Column



খালেদা জিয়া ও তাঁর রাজনীতি
খালেদা জিয়া ও তাঁর রাজনীতি
লন্ডন থেকে অবশেষে ফিরলেন বি এন পি-প্রধান খালেদা জিয়া।

সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী মনে করা হচ্ছে যে, ফিরে আসার পর তিনি সরকার-বিরোধী আন্দোলনে নামবেন, যার নকশা তিনি এতদিন ধরে লন্ডনে বসে তৈরি করছিলেন। গত ১৫ই জুলাই    খালেদা জিয়া  লন্ডনের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছিলেন চোখ এবং আর্থারাইটিসের চিকিৎসার জন্য। অন্তত সেরকমই বলা হয়েছিল। তাঁর ফিরে আসার কথা ছিল সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ তারিখে, কিন্তু প্রথমে তা পিছিয়ে করেন অক্টোবরের তিন তারিখ এবং তার পর শোনা যায় ১৫ই অক্টোবর আসতে পারেন তিনি। অবশেষে এলেন ১৮ তারিখে। বলা হচ্ছে, চিকিৎসার কারণেই এই বারংবার দিন বদল। কিন্তু বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা জানিয়েছেন খালেদা জিয়া ভালোই ছিলেন এবং তিনি চাইছিলেন লন্ডনে বসে থেকে তাঁর দল এবং দেশের ঘটনাবলীর উপর নজর রাখার সংগে সংগে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ছক কষতে। 


বি এন পি প্রধান অনেক দিন ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাবলী লক্ষ্য করে যাচ্ছেন। এই সব ঘটনাগুলির মধ্যে আছে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ছুটিতে চলে যাওয়া। অনেকে মনে করেন, ষোড়ষ সংবিধান সংশোধন খারিজ করে দেওয়ার জন্যই তাঁকে ছুটিতে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য খালেদা জিয়া মাঝরাতেও বিদেশ-প্রত্যাগত দলীয় নেতা-কর্মীদের সংগে বৈঠক করেছেন।
দেশে ফেরার দিন ক্রমাগত পিছিয়ে দেওয়ার আর একটি কারণ হতে পারে জিয়া অরফ্যানেজ ফ্রড কেসে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ভয়। আশা করা যাচ্ছে,  আদালত এই মামলার রায় দিয়ে দেবে বেশি দেরি না করে। এই মামলাটি ছাড়াও দূর্নীতি, হিংসাত্মক ঘটনা, অন্য অপরাধ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য আরও বেশ কয়েকটি মামলা ঝুলছে তাঁর নামে।

বি এন পি প্রধান অনেক দিন ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাবলী লক্ষ্য করে যাচ্ছেন। এই সব ঘটনাগুলির মধ্যে আছে প্রধান বিচারপতি এস কে  সিনহার ছুটিতে চলে যাওয়া। অনেকে মনে করেন, ষোড়ষ সংবিধান সংশোধন খারিজ করে দেওয়ার জন্যই  তাঁকে ছুটিতে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।   জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য খালেদা জিয়া মাঝরাতেও বিদেশ-প্রত্যাগত দলীয় নেতা-কর্মীদের সংগে বৈঠক করেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের আদেশানুসারে ২০১১ সালের মাঝামাঝি ১৫তম সংবিধাতন সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচন করানোর জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রথাকে খারিজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে যে ১৩তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের যে প্রথা চালু করা হয়েছিল, তাকে অবৈধ বলে ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট।


বি এন পি চেষ্টা করে যাচ্ছে ২০১৯ সালের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী সংসদীয় নির্বাচনের আগে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব আবারও তুলে ধরার। খালেদা জিয়া ফিরে এসেছেন, সুতরাং মনে করা হচ্ছে যে, সেই প্রস্তাব এবার চূড়ান্ত করা চেষ্টা হবে। এতদিন তিনি লন্ডনে বসে পুত্র তারিক রহমানের সংগে দলের কর্মসূচীর ব্যাপারে আলোচনা করে এসেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারনা, কূটনৈতিক ব্যাপারে  খালেদা জিয়া যাদের বিশ্বাস করেন, তাদের ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে  দলের পরবর্তী সর্বাধিনায়কের কিছু মতান্তর আছে।

 জামাতের সংগে হাত মিলিয়ে  সারা দেশে হত্যালীলা এবং হিংসাত্মক ঘটনা ঘটিয়ে দু'হাজার চোদ্দ সালের ৫ই জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন বানচাল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে সব রকমের চেষ্টা চালিয়েছিল বি এন পি। কিন্তু এত হিংসার ঘটনা ঘটিয়েও তারা তাদের উদ্দেশ্য সাধনে  শোচনীয়ভাবে  ব্যর্থ হয়েছিল। হিংসা এবং হত্যাকাণ্ডের জন্য কিছু জায়গায় ভোট কম হলেও তা হয়েছিল নির্দিষ্ট সময়মত। এই নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ       উপর্যুপরি দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করে।

সুপ্রিম কোর্টের আদেশানুসারে ২০১১ সালের মাঝামাঝি ১৫তম সংবিধাতন সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচন করানোর জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রথাকে খারিজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে যে ১৩তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে  নির্বাচনের আগে  তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের যে প্রথা চালু করা হয়েছিল, তাকে অবৈধ বলে ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচন করার যে দাবী খালেদা জিয়া তুলেছেন, তাকে নস্যাৎ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়ে দিয়েছেন যে, দেশে কোনও  অন্তর্বর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই।  শেখ হাসিনার সরকার আরও পাঁচ বছর শাসন করুক- এই রায়ই দেশের মানুষ দিয়েছিলেন দু'হাজার চোদ্দ সালের নির্বাচনে। তার পর থেকে এ' পর্যন্ত এমন কিছুই ঘটেনি, যাতে অন্তর্বর্তী নির্বাচনের দরকার পড়ে। হাসিনা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, পরবর্তী নির্বাচন যে সময় হওয়ার কথা, সেই সময়েই হবে, তার আগে নয়।

দু'হাজার চোদ্দ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে শেখ হাসিনা তাঁর ক্ষমতা এবং যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন প্রতি পদে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও       আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা করা এবং হিংসা ও সন্ত্রাসবাদ দমনে তাঁর ভূমিকার জন্য  প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতা ক্রমাগত ঊর্দ্ধমূখী। বিশ্বজোড়া মন্দার মধ্যেও অর্থনৈতিক বৃদ্ধি অব্যহত রাখার জন্য হাসিনাকে বিশ্বের প্রধান দেশগুলির নেতারাও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছেন মিলেনিয়াম ডেভলপমেন্ট গোলের লক্ষ্যমাত্রা  পূরণ এবং দারিদ্র্য অপনয়ণের জন্যেও।

১৯৪৯ সালে জন্মের সময় থেকেই তাঁর দল, আওয়ামী লীগ, বরাবরই বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির পুরোধার ভূমিকা পালন করে এসেছে। অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশকে তুলনামূলকভাবে উদার মুসলিম-গরিষ্ঠ এবং গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা সমৃদ্ধ একটি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার পিছনে এই দলের অবদান আছে।

  দেশে সব থেকে বড় সমর্থনভিত্তি আওয়ামি লিগেরই আছে, যদিও সেনাবাহিনী, সংবাদমাধ্যম এবং ব্যবসার মত বৃহৎ শক্তিকেন্দ্রগুলিতে এই দলের প্রভাব এখনও সীমিত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উত্তরাধিকারের ফলে বাংলাদেশের জন্মগ্রহন এবং বাঙালি জাতীয়বাদের দ্যোতক রূপে এক অন্যন্য বিশিষ্টতা লাভ করেছে এই দলটি।

 কিন্তু তবুও এযাবৎ কাল পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সব সময়েই তথাকথিত ইসলামি জাতীয়তাবাদী শক্তির হিংসাত্মক আক্রমণের মোকাবিলা করতে হয়েছে আওয়ামি লিগকে। বিএনপি এবং জামাত সহ এই শক্তি গণতন্ত্রের ধারনায় বিশ্বাসী নয়। ধর্মের নামে  হিংসা, বর্বরতা আর হত্যালীলা চালিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে চায় এরা। আওয়ামি লিগ সরকারকে এই শক্তিগুলি পাকিস্তান প্রচারিত দ্বিজাতি তত্ত্বের শত্রু হিসাবে মনেকরে। আজ সবাই জানে যে, এই শক্তিগুলি অস্থিরতা তৈরি করে সরকারের পতন ঘটানোর উদ্দেশ্যে মাফিয়া এবং চরমপন্থী ইসলামি সংগঠনগুলির সাহায্য নিয়ে থাকে।

কিন্তু দেশের রাজনীতিতে সংঘর্ষের সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে, সন্ত্রাসের মূল উৎপাটিত করতে এবং প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হাসিনা। অন্যদিকে এর আগের বিএনপি সরকার বরাবর সমস্ত চরমপন্থী এবং পাকিস্তানপন্থী শক্তিগুলির পৃষ্ঠপোষকতা করে এসেছে,  যার ফলশ্রুতি ঢাকায় ২০০৪ সালে শেখ হাসিনার একটি সমাবেশের উপর গ্রেনেড আক্রমন। হাসিনা যে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের  এবং২০৪১ সালের মধ্যে  উন্নত দেশে পরিণত করার চেষ্টা করছেন, তা দেশের মানুষের কাছে একটি বিরাট স্বস্তির বিষয়।

বর্তমানে বাংলাদেশের যা পরিস্থিতি, তা খুব  আদর্শ না হলেও নিশ্চিত ভাবে খালেদা জিয়ার শাসনকালের (২০০১-২০০৬) থেকে অনেক ভালো। সন্ত্রাসবাদীরা এখন আর বিরোধী দলের জনসভার উপর খোলাখুলি গ্রেনেড আক্রমণ চালিয়ে নিরীহ মানুষ খুন করতে পারছেনা, মূলস্রোতের বিরোধী নেতাদের আক্রান্ত হয়ে মরতে হচ্ছেনা, 'আল্লাহর শাসন' দাবি করে যে আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদীরা এক সময় রাস্তায় নেমেছিল, তাদেরও এখন দেখা যাচ্ছেনা। রাজনৈতিক হয়রানি অথবা অনভিপ্রেত ঘটনাযেটুকু ঘটছে এখন, সেগুলিও ঘটছে সরকারকে অপদস্থ করে ফেলে দেবার মতলব ভাঁজা বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহলের কারসাজিতে।



Video of the day
Jamuna tv News today 17 november 2017 Bangladesh Latest News Today News Update bd news all bangla
Recent Photos and Videos

Web Statistics