Column
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত তদারকিতে সম্পূর্ন হতে চলেছে ২৯ টি বৃহৎ প্রকল্প

10 Apr 2017

#

দু'হাজার চোদ্দ সালের জানুয়ারি মাসে উপর্যুপরি দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা-নেতৃত্বাধীন সরকার অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গঠনের উদ্দেশ্যে একগুচ্ছ বৃহৎ উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সব প্রকল্পগুলির মধ্য থেকে কয়েকটিকে 'ফাস্ট ট্র্যাক', অর্থাৎ দ্রুত সম্পাদ্য প্রকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই প্রকল্পগুলির রূপায়ণের ব্যাপারে পর্যবেক্ষন করছেন।

পদ্মার বহুমুখী সেতু থেকে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং গভীর সমুদ্র বন্দর-জাতির অগ্রগতির চাকা দ্রুততর করতে এবংকর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে এগুলি প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্পগুলির মধ্যে কয়েকটি।


ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পগুলিকে সরকার সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ায় দেশের বাজেটে ২.৩ বিলিয়ন ডলার আলাদা করে রাখা হয়েছে এগুলির জন্য। গত বছর বাজেট  প্রস্তাবের সময় "মেগা প্রজেক্টস ইন   ট্রান্সনফর্মিং ইনফ্রাস্ট্রাকচারঃ নিউ ডাইমেনশন ইন অ্যাকসিলারেটিং গ্রোথ" শিরোনামে একটি পুস্তিকা সংসদে পেশ করা হয়েছিল। এই পুস্তিকায় অর্থলগ্নি থেকে অর্থনীতি পরিবর্তনকারী প্রকল্পগুলির রূপায়ন-বিভিন্ন দিক নিয়ে লেখা ছিল এবং বলা হয়েছিল, এই সব কিছুর রূপায়ণের জন্য খরচ হবে ২০.৫ বিলিয়ন ডলার।


দু'হাজার চোদ্দ সালের জানুয়ারি মাসে উপর্যুপরি দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা-নেতৃত্বাধীন সরকার অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গঠনের উদ্দেশ্যে একগুচ্ছ বৃহৎ উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সব প্রকল্পগুলির মধ্য থেকে কয়েকটিকে 'ফাস্ট ট্র্যাক', অর্থাৎ দ্রুত সম্পাদ্য প্রকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই প্রকল্পগুলির রূপায়ণের ব্যাপারে পর্যবেক্ষন করছেন।
পদ্মার বহুমুখী সেতুঃ 

 

এক চতুর্থাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়ে যাওয়া বাংলাদেশের দীর্ঘতম এবং বৃহত্তম এই পরিকাঠামো প্রকল্পটি এখন স্বপ্ন থেকে বাস্তবে রূপায়িত হওয়ার পথে। সম্পূর্নভাবে নিজেদের অর্থে তৈরি হতে চলা পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণের খরচ ৩.৬৫ বিলিয়ন ডলার। যানবাহন চলাচলের জন্য এটি ২০১৮ সালের মধ্যে খুলে দেওয়া হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। 


অতিবৃহৎ এই পরিকাঠামোর  দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিমি। ভূমিকম্প এবং বন্যার আঘাত সহ্যা করার ক্ষমতাসম্পন্ন এই সেতু জাতীর আশা এবং গর্বের প্রতীক।

 

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পঃ


২৪০০ মেগাওয়াটের রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এর জন্য রাশিয়ার সংগে ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তার চুক্তি হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে পরিবেশ, প্রযুক্তি, কারিগরি প্রভৃতি বিভিন্ন দিকগুলির ব্যাপারে চুক্তি করা হয়েছে দু'দফায়। গত বছরের ২৬শে জুলাই এই স্বপ্নের প্রকল্পটির নির্মাণের জন্য  বাংলাদেশ এবং রাশিয়া  ১১. ৩৮ বিলিয়ন ডলার ঋণের জন্য একটি চুক্তি করেছে।  বিদ্যুৎ প্রকল্প চালানোর ব্যাপারে প্রশিক্ষণ নিতে গত তিন বছর ধরে রাশিয়াতে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ২০ জন করে ছাত্রকে পাঠানো হচ্ছে। রাশিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠান রোস্টম রূপপুরে ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে কাজ করছে ।  তাদের একটি সিস্টার কনসার্ন, যারা টেকনো ফিজিবিলিটি স্টাডি করছে, তারা সম্প্রতি  কারিগরি সমীক্ষা, পরিবেশে নিরীক্ষণ এবং প্রকল্পটির অগ্রগতির ব্যাপারে  টেন্ডার ছেড়েছে। সরকারের আশা, নিউক্লিয়ার রিয়্যাকটর নির্মাণের প্রধান কাজটি ২০১৭ সালের প্রথম ভাগে শুরু হয়ে ২০২০ সালের মধ্যে সম্পূর্ন হবে।

 

গভীর সমুদ্র বন্দরঃ

পদ্মার বহুমুখী সেতু থেকে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং গভীর সমুদ্র বন্দর-জাতির অগ্রগতির চাকা দ্রুততর করতে এবংকর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে এগুলি প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্পগুলির মধ্যে কয়েকটি।

 

কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় একটি গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপন করার প্রস্থাব খতিয়ে দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির নেতৃত্বে একটি দশ সদস্যের কমিটি কমিটি তৈরি হয়েছিল প্রকল্পটির নির্মাণকার্য অতি শীঘ্রই শুরু হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় টেকনো-ইকনমিক স্টাডির কাজ করেছে জাপানের প্যাসিফিক কনসাল্ট্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল। এই গভীর সমুদ্র বন্দরটি নির্মাণে

 

আনুমানিক দু' বিলিয়ন ডলারের ক্যাপিটাল ড্রেজিং এবং মেন্টেনান্স ড্রেজিংএর জন্য জন্য সরকার বেলজিয়ান কোম্পানি জা দে নুল-এর   সংগে মেমর‍্যাণ্ডাম  অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং স্বাক্ষর করেছে। প্রকল্পটি ১৯ টি ভাগ আছে, এর মধ্যে ১৩ টি জন্য বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে রূপায়িত হবে এনব বাকি ৬ টি হবে দুই সরকারের মধ্যে সরাসরি বোঝাপড়ার ভিত্তিতে। এই পায়রা সমুদ্র বন্দর প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছে ব্রিটিশ কোম্পানি   এইচ আর ওয়ালিগফোর্ড। রূপায়নের দায়িত্ব পাওয়ার জন্য চিন, ব্রিটেন, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস এবং ভারতীয় কোম্পানি আবেদন  করেছে এবং সেই আবেদনগুলি খতিয়ে দেখছে সরকার। অন্তর্বর্তী কালের জন্য ২০১৮ সালের মধ্যে দশ মিটার গভীর  চ্যানেলের একটি বহুমুখী মাল পরিবহণযোগ্য টার্মিনাল গড়ে তোলা হবে। ২০২৩ সালে নাগাদ ১৬ মিটার চ্যানেল গভীরতার পুরোপুরি একটি সমুদ্র বন্দর চালু করা যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।


মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পঃ

 

২০১৪ সালেই প্রকল্পটি কার্যত শুরু হয় ১৫০০ একর জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে। প্রকল্পটির নির্মাণ স্থানের চারপাশে সীমানা দেওয়ার কাজ নব্বই শতাংশই সম্পূর্ন হয়ে গেছে। প্রোজেক্ট কনসালট্যান্ট নিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে। ৪.৬ বিলিয়ন ডলারের এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটির নিজস্ব সমুদ্র বন্দর থাকবে কয়লার যোগানের সুবিধার জন্য। প্রকল্পটি সম্পুর্ন হবে ২০২১ সালে।


মাস র‍্যাপিড ট্রানজিটঃ

 

শহরের মানুষদের জন্য নিরাপদ, স্বল্পখরচসাপেক্ষ এবং আধুনিক এই  গণ পরিবহণ ব্যবস্থা ঢাকার যানজট এবং দূষণ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমাবে। ঢাকা মাস র‍্যাপিড ডেভলপমেন্ট প্রোজেক্ট- যা মেট্রো রেল প্রকল্পের সরকারি নাম- সেটি উত্তরা থেকে মতিঝিল অবধি বিস্তৃত হবে। এর জন্য খরচ হবে ২. ৫ বিলিয়ন ডলার। ২০ কিমি দীর্ঘ এই মেট্রো লাইনের অর্ধেকই ২০১৯ সালের মধ্যে যাতায়াতের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে।  ১৬টি স্টেশন নিয়ে এই মেট্রোপথ হবে মাটির উপরে। এর জন্য ডিপো ল্যান্ড ডেভল্পমেনটের কাজ করছে একটি জাপানি সংস্থা- টোকিও কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। এই প্রকল্পে ২৪ টি বাতানুকূল ছ' কামরার  ট্রেন ৬০,০০০ যাত্রী বহন করবে প্রতিদিন। এই প্রকল্পটি রূপায়ন করছে সরকারের ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড।




Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics