Column



বাংলাদেশ থেকে উপড়ে ফেলতেই হবে জামাতের শিকড়
 বাংলাদেশ থেকে উপড়ে ফেলতেই হবে জামাতের শিকড়
দেশের প্রথম সামরিক একনায়ক এবং বিএনপি-র প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল এবং তা নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করার উদ্দেশ্যে ইতিহাসের আস্তাকুঁড় থেকে তুলে এনেছিলেন দেশবিরোধী,স্বাধীনতার বিরোধকারী শক্তিগুলিকে, বিশেষ করে জামাতকে, ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতা লাভের অব্যবহিত পরেই যাদের রাজনৈতিক দল হিসাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

জামাতকে শুধুমাত্র পুনর্বাসন দেওয়া নয়, আওয়ামি লিগের মোকাবিলা করার জন্য যাতে তারা যথেষ্ট ভা্বে শিকড় গাড়তে পারে তার জন্য জামাতকে পুনর্গঠনের জায়গাও করে দিয়েছিলেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। কারণ সেই সময় আওয়ামি লিগই ছিল প্রধান রাজনৈতিক শক্তি।

 

বাংলাদেশের (তখনকার পূর্ব পাকিস্তান) স্বাধীনতার লড়াইকে ব্যর্থ করতে জামাতের সহায়ক শক্তিগুলি যেমন, শান্তি কমিটি, রাজাকার, আল বদর এবং আল শামস দেশজুড়ে এক সন্ত্রাসের রাজত্ব নামিয়ে এনেছিল। এই ব্যাপারে তারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছ থেকে অস্ত্র এবং প্রশিক্ষণ পেত। একাত্তরের যুদ্ধের সময় এই জামাতের লোকেরা শত সহস্র স্বাধীনতা সংগ্রামীকে হত্যা করেছে, ধর্ষণ করেছে হাজার হাজার নারীকে এবং এবং জোর করে ইসলামে ধর্মান্তরিত করেছে বিশাল সংখ্যক হিন্দুকে।

 

বাংলাদেশ বিরোধী ভূমিকার জন্য স্বাধীনতার পরেই জামাতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ১৯৭৫ অবধি তাই ছিল। এর পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর ক্ষমতায় আসা সরকারগুলি জামাতকে আবার উঠে দাঁড়াবার সুযোগ করে দেয়। কোলাবরেটর্স অ্যাক্ট অসিদ্ধ ঘোষিত হয় এবং মুক্তি দেওয়া হয় যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ২৩,০০০ ব্যক্তিকে। এ সবই করেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। এমন কি যুদ্ধাপরাধী হিসেবে যারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, তাদেরও মুক্তি দেওয়া হয়।
একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং তার জন্য মানুষের জান- কবুল লড়াইয়ের তীব্র বিরোধিতা করা অনেক পাকিস্তানপন্থী ব্যক্তিকেই জেনারেল জিয়াউর রহমান বসিয়ে দিয়েছিলেন মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ন পদে, এমন কি প্রধানমন্ত্রীর পদেও। দেশের সংবিধানও বদলে দিয়েছিলেন তিনি 'ধর্মনিরপেক্ষ' শব্দটি সেখান থেকে সরিয়ে দিয়ে। এর উদ্দেশ্য ছিল দেশে ধর্ম-ভিত্তিক রাজনীতিকে মজবুত করা। এই  'ধর্মনিরপেক্ষতা' শব্দটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি প্রধান আদর্শের একটি। তৎকালীন জামাত-প্রধান গুলাম আজম, যিনি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তানে পালিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসেন এই জেনারেল জিয়া। পরে খালেদা জিয়াও তাঁর প্রধানমন্ত্রীত্বের সময় স্বামীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে সেই  জামাতকে দেশের শাসনক্ষমতার অংশীদার করেছিলেন। 

 

পাকিস্তান সরকারের মতই জামাতও তার কৃতকর্মের জন্য এখনও বাংলাদেশের মানুষের  কাছে ক্ষমা চায়নি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে গৃহযুদ্ধ আখ্যা দিয়ে এরা কোনও রকম যুদ্ধাপরাধে নিজেদের ভূমিকার কথা অস্বীকার করে।

 

বাংলাদেশ বিরোধী ভূমিকার জন্য স্বাধীনতার পরেই জামাতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ১৯৭৫ অবধি তাই ছিল। এর পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর ক্ষমতায় আসা সরকারগুলি জামাতকে আবার উঠে দাঁড়াবার সুযোগ করে দেয়। কোলাবরেটর্স অ্যাক্ট অসিদ্ধ ঘোষিত হয় এবং মুক্তি দেওয়া হয় যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ২৩,০০০ ব্যক্তিকে। এ সবই করেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। এমন কি যুদ্ধাপরাধী হিসেবে যারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, তাদেরও মুক্তি দেওয়া হয়।

 

জিয়াউর রহমানের বদান্যতায় পুনর্বাসন পাওয়ার পর থেকে জামাত ক্রমে ক্রমে বিপুল সাংগঠনিক এবং আর্থিক ক্ষমতা অর্জন করেছে এবং তা সম্ভব হয়েছে ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত টানা দু'দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা সামরিক শাসক এবং বিএনপি-র প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সমর্থন এবং প্রশ্রয়ের ফলে। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এই দলটি ব্যাংক থেকে ইনস্যুরেন্স কোম্পানি এবং গণমাধ্যম সহ বহু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়ে বসেছে। এর ফলে অকল্পনীয় পরিমাণের অর্থ হাতে এসেছে তাদের। জামাত-নিয়ন্ত্রণাধীন ইসলামি ব্যাংক, যেটি দেশের বৃহত্তম আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সেটি এখন দক্ষিণ এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম ব্যাংক।

যে সব মানুষ স্বাধীনতার আদর্শকে শ্রদ্ধা করেন, স্বীকৃতি দেন স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মবলিদানকে, যে সব নারী ধর্ষিতা হয়েছিলেন এবং ভিটে মাটি ছেড়ে প্রাণ বাঁচাতে সময় যাঁদের ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিল, তাঁরা সকলেই চান স্বাধীন বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হোক জামাত এবং তার ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্র শিবির। এই সংগঠনের সমস্ত তহবিল, সম্পত্তি, প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত এবং নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রমাণ করা হোক সত্যিই আজ বাংলাদেশ পাকিস্তানপন্থী শক্তির হাত থেকে মুক্ত।

 

বাংলাদেশের ইকনমিক   অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল বরকতের একটি হিসেব অনুযায়ী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পরিবহণ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং এন জি ও- প্রভৃতি নানাবিধ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কাজকর্মের মধ্যে দিয়ে  শুধুমাত্র ২০০০ সালেই জামাতের নেট লাভ ছিল ২৫০ মিলিয়ন ডলার। "যেখানে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ছিল পাঁচ থেকে ছ' শতাংশ, জামাতের আয় বৃদ্ধি ঘটেছিল ছ' থেকে আট শতাংশ," তিনি বলেছেন।

 

বাংলাদেশে বর্তমানে চলতে থাকা যুদ্ধাপরাধ বিচারের ফলে জামাতের বহু শীর্ষ নেতার ফাঁসিতে ঝোলার সমূহ সম্ভাবনা, যদি এই বিচার ঠিকমত হয় এবং তার দ্রুত নিষ্পত্তি হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে  বর্তমান প্রজন্মের অনেক তরুণ নেতা, বিশেষত যারা স্বাধীনতা সংগ্রামের পরে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং স্বাভাবিকভাবেই কোনও যুদ্ধাপরাধে জড়িত নন, জামাতের শীর্ষ নেতৃত্বে আসার পরিকল্পনা করছেন। যুদ্ধাপরাধে যুক্ত তাঁদের বর্তমান নেতারা বিচারে দোষী  সাব্যস্ত হয়ে সরে গেলেই এই সুযোগ এসে  যাবে এই সব তরুণ নেতাদের সামনে।

 

কিন্তু এ কথা ভুললে চলবেনা যে, নাম এবং নেতৃত্ব বদল করলেও জামাত থেকে যাবে একটি উগ্র ইসলামি সংগঠন হিসেবেই এবং তাদের কাজও একই থাকবে- ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া এবং বাংলাদেশে ইসলামি -রাজ প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা  করে যাওয়া। তাই অতীতে সব সময় যেমন ছিল, প্রগতিশীল এবং ধর্মনিরপেক্ষ  শক্তিগুলি এদের শত্রুই থেকে যাবে। সর্বোপরি, জামাতের সঙ্গে পাকিস্তানের অবিচ্ছিন্ন  যোগাযোগ থেকে বোঝাই যায় যে,  তাদের প্রধান কর্মসূচীও সেই একই থাকবে - বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের বিনাশ ঘটিয়ে তাকে পাকিস্তানের একটি দাস রাষ্ট্রে পরিণত করা। জামাতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করাই এখন দেশের সামনে একমাত্র পথ।  

 

একাত্তর সালে পাকিস্তানের অঙ্গচ্ছেদের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ   এখনও জামাতের কাছে এক অতীব অসম্মানের ব্যাপার, তাই সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে এই দলটি যে কোনও কিছু করতে প্রস্তুত।

 

যে সব মানুষ স্বাধীনতার আদর্শকে শ্রদ্ধা করেন, স্বীকৃতি দেন স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মবলিদানকে, যে সব নারী  ধর্ষিতা হয়েছিলেন এবং ভিটে মাটি ছেড়ে প্রাণ বাঁচাতে সময় যাঁদের ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিল, তাঁরা সকলেই চান স্বাধীন বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হোক জামাত এবং তার ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্র শিবির। এই সংগঠনের সমস্ত তহবিল, সম্পত্তি, প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত এবং নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রমাণ করা হোক সত্যিই আজ বাংলাদেশ পাকিস্তানপন্থী শক্তির হাত থেকে মুক্ত।




Video of the day
Independent News 19 September 2017, Bangladesh Latest News Today News Update Tv News Bd All Bangla.
Recent Photos and Videos

Web Statistics