Column



সুবিচারের সুদীর্ঘ প্রতীক্ষা
সুবিচারের সুদীর্ঘ প্রতীক্ষা
কোটালিপাড়ায় ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাণনাশের চেষ্টার অপরাধে ঢাকার এক আদালত দশ ব্যক্তির প্রাণদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া আরও ন' ব্যক্তিকে এক্সপ্লোসিভ অ্যাক্টের বিধি অনুসারে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকা-২ স্পিডি ট্রায়াল জাজ মমতাজ বেগম ২০শে অগাস্ট এই রায় দিয়েছেন।

শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টার মোট পাঁচটি  মামলা বহুদিন ধরে আদালতে ঝুলেছিল। কোটালিপাড়া মামলা তার অন্যতম। দু'হাজার সালের ২০শে জুলাই কোটালিপাড়ার কাছে যে জনসভায় শেখ হাসিনার ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে মঞ্চের কাছে পুঁতে রাখা ৭৬ কেজি ওজনের একটি বোমা পাওয়া গিয়েছিল। প্রকাণ্ড বোমাটি  দৈবাৎ আবিষ্কার হওয়ার পর এক্সপ্লোসিভ অ্যাক্ট অনুযায়ী একটি কেস দাখিল করা হয় গোপালগঞ্জ আদালতে। সেখানে ৮৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৩ জনের বয়ান নেওয়ার পরে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মামলাটিকে ২০২০ সালে ঢাকা স্পিডি ট্রায়াল ট্রাইবুনাল-২ তে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ শুনানি এবং সাক্ষ্যদান পর্বের  শেষে  অবশেষে ২০ শে অগাস্ট রায়দানের দিন হিসেবে ঘোষিত হয়। এই মামলার প্রধান আসামী, হরকত-উল-জিহাদ-আল ইসলামি (হুজি)-র প্রধান, মুফতি আবদুল হান্নানের অবশ্য এর আগেই, ১২ই এপ্রিল তারিখে, অন্য একটি মামলার আদেশানুসারে ফাঁসি হয়ে যায়। সিলেটে, ২০০৪ সালে, তৎকালীন ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর গ্রেনেড আক্রমণের সময় তিনজনকে হত্যা করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় এই সাজা দেওয়া হয় হান্নানকে।

 

কোটালিপাড়া মামলার রায়দান হয়ে গেলেও এখনও আরও চারটি মামলা ঝুলে আছে, যেগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া দরকার। এগুলির মধ্যে দু'টি ২০০৪ সালের ২১শে অগাস্ট শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড আক্রমণ সম্পর্কিত। অন্য দু'টি ১৯৮৯ সালের ১০ই অগাস্ট তারিখে শেখ হাসিনার ধানমন্ডি-বাসভবনের উপর বোমা নিক্ষেপের সঙ্গে জড়িত। বহু বছর কেটে গেলেও এই চারটি মামলার কোনটির ফয়সালা এখনও হয়নি।
কোটালিপাড়া মামলার রায়দান হয়ে গেলেও এখনও আরও চারটি মামলা ঝুলে আছে, যেগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া দরকার। এগুলির মধ্যে  দু'টি   ২০০৪ সালের ২১শে অগাস্ট শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড  আক্রমণ সম্পর্কিত। অন্য দু'টি ১৯৮৯ সালের ১০ই অগাস্ট তারিখে শেখ হাসিনার ধানমন্ডি-বাসভবনের উপর বোমা নিক্ষেপের সঙ্গে জড়িত। বহু বছর কেটে গেলেও এই চারটি মামলার কোনটির ফয়সালা এখনও হয়নি।

 

২১শে অগাস্টের গ্রেনেড আক্রমণঃ ২১শে অগাস্ট, ২০০৪ সালে ঢাকার গুলশন এলাকায় আওয়ামী লীগের একটি সভার উপর গ্রেনেড হানায় ২৪ জন নেতা-কর্মী নিহত হন। এঁদের মধ্যে ছিলেন ভূতপূর্ব প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান। এই ঘটনায় আহত হন ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ। এই আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য শেখ হাসিনা অতি অল্পের জন্যে প্রাণে বেঁচে গেলেও বিস্ফোরণের অভিঘাতে তাঁর কান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই সব ভয়াবহ ঘটনার পর বছরের পর বছর কেটে গেছে। এমনকি কৌঁসুলিরা পর্যন্ত জানতে চান কেন রায়দান অযথা বিলম্বিত হচ্ছে। এর পরে আদালত দোষীদের বিরুদ্ধে রায় দিলেও মামলাগুলি নতুন পর্যায়ে যাবে, কারণ রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করে দণ্ডিতরা প্রথমে হাইকোর্ট এবং তারপর সুপ্রীমকোর্টে যাবে। এ ভাবেই সুদূরপরাহত হয় আক্রান্ত এবং তাঁদের পরিবারের সুবিচার পাওয়ার আশা।

 

এই ঘটনার পর দু'টি মামলা করা হয়- একটি এক্সপ্লোসিভ অ্যাক্ট অনুসারে এবং অন্যটি হত্যার অভিযোগে। পনেরো বছর কেটে গেলেও এখনও এই মামলা দু'টির বিচার পর্ব শেষ হয়নি। ঢাকা স্পিডি ট্রায়াল ট্রাইব্যুনাল -২-তে বি এন পি ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা খালেদা জিয়ার পুত্র তারিক রহমান সহ মোট ৫১ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এই মামলা চলছে। সমস্ত সাক্ষীর সাক্ষ্যদান গত বছরে সম্পূর্ন হয়ে গেলেও ্তাঁদের জেরার পর্ব এখনও বাকি আছে। মামলায় সরকার পক্ষের কৌঁসুলিদের অভিযোগ, শুনানির দিন হাজির না হয়ে অথবা সাক্ষীদের অপ্রাসঙ্গিক এবং অযৌক্তিক প্রশ্ন করে মামলা নিষ্পত্তির দেরি করিয়ে দিচ্ছেন বিবাদী পক্ষের উকিলরা।

 

শেখ হাসিনার উপর অগাস্ট ১১, ১৯৮৯ সালের আক্রমণঃ

 

এই ঘটনায় ফ্রিডম পার্টির ( মুজিব খুনে জড়িত মেজরদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত) সাত থেকে আটজন লোক শেখ হাসিনার ধানমন্ডির বাড়ির উপর গ্রেনেড ছোঁড়ে এবং গুলি চালায়। শেখ হাসিনা সেই সময় বাড়িতে ছিলেন। এ ব্যাপারে ধানমন্ডি থানায় এক্সপ্লোসিভ অ্যাক্ট এবং পেনাল কোডের ধারা অনুযায়ী দু'টি কেস করা হয়। ঘটনার আট বছর পর দু'টি কেসে মোট ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। ঘটনার পর ২৮ বছর কেটে গেলেও ঢাকার অ্যাডিশনাল মেট্রোপলিটান সেশনস জাজের আদালতে মামলা দু'টি এখনও ঝুলে আছে।

 

এই সব ভয়াবহ ঘটনার পর বছরের পর বছর কেটে গেছে। এমনকি কৌঁসুলিরা পর্যন্ত জানতে চান কেন রায়দান অযথা বিলম্বিত হচ্ছে। এর পরে আদালত দোষীদের বিরুদ্ধে রায় দিলেও মামলাগুলি নতুন পর্যায়ে যাবে, কারণ রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করে দণ্ডিতরা প্রথমে হাইকোর্ট এবং তারপর সুপ্রীমকোর্টে যাবে। এ ভাবেই সুদূরপরাহত হয় আক্রান্ত এবং তাঁদের পরিবারের সুবিচার পাওয়ার আশা।




Video of the day
Jamuna tv News today 17 november 2017 Bangladesh Latest News Today News Update bd news all bangla
Recent Photos and Videos

Web Statistics