Column



জামাত- জাতির বিপদের প্রতিমূর্তি
জামাত- জাতির  বিপদের প্রতিমূর্তি
নাশকতামূলক কাজকর্মের চক্রান্ত করার অভিযোগে অক্টোবরের ন' তারিখে জামাত-এ-ইসলামির কার্যনির্বাহী আমির মকবুল আহমেদ এবং আরও আটজন নেতাকে ঢাকার একটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উনিশশো একাত্তর সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় জড়িত থাকার জন্য সাম্প্রতিক কালে জামাতের বেশ কিছু শীর্ষ নেতা আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজাপ্রাপ্ত, এদের অনেকেই এখন জেলে। তা সত্ত্বেও জামাত দলটি কিন্তু মোটেই ভেঙ্গে যায়নি।

 

উনিশশো একাত্তর সালে পরাজিত শত্রুদের প্রেতাত্মাস্বরূপ এই জামাত। যতদিন না আইনগত, সামাজিক এবং আদর্শগতভাবে এরা নির্মূল হচ্ছে, ততদিন জনমানসে এদের একই ভাবমূর্তি বজায় থাকবে। উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির যে পথে আজ দেশ চলেছে, তার শরিক তারা কোনওদিনই হতে পারবেনা। যে দল দাঁত নখ দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে এসেছে, কখনোই তারা এই উন্নয়ন যজ্ঞের অংশীদার হতে পারেনা।
পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই দলটি এখন টেকনাফ এবং কক্স বাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গিয়া রিফিউজি ক্যাম্পগুলিতে রিক্রুট্মেন্ট ড্রাইভ চালিয়ে সদস্য সংগ্রহ করার কাজ করছে। শরনার্থীদের  অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে এবং ধর্মীয় সহানুভূতির তাস খেলে এই সব কাজ করছে তারা। দেশের আরও গভীরে প্রবেশ করার ব্যাপারে  রোহিঙ্গিয়াদের সাহায্যও করছে।  পুলিশের রিপোর্ট আরও জানাচ্ছে, জামাত নেতারা রোহিঙ্গিয়া শরণার্থীদের সরকারী কাগজপত্র পেতেও সাহায্য করছে। দলের স্থানীয় সমর্থকদের সহায়তায় এই সব করা হচ্কছে। 

 

উনিশশো একাত্তর সালে পরাজিত শত্রুদের প্রেতাত্মাস্বরূপ এই জামাত। যতদিন না আইনগত, সামাজিক এবং আদর্শগতভাবে এরা নির্মূল হচ্ছে, ততদিন  জনমানসে এদের একই ভাবমূর্তি বজায় থাকবে। উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির যে পথে আজ দেশ চলেছে, তার শরিক তারা কোনওদিনই হতে পারবেনা। যে দল দাঁত নখ দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে এসেছে, কখনোই তারা এই উন্নয়ন যজ্ঞের অংশীদার হতে পারেনা।

 

আই সি টি-তে জামাতের প্রাক্তন আমির গুলাম আজমের বিচারের রায় দেওয়ার সময় জামাতকে অপরাধী সংগঠন হি্সেবে বর্ননা করে  যে কোনও সরকারি, বেসরকারি এবং সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনগুলিরপ্রধান পদে স্বাধীনতা বিরোধী দল ও ব্যক্তিদের থাকার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার প্রস্তাব দেওয়া হয় সরকারের কাছে। রায়ে আরও বলা হয়, ১৯৭১-এ যারা স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা নিয়েছিল, তারা স্বাধীনতার যুদ্ধে শহিদ হওয়া ৩০ লক্ষ মানুষের প্রতি সম্মান জানিয়ে  তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে, তার কোনও প্রমাণ এমন কি এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

কিন্তু এ কথা ভুললে চলবেনা যে, নাম এবং নেতৃত্ব বদল করলেও জামাত একটি উগ্র ইসলামি সংগঠন হিসেবেই থেকে যাবে এবং তাদের কাজও একই থাকবে- ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া এবং বাংলাদেশে ইসলামি -রাজ প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা করে যাওয়া। তাই অতীতের মতই প্রগতিশীল এবং ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলি এদের শত্রুই থেকে যাবে। সর্বোপরি, জামাতের সঙ্গে পাকিস্তানের অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ থেকে বোঝাই যায় যে, তাদের প্রধান কর্মসূচীও সেই একই থাকবে - বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের বিনাশ ঘটিয়ে তাকে পাকিস্তানের একটি দাস রাষ্ট্রে পরিণত করা। জামাতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করাই এখন দেশের সামনে একমাত্র পথ।

 

একাত্তর সালে পাকিস্তানের অঙ্গচ্ছেদের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ   এখনও জামাতের কাছে এক অতীব অসম্মানের ব্যাপার, তাই সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে এই দলটি যে কোনও কিছু করতে প্রস্তুত।

 

দেশের মানুষ এ' কথা কোনওদিনই ভুলবেন না যে, বাংলাদেশের জন্মের পর এই জামাত তাদের প্রাক্তন প্রধান গুলাম আজমের মাধ্যমে সাবেক পূর্ব পাকিস্তানকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলার কোনও চেষ্টাই বাদ দেয়নি এবং বেশ কয়েক বছর ধরে তাদের বাংলাদেশবিরোধী প্রচার অব্যহত রেখেছিল।  একাত্তর সালে পাকিস্তান যখন পরাজয়ের মুখে, সেই সময় গুলাম আজম পাকিস্তান চলে যান। সেখানে ১৯৭২ সালে তিনি গঠন করেন পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি।এই সংগঠনের কাজ ছিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মত গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ইসলামিক দুনিয়ায় তীব্র প্রচার চালানো।

 

১৯৭২ সালে লন্ডনে গিয়ে সোনার বাংলা নামে একটি সাপ্তাহিক প্রকাশ করেন গুলাম আজম। ভারত বিরোধী প্রচার চালানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা এই পত্রিকায় অভিযোগ করা হয়েছিল যে, 'পূর্ব পাকিস্তানের' মুসলমানদের ধরে ধরে হত্যা করা হচ্ছে এবং সেখানকার মন্দির, মাদ্রাসগুলিকে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে হিন্দুরা। পাকিস্তান-কেন্দ্রিক কিছু সংগঠনের সাহায্যে পূর্ব পাকিস্তানের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে একটি আন্দোলন গড়ে তুলতে অক্লান্ত প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন এই ব্যক্তি।

 

উনিশশো তিয়াত্তর সালে ম্যানচেস্টারে ফেডারেশন অফ ইসলামিক স্টুডেন্টস' ইসলামিক সোসাইটিজের বার্ষিক সভা এবং লেসটারে ইউ কে ইসলামিক কমিশনে  বাংলাদেশের স্বাধীনতাপ্রাপ্তির বিরুদ্ধে ভাষণ দেন গুলাম আজম। চুয়াত্তরে পুনরুদ্ধার কমিটির সংগে কট্টর পাকিস্তানপন্থী ব্যক্তিদের একটি দলের সংগে একটি বৈঠকের আয়োজন করেন তিনি। সেখানে ঠিক হয় যে, পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ঠেকানো না গেলেও পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের একটি কনফেডারেশন গঠন করার জন্য আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

 

তিয়াত্তর সালে মিশিগানে মুসলিম স্টুডেন্টস' অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা অ্যান্ড কানাডার বার্ষিক সভায় বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সংগে পুনর্মিলিত করার জন্য আন্দোলনে সবাইকে অংশ নিতে আহ্বান জানান গুলাম আজম। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৬ সালের মধ্যে তিনি সাতবার সৌদি আরবের রাজার সাথে দেখা করে কোনও ভাবেই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি অথবা সাহায্য না দিতেঅনুরোধ জানান তিনি। আজম অভিযোগ করেছিলেন যে, হিন্দুরা পূর্ব পাকিস্তান দখল করে নিয়েছে এবং মুসলমান হত্যা ও পবিত্র কোরান পোড়ানোর পাশাপাশি সেখানে চলছে মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির বানানো।

 

তাই পূর্ব পাকিস্তানে মুসলমানদের তথাকথিত দুর্গতির কথা বলে তাদের সাহায্যার্থে সৌদি আরব এবং  মধ্য প্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলি থেকে বিপুল তহবিল যোগাড় করেছিলেন তিনি।

 

বাংলাদেশে বর্তমানে চলতে থাকা যুদ্ধাপরাধ বিচারের ফলে জামাতের বহু শীর্ষ নেতার ফাঁসিতে ঝোলার সমূহ সম্ভাবনা, যদি এই বিচার ঠিকমত হয় এবং তার দ্রুত নিষ্পত্তি হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে  বর্তমান প্রজন্মের অনেক তরুণ নেতা, বিশেষত যারা স্বাধীনতা সংগ্রামের পরে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং স্বাভাবিকভাবেই কোনও যুদ্ধাপরাধে জড়িত নন, তাঁরা জামাতের শীর্ষ নেতৃত্বে আসার পরিকল্পনা করছেন। যুদ্ধাপরাধে যুক্ত  বর্তমান নেতারা বিচারে দোষী  সাব্যস্ত হয়ে সরে গেলেই এই সুযোগ এসে  যাবে এই সব তরুণ নেতাদের সামনে।

 

কিন্তু এ কথা ভুললে চলবেনা যে, নাম এবং নেতৃত্ব বদল করলেও জামাত  একটি উগ্র ইসলামি সংগঠন হিসেবেই থেকে যাবে এবং তাদের কাজও একই থাকবে- ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া এবং বাংলাদেশে ইসলামি -রাজ প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা  করে যাওয়া। তাই অতীতের মতই  প্রগতিশীল এবং ধর্মনিরপেক্ষ  শক্তিগুলি এদের শত্রুই থেকে যাবে। সর্বোপরি, জামাতের সঙ্গে পাকিস্তানের অবিচ্ছিন্ন  যোগাযোগ থেকে বোঝাই যায় যে,  তাদের প্রধান কর্মসূচীও সেই একই থাকবে - বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের বিনাশ ঘটিয়ে তাকে পাকিস্তানের একটি দাস রাষ্ট্রে পরিণত করা। জামাতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করাই এখন দেশের সামনে একমাত্র পথ।    




Video of the day
Ekattor tv News today 16 january 2018 Bangladesh Latest News Today News Update bd news all bangla
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics