Column
অব্যহত ঢাকা-নতুন দিল্লির উষ্ণ সখ্য

26 Feb 2016

#

গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ এবং ভারত যৌথভাবে উদ্বোধন করল বাংলাবান্ধা-ফুলিবাড়ি ইমিগ্রেশন চেক পোস্টের। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং ভারতের উপ বিদেশমন্ত্রী ভি কে সিং দু'দেশের তরফ থেকে উপস্থিত ছিলেন এই অনুষ্ঠানে। এই ইমিগ্রেশন চেকপোষ্ট স্থাপন করে বাংলাদেশের পাঁচগড়ের অন্তর্গত বাংলাবান্ধা এবং পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির ফুলবাড়ির মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী একটি নতুন স্থলবন্দর খুলে দিয়ে মানুষের যাতায়াতের সুবিধা করে দেওয়া হল। দু'দেশের মধ্যে ২৮তম স্থলবন্দর এটি।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪,১০০ কিমি সীমান্ত রয়েছে।বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ি চেকপোষ্টটি বাংলাদেশের রংপুর ও দিনাজপুর জেলা, উত্তর পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, দার্জিলিং এবং দিনাজপুর জেলা, সিকিম এবং আসামের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ঘটাবে। এর ফলে বাণিজ্য, পর্যটন এবং স্বাস্থ্যপরিষেবার মাধ্যমে লাভবান হবে দু'দেশই।
উদ্বোধনের আগে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে একটি আলোচনাসভায় ভারতের মন্ত্রী জেনারেল (অবঃ) ভি কে সিং, যিনি ১৯৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন, বলেন নতুন ইমিগ্রেশন পরিষেবা শুরু করার ফলে দু'দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। তাঁরই কথার প্রতিধ্বনি করে বাংলাদেশের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, "এই স্থলবন্দর খোলায় যেমন দু'দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় হবে, তেমনই ব্যবসা, বাণিজ্য এবং পর্যটনেরও সুবিধা হবে।"

 

দু'দেশের মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং মালপত্র পরিবহণের উদ্দেশ্যে যে সব পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত এবং বাংলাদেশ সরকার, তার মধ্যে নতুন অভিবাসন পরিষেবা কেন্দ্র স্থাপন করা একটি।

 

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪,১০০ কিমি সীমান্ত রয়েছে।বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ি চেকপোষ্টটি বাংলাদেশের রংপুর ও দিনাজপুর জেলা, উত্তর পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, দার্জিলিং এবং দিনাজপুর জেলা, সিকিম এবং আসামের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ঘটাবে। এর ফলে বাণিজ্য, পর্যটন এবং স্বাস্থ্যপরিষেবার মাধ্যমে লাভবান হবে দু'দেশই।

 

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি যে দিন হয়, সে দিনই বাংলাদেশের রাজবাড়ি থেকে একটি বিশেষ 'আর্স' ট্রেন ২,২১০ জন যাত্রীকে নিয়ে পৌঁছোয় পশ্চিমবনঙ্গের মেদিনীপুর স্টেশনে। "এই ট্রেন বন্ধুত্ব এবং ধর্মীয় সখ্যের বন্ধন হিসেবে কাজ করবে," বিশেষ আর্স ট্রেনের ডেপুটি লিডার আবদুল আজিজ কাদির বলেছেন।

বাংলাদেশের তীর্থযাত্রী সেলিমুল্লা দেওয়ান বলেন, "গত ২৫ বছর ধরেই আমি মেদিনীপুরে আসছি। প্রতিবারই মেদিনীপুরকে আমার নিজের জায়গা বলেই মনে হয়েছে, কারণ, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের ভাষা এবং সংস্কৃতি এক। ট্রে্নে ছাড়াও আরও অনেক তীর্থযাত্রী মেদিনীপুরের জোড়া মসজিদে বড়পীর সাহেবের উৎসবে যোগ দেওয়ার জন্য বিমানে অথবা বাসেও এসেছেন।"

 

বাংলাদেশের তীর্থযাত্রী সেলিমুল্লা দেওয়ান বলেন, "গত ২৫ বছর ধরেই আমি মেদিনীপুরে আসছি। প্রতিবারই মেদিনীপুরকে আমার নিজের জায়গা বলেই মনে হয়েছে, কারণ, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের ভাষা এবং সংস্কৃতি এক। ট্রে্নে ছাড়াও আরও অনেক তীর্থযাত্রী মেদিনীপুরের জোড়া মসজিদে বড়পীর সাহেবের উৎসবে যোগ দেওয়ার জন্য বিমানে অথবা বাসেও এসেছেন।"

 

প্রতিবছর বাংলাদেশ ও ভারতের বহু মানুষ ধর্মনির্বিশেষে মেদিনীপুরে সম্মিলিত হন বড়পীর আবদুল কাদির জিলানির বংশধর বড়হুজুরের আশীর্বাদ নিতে। উনবিংশ শতকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে ইরাক থেকে ভারতে এসেছিলেন বড়পীর জিলানি।

 

বাংলাদেশ এবং ভারতের মানুষের মধ্যে যে সম্পর্ক, তা বহুমুখীে।ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির যোগাযোগ, বাণিজ্য, ঋণ প্রদান, যৌথ উদ্যোগ, সাংস্কৃতিক নৈকট্য- সবই এর মধ্যে পড়ে। উভয়পক্ষের অংশগ্রহনে এই সম্পর্কের রেখচিত্র ক্রমেই ঊর্দ্ধমুখী। ভৌগলিক নৈকট্য, এক ভাষা, উন্নয়নের অভিন্ন চাহিদা এবং অভিন্ন পরিকাঠামো ব্যবস্থা তার কারণ। 




Video of the day
Recent Photos and Videos

Web Statistics