Column



নির্বাচন পরিচালনায় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করছে বি এন পি
নির্বাচন পরিচালনায়   নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করছে বি এন পি
এ বছরের জুলাই মাসের ১৬ তারিখে ইলেকশন কমিশন দেশের একাদশতম নির্বাচনের ব্যাপারে একটি পথনির্দেশিকা (রোডম্যাপ) প্রকাশ করেছে। আওয়ামী লীগ একে স্বাগত জানালেও বি এন পি-র অভিযোগ, এই রোডম্যাপ আসলে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় বসানোর এক নীল নকশা।

নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপের সমালোচনা করে বি এন পি-র সেক্রেটারি জেনারেল   মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগির নির্বাচন পরিচালনা করতে কমিশনকে সহায়তা করতে একটি অস্থায়ী নিরপেক্ষ সরকার গঠন করার জন্য তাঁর দলের পুরনো দাবি আবারও তুলেছেন। গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত করতে নির্বাচনের সময় দিয়ে একটি সহায়ক সরকারকে নিয়ে আসার জন্য বর্তমান সরকারকে বলেছেন তিনি। বি এন পি মনে করে নির্বাচনের সময় শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকলে সে নির্বাচন অবাধ এবং নিরপেক্ষ হবেনা, কেননা তাঁর সরকারের নিরপেক্ষতাকে বিশ্বাস করা যায়না।

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মত একটি অগণতান্ত্রিক পদ্ধতি কি শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে পারে ? একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার ৪২ বছর পরেও প্রতিটি সংসদীয় নির্বাচন করাতে সত্যিই কি বাংলাদেশে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন আছে ? একটি অনির্বাচিত সরকারের তত্ত্বাবধানে থেকে চলার দরকার আছে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ?
এই একই দাবি বি এন পি তুলেছিল ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে। দাবি পূরণ না হওয়ায় সেই নির্বাচনে অংশ নেয়নি তারা।

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মত একটি অগণতান্ত্রিক পদ্ধতি কি শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে পারে ? একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার ৪২ বছর পরেও  প্রতিটি সংসদীয় নির্বাচন করাতে সত্যিই কি বাংলাদেশে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন আছে ? একটি অনির্বাচিত সরকারের তত্ত্বাবধানে থেকে চলার দরকার আছে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ?

যেখানে পৃথিবীর আর কোনও দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথা চালু নেই, কেন তা বাংলাদেশে থাকবে ? কোনও নিশ্চয়তা কি আছে যে ব্যবস্থাকে একটি অনাগত সমস্যার সমাধান বলে মনে করা হচ্ছে, তা নিজেই একটি সমস্যা হিসেবে দেখা দেবেনা, যেমনটি হয়েছিল ২০০৭ সালে, যখন সামরিক সমর্থনপুষ্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করে নিয়েছিল? এই তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে আসলে বকলমে দু' বছর ধরে সামরিক শাসনই চলেছিল দেশে। সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রথা এবং প্রতিষ্ঠানকে পদদলিত করা হয়েছিল এই সময়ে।

 

যখনই দেশে কোনও সাধারন নির্বাচন হয়, তখনই নিরপেক্ষ পরিদর্শকরা গোটা ব্যাপারটির তত্ত্বাবধান করেন। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু  হচ্ছে কি না, তা ঘুরে দেখার জন্য বিদেশ থেকে নামী ব্যক্তিত্বরাও আসেন। সব সময়ই কিন্তু চূড়ান্ত মন্তব্যের ক্ষেত্রে লেখা হয় অসাধুতার ঘটনা ঘটলেও সেগুলি কোনওভাবেই নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারেনি এবং ভোটদান অবাধ, ন্যায়সঙ্গত এবং স্বচ্ছভাবেই হয়েছে।

 

