Column
বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিটঃ প্রভূত সাড়া ভারতের থেকে

03 Feb 2016

#

স্থানীয় এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগের চিত্র তুলে ধ্ররতে জানুয়ারি মাসের ২৪ তারিখ থেকে ঢাকায় দু'দিনের ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড পলিসি সামিটা ২০১৬ হয়ে গেল।

সামিটের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলি দ্রুত কার্যকরী করা এবং বিনিয়োগ পদ্ধতির সরলীকরণ করার ব্যাপারে উৎসাহী বিনিয়োগকারীদের আবারও আশ্বস্ত করেন।

সামিটের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলি দ্রুত কার্যকরী করা এবং বিনিয়োগ পদ্ধতির সরলীকরণ করার ব্যাপারে উৎসাহী বিনিয়োগকারীদের আবারও আশ্বস্ত করেন।
প্রধানমন্রী বলেন ব্যবসা স্থাপনে সুবিধাদান এবং বৃহৎ প্রকল্পগুলিকে সাহায্য করার জন্য তাঁর সরকার বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আথরিটি নামে একটি সংস্থার পত্তন করতে চলেছে।তিনি বলেন যে, পরিকাঠামোয় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ   এক নতুন সুযোগের জানালা খুলে দিয়েছে। এ ছাড়াও বর্তমান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন   এবং স্পেশাল ইকনমিক জোনগুলিকে আরও প্রসারিত এবং উন্নত করে স্থানীয় এবং বিশ্ব বাজারের জন্য প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।     

এই ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড পলিসি সামিটের আয়োজন করে এই প্রথম সরকারের তরফ থেকে স্থানীয় এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সমস্যাগুলির সমাধানের চেষ্টা করা হল। এই অনুষ্ঠানে সরকারি নীতি নির্ধারকরা ছাড়াও ২৮০ জন বিদেশি সহ এগারোটি দেশ থেকে গবেষক এবং উদ্যোগপতিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বিনিয়োগকারীদের সব রকমের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি এই আশা প্রকাশ করেন যে, সামিট থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগের ব্যাপারে আরও অনেক কিছু জানতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। 

সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও যাঁরা বক্তৃতা করেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা, আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি, আজিয়াতা লিমিটেডের সাউথ এশিয়ান রিজিয়ন সি ই ও ডঃ হান্স উইজিয়াসুরিয়া, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্স কর্পোরেশনের ডিরেক্টর সুজয় বোস, এবং ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট আবদুল মতলব আহমেদ।
ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আই এম এফ এবং সেই সঙ্গ ব্লুমবার্গের মত অন্যান্য সংস্থাগুলি বাংলাদেশকে একটি উঁচু জায়গা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, আগামী দিনগুলিতে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির দিক দিয়ে বাংলাদেশ একমাত্র ভারতের পরেই থাকবে।


প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসবানীর ফলে ভারতের দু'টি বৃহৎ শিল্প গোষ্ঠী- রিলায়েন্স এবং আদানি বাংলাদেশে ১১০০ কোটি ডলারে বিনিয়োগের ইচ্ছা প্রকাশ করে। চিন, মালয়েশিয়া সহ অন্যান্য দেশের উদ্যোগপতিরাও সেখানে দাঁড়িয়েই বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেন।

গোল্ডম্যান সাক্স-এর ২০০৭ সালের রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, শস্তায় শ্রমিক এবং উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ায় শুল্ক-হীন রফতানির সুবিধা পাওয়ার দরুণ বাংলাদেশ বিনিয়োগের পক্ষে অতি উৎকৃষ্ট জায়গা। এই রিপোর্টে বাংলাদেশকে এমন ১১টি দেশের তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে, যেখানে চিন, ভারত, রাশিয়া, সাউথ আফ্রিকা এবং ব্রাজিলের পরেই দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে। 

ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আই এম এফ এবং সেই সঙ্গ ব্লুমবার্গের মত অন্যান্য সংস্থাগুলি বাংলাদেশকে একটি উঁচু জায়গা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, আগামী দিনগুলিতে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির দিক দিয়ে বাংলাদেশ একমাত্র ভারতের পরেই থাকবে। 

গত সাত বছর ধরে বাংলাদেশ ছ' শতাংশের বেশি বৃদ্ধি ধরে রেখেছে এবং আগামী দিনে ১১টি উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে বৃদ্ধির গতিতে দ্বিতীয় স্থানে থাকবে-সিএনএন-এর এই রিপোর্টকে উদ্ধৃত করে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী সাংমা বলেছেন, "যে সদর্থক বৃদ্ধি ঘটে চলেছে বাংলাদেশে তা অতি অবশ্য ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির অধ্যেও আশার সঞ্চার করবে এবং সেখানকার  বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।"

মেঘালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশে ৪৪৩ কিমি লম্বা সীমানা আছে, আছে যোগাযোগ রক্ষাকারী ব্রহ্মপুত্র এবং অন্যান্য নদী, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচা মাল সরবরাহ করা যায়। দু'দিকের মধ্য বাণিজ্য ও ব্যবসার প্রসার ঘটাতে যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন সাংমা। 

মেঘালয়ে পর্যটনের উন্নতি ঘটাতে সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ব্যবহার করার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন সাংমা। বিদ্যুৎ শিল্পের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যথা সম্ভব নীতিগত সমর্থন দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। পরে কয়েকজন উৎসাহী বিনিয়োগকারী মেঘালয়ের প্রতিনিধি দলটির সঙ্গে দেখা করে সে রাজ্যে সম্ভাবনাপূর্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রগুলির ব্যাপারে খোঁজ করেন।




Video of the day
Recent Photos and Videos

Web Statistics