Bangladesh



সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের লড়াই চলছে
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের লড়াই চলছে
ঢাকা, আগস্ট ৯ঃ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের লড়াই অব্যাহত আছে।

গত বছর বাংলাদেশের মাটিতে এক কালো ছায়া নেমে এসেছিল।

ঢাকার গুলশান হামলার ঘটনার রেশ আজও টাটকা আছ।

এক রাতের হামলায় ২০ জন প্রান হারান। নিহতদের মধ্যে ছিলেন বিদেশী নাগরিক।

জঙ্গিরা এক রাতে বাংলাদেশের মাটিতে অশান্তির ছায়া এনে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

তবে, এই দেশের শক্ত সরকার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা তা হতে দেয়নি।

অভিযানের মাধ্যমে সেই জঙ্গিদের শেষ করে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী।

তারপরে, দেশে বিভিন্ন সময় জঙ্গি দমনের অভিযান চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।

শেষ করা হয়েছে বহু জঙ্গি ও তাদের ডেরা।

এইভাবে, বাংলাদেশ অ এই দেশের সরকার পৃথিবীর বুকে নিজের এক আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।

তারা দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায়।

কিছুদিন আগে সেইভাবেই দেশের আদালত কঠোর শাস্তি দিয়েছেন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ১৪ সদস্যকে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়, দেশের এক আদালত মঙ্গলবার জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ১৪ সদস্যকে ২০ বছরের জন্য টাঙ্গাইলে ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার দায়ে কারাদণ্ড দিয়েছেন।

এর পাশাপাশি, আদালত এনাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

 

আজকের রায়টি দিয়েছেন টাঙ্গাইলের ২ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল জজ আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিঞা।

 
আজকে আদালতের রায়ে যে ২০ জন ব্যাক্তি সাজা পেলেন তারা হলেন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার টেকপাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার মাদারকোল গ্রামের ইয়ামিন মিয়া, মিজান, আবদুল আহাদ, হাবিল, রোস্তম, তারিকুল, কালিহাতী উপজেলার বল্লা গ্রামের আরমান বিন আজাদ এবং আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে সোহেব ও রাসেল, বাসাইল উপজেলার হাবলা দক্ষিণপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান, গোপালপুর উপজেলার পলসিয়া গ্রামের জিয়াউর রহমান ওরফে তানভীর, বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার তোরাব বেফা গ্রামের শহীদুল ইসলাম এবং ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার শরিফবাগ গ্রামের আবদুল্লাহ আল তাসনিম।
 
তবে, আরমান বিন আজাদ, রাসেল, তারিকুল ও আবদুল্লাহ আল তাসনিম এই মুহূর্তে পলাতক আছেন।
 

আদলাতে আজ যে আসামীরা উপস্থিত ছিলেন তাদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
 

পাশাপাশি,  শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাইয়ের অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়া এবং হাবিল নামক অপর এক আসামি কারাগারে মারা যাওয়ার ফলে এই মামলা থেকে এই ব্যাক্তিদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

 
২০০৫ সালে ১৭ আগস্ট,  বাংলাদেশ জুড়ে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছিল, মামলার বিবরণ অনুযায়ী জানা গেছে।
 

সেই দিনে বিস্ফোরণ ঘটেছিল টাঙ্গাইল শহরের বেবিস্ট্যান্ড, শহীদ জগলু রোড ও আদালত এলাকায়।
 

টাঙ্গাইল সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বোরহান উদ্দিন বাদী হয়ে এই বিষয় একটি মামলা করেছিলেন।
 

মামলা করা হয়েছিল অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে।
 

তবে, পরে অপরাধীদের নাম প্রকাশিত হয়।

তবে, আগামী দিনেও আশা করা হবে সরকার একভাবেই ব্লগার হত্যার সাথে যারা জড়িত তাদেরকেও শাস্তি দেওয়ার পদক্ষেপ নেবেন।

আর শেখ হাসিনার সরকারের থেকে এই পদক্ষেপ আশা করাই যায় খুব শিগগিরি।

দুই বছর কেটে গেছে, এখনও বিচার পায়নি নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়।

নীলাদ্রি, বা সবার কাছে পরিচিত  নিলয়, ছিলেন গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনে যুক্ত থাকা সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ব্লগার।

দুই বছর আগে, সন্ত্রাসীদের হাতে হত্যা হন উনি।

বিচারের দাবীতে, নিলয়ের বন্ধু সাজ্জাদ সাজু অনশনে বসেছিলেন।

সোমবার, পোষ্টার হাতে ওনাকে সকাল ৯টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশনে সাজ্জাদ বসেছিলেন ।

তবে, পুলিশের বাধায় বেশিক্ষন চলেনি এই অনশন।

বেলা ১১টার দিকে অনশনের স্থান থেকে গুঁটিয়ে চলে যান উনি।

একটা সময় দেশজুড়ে, উগ্রবাদীরা বেশ কিছু টার্গেট কিলিং চালিয়েছিল।

২০১৫ সালের ৭ অগাস্ট সেরকম এক ঘটনা আছড়ে পরে ঢাকারপূর্ব গোড়ান টেম্পোস্ট্যান্ডের কাছে ৮ নম্বর রোডের ১৬৭ নম্বরের পাঁচতলা ভবনের পঞ্চমতলায়।

নিলয়কে নির্মমভাবে হত্যা করেন সন্ত্রাসীরা।

ইস্টিশন ব্লগে নিলয় নামে লিখেতেন এই তরুণ।

২৭ বছর বয়েসের নিলয় ছিলেন সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার।

তবে, হত্যার কিছুদিন আগে হুমকি পেয়েছিলেন বলে জানা গেছে।সেই ঘটনার জেরে ফেসবুক থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন নিজের ছবি।

সাজ্জাদ সাজু সোমবার বলেন যে এই তরুণের হত্যার বিচারের দাবিতেই আজ রাজপথে নেমেছেন উনি।

আর কিছুদিনের মধ্যে বড় করে অনশনের ডাক দেওয়ার ক্তহাও উনি জানান।

 
"শুধু সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি," উনি সাংবাদিকদের বলেন।
 

উনি দাবি করেন যে এই হত্যার ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

 
উনি এমন দাবি করেন যে এই ব্লগারদের হত্যার ঘটনার যারা প্রতিবাদ করতে চান তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

 
তবে, দেশের গুলশান হামলার পরে শেখ হাসিনা সরকার সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান চালিয়েছেন একের পর এক।
 
ওই হামলার ঘটনার পরে আর একটিও বড় মাপের সন্ত্রাসী হামলা হয়নি।
 
শক্ত হাতেই সন্ত্রাস বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছেন হাসিনা সরকার।

 
তাই আশা করা যায় আগামী দিনেও, এই ব্লগারদের হত্যার ঘটনাগুলিতে সরকার তারাতারি পদক্কেপ নিয়ে শুবিচার পাবেন এই বাংলাদেশের প্রতিবাদী তরুণেরা।




Video of the day
Today Bangla News
More Bangladesh News
Recent Photos and Videos

Web Statistics