Column



পরিষ্কার হল খালেদা জিয়ার বিচারের পথ
পরিষ্কার হল খালেদা জিয়ার বিচারের পথ
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের অ্যাপেলেট ডিভিশনের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ২০শে অগাস্ট তারিখে গ্লোবাল অ্যাগ্রো ট্রেড কোম্পানি (গ্যাটকো) উৎকোচ মামলার বিচার চালানোর ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের সামনে যে সব প্রতিবন্ধকতা ছিল, তা দূর করে দিয়েছে। এই মামলাটি চলছে বি এন পি-র চেয়ারপার্সন এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে।

গ্যাটকো   উৎকোচ মামলার আইনি বৈধতা এবং ইমার্জেন্সি পাওয়ার অ্যাক্টে তার অন্তর্ভুক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়ার  দুটি পিটিশন  হাইকোর্ট ২০১৫ সালের ৫ই অগাস্ট খারিজ করে দিয়েছিল । এরপর সেই আদেশের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ১০ই মে সুপ্রিম কোর্টে আপীল করেছিলেন তিনি। 


এ সি সি-র তদন্তকারীদের সামনে গ্যাটকোর ডিরেক্টর সইদ গালিব আহমদ স্বীকার করেছেন যে, কন্টেনার হ্যান্ডলিং-এর বরাত পাওয়ার পর তিনি পরিবহণমন্ত্রী লেঃ কর্নেল আকবর হোসেনের (মৃত) পুত্র ইসমাইল হোসেন সাইমনের হাতে পুরস্কার স্বরূপ ২, ১৯,৪৫, ০৯১ টাকা তুলে দিয়েছিলেন। সাইমন আবার এই অর্থ তুলে দেয় কোকোর হাতে।
গ্যাটকো মামলার রিপোর্টঃ  খালেদা জিয়া, তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র আরাফত রহমান কোকো (মৃত), জামাত-এ-ইসলামি প্রধান মতিউর রহমান নিজামি (যুদ্ধাপরাধে ফাঁসি হয়েছে) এবং আরও দশজনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দর এবং ঢাকার ইংল্যান্ড কন্টেনের ডিপোর কন্টেনার হ্যান্ডলিং-এর বরাত কোনও বিডিং ছাড়াই    অবৈধ ভাবে  গ্যাটকোকে পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪৫. ৬৪ কোটি টাকার ক্ষতিসাধনের জন্য অ্যান্টি করাপশন কমিশন (এ সি সি )  ২০০৭ সালের ২র সেপ্টেম্বর গ্যাটকো উৎকোচ মামলা দায়ের করে। 

অভিযোগ, টেন্ডারের বিধিবদ্ধ পদ্ধতি অনুসরণ না করা সত্ত্বেও গ্যাটকোকে এই বরাত দেওয়া হয় তাদের স্বপক্ষে খালেদা জিয়ার হস্তক্ষেপের ফলে।  বিডিং-এ যাওয়ার যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও গ্যাটকোকে এই বরাত পাইয়ে দেওয়ার জন্য খালেদা জিয়াকে প্রভাবিত করেছিলেন তাঁর পুত্র আরাফত রহমান কোকো।  কন্টেনার হ্যান্ডলিং-এ  গ্যাটকোর অভিজ্ঞতা না থাকা এবং সে কারণে তাদের অযোগ্যতার কারণ দেখিয়ে   ক্যাবিনেট কমিটি যে  আপত্তি তুলেছিল, তা  অগ্রাহ্য করেছিলেন খালেদা জিয়া। আর এই কর্মের জন্য সরকারের ক্ষতি হয় ১৪৫. ৫৪ কোটি টাকা।  

এ সি সি-র তদন্তকারীদের সামনে গ্যাটকোর ডিরেক্টর সইদ গালিব আহমদ স্বীকার করেছেন যে, কন্টেনার হ্যান্ডলিং-এর বরাত পাওয়ার পর তিনি পরিবহণমন্ত্রী লেঃ কর্নেল আকবর হোসেনের (মৃত) পুত্র ইসমাইল হোসেন সাইমনের হাতে পুরস্কার স্বরূপ ২, ১৯,৪৫, ০৯১ টাকা তুলে দিয়েছিলেন। সাইমন আবার এই অর্থ তুলে দেয় কোকোর হাতে। 

এ ছাড়া আরও একটি সাম্প্রতিক ঘটনা সকলের প্রায় চোখ এড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির সঙ্গে ২০০৩ সালে এবং পেট্রো বাঙলার সঙ্গে ২০০৬ সালে কানাডার তেল এবং গ্যাস এক্সপ্লোরেশন কোম্পানি নিকোর  করা দু'টি চুক্তিকে ২৪শে অগাস্ট তারিখে বে-আইনি বলে ঘোষণা করে বাংলাদেশে নিকোর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ হাইকোর্ট। 
জিয়া অরফ্যানেজ ট্রাস্ট' নামে একটি ভুয়ো ট্রাস্ট গঠন করে সেখান থেকে ২.১০ কোটি টাকা তছরুপ করায় খালেদা জিয়া এবং তারিক রহমান জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে এ সি সি। ১৯৯১ সালে ইউনাইটে সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ১,২৫৫,০০০ মার্কিন ডলারের- সে সময়কার বিনিময় মূল্যে যা ছিল ৪.৪৫ কোটি টাকার সমান- অনুদান আসে প্রধানমন্ত্রীর অরফ্যানেজ ফান্ডের নামে। টাকা আসার অল্প কিছুদিন আগেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গঠন করেছিলেন এই ফান্ড।