এর পরে শপথ গ্রহন করে নতুন সরকার পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় থাকে। এই সময়কালে দেশের আইন অনুযায়ী বিভিন্ন কাজকর্ম চালানর পূর্ন ক্ষমতা তাদের হাতে থাকে। ভাল, মন্দ যা-ই করুক না কেন এবংদেশের মানুষ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির সেই সম্পর্কে যা-ই অভিমত থাকুকনা কেন, প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা পালনের শপথবলেই  রাষ্ট্রীয় প্রশাসন যন্ত্রের উপর  পূর্ন কর্তৃত্ব থাকে সরকারের।

 

ক্ষমতায় আসার সময় যে সরকারকে সাংবিধানিক এবং আইনসঙ্গত বলে মনে করা হয়েছে, দেশের ভাল করবে  বলে যে সরকারের উপর মানুষ বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছে, সেই সরকারকেই আবার তার শেষ পর্যায়ে  তার সংবিধানপ্রদত্ত যে দায়িত্ব--সাধারন নির্বাচনের ব্যবস্থা করা--সে ব্যাপারে হঠাৎ করে  বিশ্বাসের অযোগ্য বলে মনে হচ্ছে ?

 

এ'কথা মনে রাখা দরকার যে, নির্বাচন যাতে সব দিক দিয়ে ঠিক মত হয়, তা সুনিশ্চিত করার জন্য দেশে একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন আছে। এ'ছাড়াও আছে সাধারন আদালত, হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, বহু নিরপেক্ষ তদারকি সংগঠন। সর্বোপরি, দেশে আছে বিশাল এবং শক্তিশালী সংবাদমাধ্যম। .

 

যেখানে পৃথিবীর আর কোনও দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথা চালু নেই, কেন তা বাংলাদেশে থাকবে ? কোনও নিশ্চয়তা কি আছে যে ব্যবস্থাকে একটি অনাগত সমস্যার সমাধান বলে মনে করা হচ্ছে, তা নিজেই একটি সমস্যা হিসেবে দেখা দেবেনা, যেমনটি হয়েছিল ২০০৭ সালে, যখন সামরিক সমর্থনপুষ্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করে নিয়েছিল? এই তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে আসলে বকলমে দু' বছর ধরে  সামরিক শাসনই চলেছিল দেশে। সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রথা এবং প্রতিষ্ঠানকে পদদলিত করা হয়েছিল এই সময়ে।

 

এখানে এ কথা বলা অপ্রাসঙ্গিক হবেনা যে,  একটি অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে নির্বাচনের দায়িত্বে আনাকে বে-আইনি এবং সংবিধানের নিয়মবিরুদ্ধ বলে রায়দান করেছিল দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়। এই রায়ে ন্যায়ালয়ের গভীর প্রজ্ঞাই প্রতিফলিত হয়েছে।

 

গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখা এবং সমৃদ্ধ করার অন্যতম শর্ত হল প্রকৃত অর্থেই স্বাধীন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে সাহায্য করা। এই  কাজে প্রয়োজন সাধারন প্রশাসন, সামরিক বাহিনী, বিচার বিভাগ, ব্যাংক ব্যবস্থা, অ্যান্টি কোরাপশন কমিশন, পাবলিক সারভিস কমিশন, সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সর্বোপরি, নির্বাচন কমিশকে রাজনীতিমুক্ত রাখা। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই দক্ষ, পক্ষপাতশুণ্য এবং নীতি অনুসরন করে চলা যথেষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা থাকবেন এবং তাঁদের নিয়োগ হবে সম্পূর্ন নৈতিকভাবে ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেশুণ্য পদ্ধতিতে।এই সব প্রতিষ্ঠানকে নিরপেক্ষ রাখতে হবে এবং তাদের  পবিত্রতা রক্ষা করে চলতে হবে।

 

সুতরাং, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়, গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে যে অবাধ, সুষ্টু নির্বাচনের প্রয়োজন, তার জন্য দরকার একটি প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন এবং শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন। 




Video of the day
Morning Live Bangladesh TV News BD 16 December 2017 Bangla News 24 TV Online Bangla TV News
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics