Column
শেখ হাসিনা ঃ বাংলাদেশের ভবিষ্যতের চাবি যার হাতে

04 Jan 2017

#

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে এক নতুন দিশা দেখিয়েছেন-ভিশন ২০২১। এই দিশা বাংলাদেশকে 'বটমলেস বাস্কেট' অর্থাৎ অনন্ত অনুদান গ্রহীতার দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশে পরিবর্তিত করার দিশা। দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ, অর্থাৎ আই টি-নির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্নও দেখিয়েছেন তিনি। যুদ্ধাপরাধ বিচারের ব্যবস্থা করে এবং অপরাধীদের শাস্তি বিধানের ব্যবস্থা করে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ হওয়া তিরিশ লক্ষ মানুষের পরিবারবর্গের মনের যন্ত্রণার উপশম ঘটিয়েছেন শেখ হাসিনা ।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি রেকর্ড .হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁরই নিরলস প্রচেষ্টায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে  ভর্তির সংখ্যা সর্বকালের মধ্যে সব থেকে বেশি। নারীর ক্ষমতায়নের ব্যাপারে তাঁর দূরদর্শীতার জন্য আন্তর্জাতিক প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। সব থেকে গুরুত্বপূর্ন, স্বাধীনতা সংগ্রামের  উত্তরাধিকার এবং সেই সংগ্রামের আদর্শের বাহক একমাত্র তিনিই।



শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি রেকর্ড .হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁরই নিরলস প্রচেষ্টায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সংখ্যা সর্বকালের মধ্যে সব থেকে বেশি। নারীর ক্ষমতায়নের ব্যাপারে তাঁর দূরদর্শীতার জন্য আন্তর্জাতিক প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। সব থেকে গুরুত্বপূর্ন, স্বাধীনতা সংগ্রামের উত্তরাধিকার এবং সেই সংগ্রামের আদর্শের বাহক একমাত্র তিনিই।
স্বাধীনতা সংগ্রাম চলার সময় তাঁর পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রপ্তার করে পাকিস্তানের জেলে রাখা হয়েছিল। শেখ হাসিনা তাঁর মার সঙ্গে ছিলেন গৃহবন্দী। কিন্তু অন্তরীন থাকাকালীন এই দুজনেই দেশের সংগ্রামে এক গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা নিয়েছিলেন।


উনিশশো পঁচাত্তর সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তাঁর পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যের হত্যার পর শেখ হাসিনাকে ছ'বছর নির্বাসনে থাকতে হয়েছিল। একাশি সালে তাঁর দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন, সামরিক বাহিনীর পুনঃ পুনঃ ক্ষমতা দখলের অবসান এবং জাতীয় অগ্রগতির সূচনা হল।  অক্লান্ত সংগ্রাম করে এক অপ্রতিরোধ্য সর্বদলীয় আন্দোলন গড়ে তুলে ১৯৯০ সালে দেশকে মিলিটারি শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্ত করার প্রচেষ্টায় সফল হন তিনি।

এ পর্যন্ত ১৮ বার শেখ হাসিনার প্রাণনাশের চেষ্টা হয়েছে। এর মধ্যে একবার বি এন পি-মদতপুষ্ট জঙ্গিরা ২০০৪ সালে গ্রেনেড আক্রমণ চালিয়েছিল। দু'হাজার এক সালে বি এন পি-জামাত সরকার গঠনের পর  জঙ্গিদের বাড়বাড়ন্ত এবং আত্মঘাতী বোমারুদের আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে দেশ তার নিকৃষ্টতম পর্যায় প্রত্যক্ষ করেছে। এই সময়েই- ২০০৫ সালের ১৭ ই অগাস্টে একই সঙ্গে সারা দেশের ৬৫ টি জেলায় ৬৪ টি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।


দু'হাজার সাত সালে যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামি লিগের সর্বাত্মক   আন্দোলনের ফলে মানুষকে তাঁদের ভোট না দিতে দেওয়ার বি এন পি-জামাতের দূরভিসন্ধি ব্যর্থ  হয় এবং বাতিল হয় নির্বাচন। সেই সময়  সামরিক মদত-পুষ্ট একটি প্রশাসন রাজনৈতিক ক্ষমতায় আসে এবং দেশে জরুরী অবস্থা জারি হয়। চক্রান্ত করা হয়ে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বিস্মৃতিতে পাঠিয়ে তাঁকে অপ্রাসঙ্গিক করে তোলার। জুলাই, ২০০৭ সালে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা তীব্র গণ আন্দোলনের ফলে তাঁকে শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালের ১১ই জুলাই মুক্তি দিতে হয়। এর পর চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে যান এবং আবার ফিরে আসেন ২০০৮ সালের ৪ঠা ডিসেম্বরে।


এর পর শেখ হাসিনা 'চার্টার অফ চেঞ্জ' নামে আওয়ামি লিগের নীর্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করেন। এই ইস্তাহারই ২০০৮ সালের নির্বাচনে সর্বসম্মত সনদে পরিণত হয়েছিল। নির্বাচনে আওয়ামি লিগ ৩০০ টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৬৪ টি জয় করে। সনদে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করার পথ নির্দেশ করা ছিল। এর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের জি ডি পি বেড়ে হয় ৭.০১ শতাংশ, মাথা পিছু আয় আয় বৃদ্ধি হয়ে দাঁড়ায় ১৪৬৬ ডলারে, দারিদ্র্য হার অর্ধেক হয়ে নেমে যায় ২২.০৪ শতাংশে এবং দশ কোটি কর্মহীন মানুষ কাজ পান।

মানুষের অবস্থার উন্নতির জন্য শেখ হাসিনার হার না মানা সংগ্রাম এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ প্রচেষ্টা তাঁকে সীমানা ছাড়ানো এক বিপুল নেত্রী করে তুলেছে। সম্মান এবং পুরষ্কার অবিরাম বর্ষিত হচ্ছে তাঁর উপরে। এখন তাঁর লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করা। মানুষের ভালোর জন্য তাঁর আপোষহীন অবস্থান এবং দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ যাত্রার কথা মনে রাখলে এ কথা বলাই বাহুল্য যে একমাত্র শেখ হাসিনার হাতেই রয়েছে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের চাবিকাঠি।


পাঁচ বছর সফল ভাবে চালানোর পর তাঁর নেতৃত্ব এবং তাঁর ভিশন ২০২১-এর উপর মানুষের আস্থা  আবার তাঁকে আরও পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনে ২০১৪ সালে।


ইনফরমেশন টেকনোলজির প্রসার ঘটানো, স্বাস্থ্য পরিষেবাকে তৃণমূল স্তরে নিয়ে যাওয়া, সমাজের দুঃস্থ মানুষদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার পরিকল্পনা নিয়ে তাঁদের অবস্থার উন্নতি ঘটানো এবং দারিদ্র্য অপনয়নে তাঁর অবদানের জন্য ইউনেস্কো থেকে তাঁকে অনেকগুলি সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। সম্প্রতি ইউনাইটেড নেশনসের 'সাউথ-সাউথ কো অপারেশেন ভিশনারি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তিনি।

দেশের মানুষের জন্য স্বাস্থোজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে স্বাস্থ্যবতী মা এবং স্বাস্থ্যবান শিশু পরিকল্পনা নিয়ে আপ্রাণ করেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ ২০১১ সালে বাংলাদেশ শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে  মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে নির্দিষ্ট সময়, ২০১৫ সালের আগেই। লিঙ্গ সমতা রক্ষা করার ব্যাপারে পর পর দু'বছর ধরে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয় দেশগুলির মধ্যে সবার উপরে আছে।

তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতকে পিছনে ফেলে দিয়েছে। ২০১৪ সালে প্রতি মাসে ৩.১২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের    তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। ২০১৪-১৫ আর্থিক বছরে সরকার থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা রাখা  হয়েছিল ২৬ ৯ বিলিয়ন ডলার। এই ক্ষেত্রটি থেকেই সব থেকে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে দেশ, যা সমস্ত রপ্তানি থেকে আয়ের ৮০ শতাংশ। বর্তমানে বস্ত্র সামগ্রীর দিক থেকে পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশের স্থান দ্বিতীয়, চিনের ঠিক পরেই। এই শিল্পে প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষ কাজ করেন।


মানুষের অবস্থার উন্নতির জন্য শেখ  হাসিনার হার না মানা সংগ্রাম এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ প্রচেষ্টা তাঁকে সীমানা ছাড়ানো এক বিপুল নেত্রী করে তুলেছে। সম্মান এবং পুরষ্কার অবিরাম বর্ষিত হচ্ছে তাঁর উপরে। এখন তাঁর লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করা। মানুষের ভালোর জন্য তাঁর আপোষহীন অবস্থান এবং দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ যাত্রার কথা মনে রাখলে এ কথা বলাই বাহুল্য যে একমাত্র শেখ হাসিনার হাতেই রয়েছে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের চাবিকাঠি।




Video of the day
Recent Photos and Videos

Web Statistics