Column
বাংলাদেশবিরোধী চক্র বিস্তার করছে পাকিস্তান

18 Feb 2016

#

২০০৯ সালের ২০শে এপ্রিল ফরিদপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রাম চলার সময় নির্যাতন, হত্যা এবং অন্যানয় অপরাধের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তিটি তার পর থেকে আত্মগোপনকারী।

পাকিস্তান আসলে তাদের কবল থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেওয়া এখনও মেনে নিতে পারছেনা, আর তাই তারা পুরোদমে বাংলাদেশবিরোধী কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
কৃত অপরাধের জন্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল ২০১২ সালের ৩রা এপ্রিল তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং পরে, ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে, তার প্রাণদন্ডাদেশও ঘোষণা করে। বলা হয়ে থাকে যে, রায়দানের আগে, ২০১২ সালের এপ্রিল মাস্‌ পার্বত্য সীমান্ত দিয়ে বাচ্চু রাজাকার পাকিস্তানে পালিয়ে যায়। বাংলাদেশি গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, সে পাকিস্তানের জামাত-এ-ইসলামির আশ্রয়ে রয়েছে এবং যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে প্রচারের কাজে অনেক ইউরোপিও দেশ ঘুরে এসেছে ইতিমধ্যে। বাচ্চু রাজাকারের প্রত্যর্পণের জন্য আইটিসি ইন্টারপোলের সাহায্য চেয়েছে।

 

পাকিস্তান শুধু যে বাংলাদেশবিরোধী লোকজনদের আশ্রয় দিচ্ছে, তা না, বাংলাদেশ জুড়ে তার নিজস্ব চরচক্রও বিস্তার করে চলেছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে অবস্থিত পাকিস্তান হাই কমিশনের আধিকারিক মাজহার খান এবং অপর একজন কর্মী ফারিনা আরশাদকে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা জন্য যথাক্রমে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি এবং ডিসেম্বর মাসে  বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপর আবার, সম্প্রতি, দু'জন পাকিস্তানি নাগরিক- মুহম্মদ রহমান এবং হাই কমিশন প্রেস কাউন্সেলের ব্যক্তিগত সহকারীকে বাংলাদেশ পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। হাই কমিশনের কর্মীটিকে মুচলেকার ভিত্তিতে ছেড়ে দেওয়া হলেও রহমানকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। রহমান স্বীকার করেছে যে, সে ছ'মাস আগে করাচি থেকে সে বাংলাদেশে ঢুকেছিল এবং পাকিস্তানি হাই কমিশনের আধিকারকদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। এই দুই ব্যক্তি ছাড়াও আরও অনেক পাকিস্তানি নাগরিককে ভূয়ো টাকা পাচার চক্র এবং অন্যান্য নাশকতামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশি নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিরপেক্ষভাবে করার ব্যাপারে চিন্তাশীল ব্যক্তিরা এই মত প্রকাশ করেছেন যে, দু'দেশের মধ্যে সম্পর্কের স্তরকে নামিয়ে আনা দরকার। তাঁরা বলেছেন, যথাযথ বিচার করার আশ্বাস দিয়ে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত যে ১৯৫ জন সেনাকে পাকিস্তান থ ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, তাদের বিচারের জন্য দাবি করা উচিত বাংলাদেশের। পাকিস্তান সরকার যাতে এই সব অপরাধী সেনাদের বিচার করে, তার জন্য রাষ্ট্র সংঘের দ্বারস্থ হওয়া দরকার বাংলাদেশের।

 

পাকিস্তান আসলে তাদের কবল থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেওয়া এখনও মেনে নিতে পারছেনা, আর তাই তারা পুরোদমে বাংলাদেশবিরোধী কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। সাকা/আহসানের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার পর যে বিবৃতি পাকিস্তান দিয়েছে, তা একটি স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীন ব্যাপারে সরাসরি হস্তক্ষেপ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় কোনও গণহত্যা হয়নি- এই বিবৃতি শুধুমাত্র প্ররোচনামূলক নয়, দু'টি দেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টিকারী। স্বাধীনতালাভের পর ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিলনা এবং লাহোরে আইওসি কনভেনশনে বাংলাদেশকে কার্যত বাধ্য হয়েই স্বীকৃতি দিতে হয়েছিল পাকিস্তানের।

 

পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নতি হতে শুরু করে ১৯৭৫ সালের ১৫ই অগাস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যার পর থেকে।  ভারতীয় জঙ্গিদের সাহায্য করার জন্য বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে-জামাত এবং অন্যান্য কয়েকটি দলের এই আশ্বাসের ফলেই এটা হয়েছিল। একই পরিস্থিতি চলেছিল জিয়াউর রহমান এবং এইচ এম এরশাদের শাসনকালে। তবে এটা বন্ধ হয় ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এলে এবং আবার চালু হয় ২০০১ সালে পাকিস্তানের বিশ্বস্ত জামাতকে নিয়ে বিএনপি-র মোর্চা সরকার ক্ষমতায় এলে।

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিরপেক্ষভাবে করার ব্যাপারে চিন্তাশীল ব্যক্তিরা এই মত প্রকাশ করেছেন যে, দু'দেশের মধ্যে সম্পর্কের স্তরকে নামিয়ে আনা দরকার। তাঁরা বলেছেন, যথাযথ বিচার করার আশ্বাস দিয়ে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত যে ১৯৫ জন সেনাকে পাকিস্তান  থ ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, তাদের বিচারের  জন্য দাবি করা উচিত বাংলাদেশের। পাকিস্তান সরকার যাতে এই সব অপরাধী সেনাদের বিচার করে, তার জন্য রাষ্ট্র সংঘের দ্বারস্থ হওয়া দরকার বাংলাদেশের।
 




Video of the day
Recent Photos and Videos

Web Statistics