নিকো মামলাঃ .এই মামলায় এসিসি খালেদা জিয়া এবং অন্য দশ জনের নামে চার্জশিট দিয়েছে। কেস রিপোর্ট জানাচ্ছে যে, প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন ব্যাপারে অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কানাডার তেল এবং গ্যাস অনুসন্ধানকারী সংস্থা নিকোর সঙ্গে নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে চুক্তি অনুমোদন করা হয়, এবং তা করা হয় অর্থের বিনিময়ে। পেট্রোবাংলা এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড  প্রোডাকশন কোম্পানি এই চুক্তির বিরোধিতা করে, কিন্ত এ সব কিছু অগ্রাহ্য করে খালেদা জিয়া নিকোকে বরাত দেওয়া সমর্থন করেন এবং তার ফলে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় ১৩,৭৭৭ কোটি টাকা।

এই মূহুর্তে খালেদা জিয়া আরও দু'টি মামলায় জড়িয়ে পড়েছেন- জিয়া অরফ্যানেজ ট্রাস্ট গ্রাফট কেস এবং জিয়া চ্যারিটেবল গ্রাফট কেস। 

জিয়া অরফ্যানেজ ট্রাস্ট কেস রিপোর্ট
 
  উনিশশো একাশি সালে আততায়ীদের হাতে নিহত তাঁর স্বামী এবং প্রাক্তন সামরিক শাসক জিয়ায়ুর রহমানের নাম অনুসারে জিয়া অরফ্যানেজ ট্রাস্ট গঠন করে তার থেকে বিদেশি  ব্যাংকের মাধ্যমে অনাথদের জন্য অনুদান হিসেবে আসা টাকা তছরূপের দায়ে খালেদা জিয়া এবং তাঁর পুত্র এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারিক রহমান সহ আরও চার জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩রা জুলাই মামলা শুরু করেছিল অ্যান্টি কোরাপশন কমিশন (এসিসি)। 

জিয়া অরফ্যানেজ ট্রাস্ট' নামে একটি ভুয়ো ট্রাস্ট গঠন করে সেখান থেকে ২.১০ কোটি টাকা তছরুপ করায়   খালেদা জিয়া এবং তারিক রহমান জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে এ সি সি। ১৯৯১ সালে ইউনাইটে সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ১,২৫৫,০০০ মার্কিন ডলারের- সে সময়কার বিনিময় মূল্যে যা ছিল ৪.৪৫ কোটি টাকার সমান- অনুদান আসে  প্রধানমন্ত্রীর অরফ্যানেজ ফান্ডের নামে। টাকা আসার অল্প কিছুদিন আগেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গঠন করেছিলেন এই ফান্ড।


জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট কেস রিপোর্ট
 
অন্য একটি মামলায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট নামের একটি সংস্থা থেকে চার লক্ষ ডলার (তিন কোটি দশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা) সরানোর অভিযোগেও খালেদা জিয়া এবং আরও তিন জনকে অভিযুক্ত করেছে এসিসি।খালেদা জিয়া এবং তাঁর পুত্র তারিক এই ফান্ডটি চালাতেন। এই ট্রাস্টের আয়-ব্যায়ের ঘোষণা এবং কাজকর্মের হিসাবে বিস্তর অসংগতি রয়েছে এবং এই ধরণের ট্রাস্ট সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নিয়ম-বিধি ভংগের পরিষ্কার নজির আছে। মনে করা হয়, অসাধু উপায়ে অর্জিত ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের  অর্থই এই ট্রাস্টের আয়ের প্রধান উৎস ছিল। বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা এমন মনে করা হচ্ছে যে, ব্যক্তি এবং পরিবারের প্রয়োজনে এই ফান্ড থেকে বিভিন্ন সময়ে  টাকা তোলা হয়েছে।অভিযোগ, খালেদা জিয়া এবং তাঁর সহচরেরা  এই ট্রাস্ট থেকে ৪০০,০০০ টাকা তুলে নিয়েছিলেন। 

যদিও খালেদা বলছেন যে, তাঁর এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে করা  এই মামলাগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তাঁর দাবি যে অসার, তা বোঝা যায়। এর কারণ এই  অভিযোগগুলির  কোনওটিই শেখ হাসিনার সরকার দায়ের করেনি, করেছে সামরিক বাহিনীর মদতে ক্ষমতায় আসা পূর্ববর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এই সরকার ২০০৭-০৮ সালে দেশজুড়ে দূর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়েছিল। এ সি সি-র করা তদন্তে প্রকাশ পেয়ে গেছে কী ভাবে প্রধানমন্ত্রীত্বের সুযোগ নিয়ে খালেদা জিয়া এবং তাঁর পরিবারের লোকজনেরা বেআইনি উপায়ে বিপুল সম্পত্তি অর্জন করেছিলেন। 



Video of the day
Morning Live Bangladesh TV News BD 16 December 2017 Bangla News 24 TV Online Bangla TV News
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics