Column
বেড়ে চলেছে আত্মঘাতী মহিলা বোমারুদের সংখ্যা

04 Jan 2017

#

বাংলাদেশ সরকারের জঙ্গিবিরোধী অভিযানে একের পর এক সাফল্য আসছে, কিন্তু এই সাফল্যের মধ্যেও সরকার এবং জনগণ আতংকিত। সরকার আতংকিত এই কারণেই যে, জঙ্গি হামলায় আত্মঘাতী, বিশেষত মহিলা জঙ্গির সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি এক মহিলা জঙ্গি শরীরে বাঁধা বোমা বিস্ফোরণে নিহত হওয়ার পরে এই আতংক আরও বেড়েছে।

এদের জিজ্ঞাসাবাদ করে যে সব তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে পুলিশ ও গোয়েন্দারা বিস্মিত। ঢাকার আসকোনা এলাকায় নিরাপত্তা অভিযানের সময় আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনার প্রায় এক বছরের ব্যবধানে কোনও নারীর প্রত্যক্ষভাবে জঙ্গি হামলায়  যুক্ত থাকার ঘটনা সামনে এল।

 


বাংলাদেশ সরকারের জঙ্গিবিরোধী অভিযানে একের পর এক সাফল্য আসছে, কিন্তু এই সাফল্যের মধ্যেও সরকার এবং জনগণ আতংকিত। সরকার আতংকিত এই কারণেই যে, জঙ্গি হামলায় আত্মঘাতী, বিশেষত মহিলা জঙ্গির সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি এক মহিলা জঙ্গি শরীরে বাঁধা বোমা বিস্ফোরণে নিহত হওয়ার পরে এই আতংক আরও বেড়েছে।
দেশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলির আলাদা আত্মঘাতী দল আছে। তবে জে এম বি-র নবধারার জঙ্গিরা তাদের পরিবারের লোকজনদের আত্মঘাতী স্কোয়াড হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা নিহত জঙ্গি পরিবারের এবং গ্রেপ্তার হওয়া ও পলাতক জঙ্গিদের স্ত্রী-সন্তানদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং দল বাড়াতে ধর্মভীরু মেয়েদের বিয়ে করছে, প্ররোচিত করছে তাদের শিশুদের। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির তদন্তে পুলিশ অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। ঠিক কতজন মহিলা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েছেন, তার পরিসংখ্যান পুলিশের কাছে নেই। মহিলা জঙ্গি তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহ্‌রির, যাদের ছাত্রী মুক্তি সংস্থা নামে একটি শাখা আছে এবং এদের লক্ষ্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়য়, মেডিকাল কলেজ সহ নামি দামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা।

 

বাংলাদেশে প্রথম আত্মঘাতী আক্রমণের ঘটনা ঘটে ২০০৫ সালে। সেই সময় চারটি আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে-১৪ই নভেম্বর ঝলকাঠিতে আদালতের কাছে বিচারকদের উপর, ২৯শে নভেম্বর গাজীপুর ও চট্টগ্রামে আদালত প্রাঙ্গণে এবং ৮ই ডিসেম্বর নেত্রকোনার উদীচী      কার্যালয়ের সামনে। জামায়েতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ ১৭ই অগাস্টে সারা দেশ বোমা বিস্ফোরণের পর তাদের অব্যহত হামলার অংশ হিসেবেই এই সব আক্রমণ চালিয়েছিল। তবে ২০০৬ সালের ১৩ই মার্চ জে এম বি নেতা মোল্লা ওমরকে আটকের উদ্দেশ্যে অভিযানের সময় দুই সন্তান নিয়ে ওমরের স্ত্রী আত্মঘাতী হলেও হামলা করা তাদের লক্ষ্য ছিলনা।

জঙ্গিবাদের ক্ষেত্রে নারী পুরুষ আলাদা করলে চলবেনা। জঙ্গি মানে জঙ্গিই। এই ধরণের ঘৃণ্য কর্মকান্ডে নারী কিছু বাড়তি সুবিধা পেয়ে যায়। এই প্রবণতা রোধে সরকারের সঙ্গে জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। জঙ্গিবাদের মোকাবিলায় এই মানসিকতার বিরুদ্ধেও সাফল্য তৈরি করতে হবে। আশু প্রয়োজন কারণ অনুসন্ধান করে তা নির্মূল করা। কেবল অভিযান চালিয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব হবেনা।

 

 

প্রায় এক দশক সময়ের পর ২০১৫ সালে দেশে আবার পরিকল্পিত হামলা সংঘঠিত হলেও এই নিয়ে আলাপ আলোচনা খুব ছিলনা। কিন্তু পয়লা জুলাইয়ের পর আইনশৃংখলা রক্ষাকারীদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটেছে। ২০১৫ সালে সর্বশেষ আত্মঘাতী হামলা ঘটনা ঘটে ২৫শে ডিসেম্বর রাজশাহীর বাগমারায় আহমেদিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদে।

 

বাংলাদেশ প্রথম মহিলা জঙ্গির সন্ধান পাওয়া যায় ২০০৯ সালের ১৫ই মে। ঐ দিন ঢাকার শোয়াপাড়ার উত্তর পীরের বাগ এলাকার একটি বাড়ি থেকে জামায়েতুল মুজাহিদিনের তৎকালীন সামরিক কমান্ডার জহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজানকে  গ্রেপ্তারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে তার স্ত্রী হালিমা বেগমের হুংকারে বিস্মিত হয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী। জে এম বি- র বাংলাভাই, শেখ  আবদুর রহমান এবং আব্দুল আওয়ালের স্ত্রীরাও জঙ্গি তৎপরতায় যুক্ত ছিল। জঙ্গি নেতাদের ফাঁসি হওয়ার পরে কিছুদিন তাদের মহিলা সংগঠন চুপচাপ ছিল। কিন্তু এখন আবার নতুন করে তাদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই মহিলা জঙ্গি  ইউনিট  এবং তাদের পলাতক শীর্ষ নেতাদের মধ্যে  সর্বক্ষণ যোগাযোগ আছে।

 

জঙ্গিবাদের ক্ষেত্রে নারী পুরুষ আলাদা করলে চলবেনা। জঙ্গি মানে জঙ্গিই। এই ধরণের ঘৃণ্য কর্মকান্ডে নারী কিছু বাড়তি সুবিধা পেয়ে যায়। এই প্রবণতা রোধে সরকারের সঙ্গে জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। জঙ্গিবাদের মোকাবিলায় এই মানসিকতার বিরুদ্ধেও সাফল্য তৈরি করতে হবে। আশু প্রয়োজন কারণ অনুসন্ধান করে তা নির্মূল করা। কেবল অভিযান চালিয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব হবেনা। 




Video of the day
Recent Photos and Videos

Web Statistics