার ভূয়ো ভারতীয় নোট

30 Sep 2015

#

চট্টগ্রাম বন্দরে একটি জাহাজের কন্টেনারের ভিতর থেকে মিলল বিপুল পরিমাণ জাল ভারতীয় নোট। ইউ এ ই-র ফুজাইরা বন্দর থেকে একটি জাহাজে করে কন্টেনারটি চট্টগ্রামে পৌঁছেছিল ২০শে সেপ্টেম্বর। এর ভিতরে থাকা চারটি বাক্সে ঠাসা ছিল বান্ডিল বান্ডিল জাল ভারতীয় নোট। আমদানীকারীদের দাবী ছিল, কন্টেনারে 'হোম অ্যাপ্লায়েন্স' রয়েছে।

সে সব দিন এখন আর নেই, যখন জাল ভারতীয় নোটের চালান পাকিস্তান থেকে সরাসরি ভাবেই আসত। আন্তর্জাতিক স্তরে হৈ চৈ হওয়ার ফলে পাকিস্তান থেকে ভারত অবধি যে পথ দিয়ে জাল নোট চালান করা হত, তা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এই কাজের নতুন ঠিকানা হয়ে ওঠে বাংলাদেশ।
ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা এই জাল ভারতীয় নোট ভারতের কোথাও পাচার করার জন্য বাংলাদেশকে ট্রানজিট রুট হিসাবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। আটক হওয়া ছয় ব্যক্তির মধ্যে ছিল আসাদুল্লা নামের এক জন, যে যুদ্ধাপরাধ বিচারে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত মহম্মদ মোবারক হোসেনের ছেলে।


বহুদিন থেকেই জাল ভারতীয় নোট পাচারের জন্য বাংলাদেশকে ট্রানজিট রুট হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।  জাল নোট তৈরি করা, তাতে মদত দেওয়া এবং গোটা ব্যাপারটি নিয়ন্ত্রণ করা-সবেতেই যুক্ত পাকিস্তান। করাচি, লাহোর, পেশোয়ার এবং কোয়েটার সরকারি ছাপাখানায় নিরাপত্তা বলয়ের ভিতরে ছাপা হয় এই সব জাল নোট।


সে সব দিন এখন আর নেই, যখন জাল ভারতীয় নোটের চালান পাকিস্তান থেকে সরাসরি ভাবেই আসত। আন্তর্জাতিক স্তরে হৈ চৈ হওয়ার ফলে পাকিস্তান থেকে ভারত অবধি যে পথ দিয়ে জাল নোট চালান করা হত, তা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এই কাজের নতুন ঠিকানা হয়ে ওঠে বাংলাদেশ।


দু' হাজার ন' সালে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর অবশ্য ইসলামাবাদ-নিয়ন্ত্রিত  জাল নোট চক্র ভাঙার ব্যাপারে অনেক সহযোগিতা পেয়েছে ভারত। ভারতের অর্থনীতিকে ধ্বংস করার জন্য পাকিস্তানের গোপন পরিকল্পনা মাফিক কাজ করত এই জাল নোট চক্র।
ইসলামাবাদের আশীর্বাদে ভূয়ো নোটের এই সব চক্রগুলি তাদের কাজ কর্ম চালানোর জন্য নিত্য নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করে চলেছে।



ঢাকায় পাকিস্তানি হাই কমিশনের কনস্যুলার সেকশনের  অ্যাটাশে মহম্মদ মাজহার খানকে ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ পুলিশ সীমান্ত দিয়ে জাল ভারতীয় নোট পাচারের কাজকর্ম চালানোর অভিযোগে আটক করেছিল। কিন্তু হাই কমিশনের এক জন পদস্থ অফিসারের হস্তক্ষেপের ফলে মাজহার খান ছাড়া পেয়ে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গেই তাকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এ ব্যাপারে পাকিস্তানের বিদেশ দফতর নীরব থাকে এবং মাজহার যে বে-আইনি কাজে যুক্ত ছিল, তা অস্বীকার করে। ইসলামাবাদের আশীর্বাদে ভূয়ো নোটের এই সব চক্রগুলি তাদের কাজ কর্ম চালানোর জন্য নিত্য নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করে চলেছে।

 
গত অগাস্টে ঢাকায় জাল নোটের ব্যাপারে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ টাস্ক ফোর্সের দ্বিতীয় বৈঠকে জাল নোট পাচার রুখতে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এস ও পি) তৈরি করার কথা বলা হয়। গত কয়েক বছরে দেখা গেছে যে, ভারতে চালান হওয়া জাল নোট বাংলাদেশের ভিতর দিয়েই পাঠানো হয়। এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বাংলাদেশ এবং ভারত এস ও পি চালু করা ঠিক করেছে। সর্বোপ্পরি, এই বছরের জুন মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের সময় যে মৌ স্বাক্ষরিত হয়, তার প্রয়োগ ঘটাবে এই এস ও পি।



Video of the day
Recent Photos and Videos

Web Statistics