Column



অলৌকিক উন্নয়নের পথে বাংলাদেশ
অলৌকিক উন্নয়নের পথে বাংলাদেশ
বাংলাদেশকে এখন সারা বিশ্বে বলা হচ্ছে 'অসম্ভব অভীষ্ট সাধনের দেশ।' ক্ষুধা এবং দারিদ্র্য-মুক্ত সমাজের লক্ষ্যে মিলেনিয়াম ডেভলপমেন্ট গোলস-নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ইতিমধ্যেই পূরণ করেছে এই দেশ। দারিদ্র্য অপনয়ণে দেশের সাফল্য সারা পৃথিবীতে বহুল প্রশংসিত। এই স্বীকৃতি এতটাই যে, ২০২৫ সালের মধ্যে ক্ষুধা দূরীকরণের উদ্দেশ্যে আমেরিকায় যে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ হতে চলেছে, তাতে 'ফোকাল কান্ট্রি,' অর্থাৎ কেন্দ্র-দেশ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে বাংলাদেশকে।

ইয়োহানেস জুট, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক কান্ট্রি ডিরেক্টর, বাংলাদেশ, বলেছেন, "সমস্ত প্রতিকূলতার মুখে দাঁড়িয়েও বাংলাদেশ গত দশ বছরে এক কোটি ষাট লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্যসীমার উপরে নিয়ে এসেছে এবং  কমিয়ে এনেছে অসাম্য। এটি একটি অতি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

 

বিশাল সংখ্যক মানুষের দেশ বাংলাদেশের কাছে সব থেকে বড় আর্থ-সামাজিক চ্যালঞ্জ তার দারিদ্র্য । দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার সর্বাগ্রেই রয়েছে দারিদ্র্যমোচনের লক্ষ্য, যা সমস্ত পরিকল্পনার নথিপত্র থেকেই প্রতীয়মান হয়। স্বাধীনতার পর থেকে গত ৪৬ বছরে সেই বাংলাদেশ 'বটমলেস বাস্কেট', অর্থাৎ অন্তহীন অভাবের দেশ থেকে আজ পূর্নতার দিকে এগিয়ে চলেছে।

 

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দারিদ্র্য হার কমিয়ে আনার ব্যাপারে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। দারিদ্র্য কমিয়ে আনার ব্যাপারে বর্তমান সরকারের অক্লান্ত প্রচেষ্টাই এই সাফল্যের কারণ। গত পাঁচ বছরে দারিদ্র্য কমে আসার রেখচিত্র খুঁটিয়ে দেখলে এ কথা মনে হয় যে, ২০২১ সাল, অর্থাৎ দেশের স্বাধীনতালাভের ৫০ তম বর্ষ উদযাপনকালের মধ্যেই অতি দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাবে বাংলাদেশ।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দারিদ্র্য হার কমিয়ে আনার ব্যাপারে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। দারিদ্র্য কমিয়ে আনার ব্যাপারে বর্তমান সরকারের অক্লান্ত প্রচেষ্টাই এই সাফল্যের কারণ। গত পাঁচ বছরে দারিদ্র্য কমে আসার রেখচিত্র খুঁটিয়ে দেখলে এ কথা মনে হয় যে, ২০২১ সাল, অর্থাৎ দেশের স্বাধীনতালাভের ৫০ তম বর্ষ উদযাপনকালের মধ্যেই অতি দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাবে বাংলাদেশ।

 

২০০ সালে বাংলাদেশে ছ' কোটি তিরিশ লক্ষ মানুষ দারিদ্র সীমার নীচে বাস করতেন, কিন্তু ২০১০ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে চার কোটি তিরিশ লক্ষে। এই কৃতিত্বের দাবিদার  দারিদ্র্য অপনয়ণের জন্য অক্লান্ত  প্রচেষ্টা চালানো বর্তমান সরকার। এই সময়কালের মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধি  হওয়া সত্ত্বেও দারিদ্র্য সীমার নীচে বাস করা মানুষের সংখ্যা কমেছে ২৬ শতাংশ।

 

দু' হাজার ন' সালে  যখন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসে, তখন দেশে গরীব মানুষের সংখ্যা ছিল পাঁচ কোটি।  এর মধ্যে ২. ৮৮ কোটি মানুষই ছিলেন চরম গরীব। ঐ সময় থেকে সরকারের মেয়াদকাল, অর্থাৎ ২০১৪ সালের মধ্যে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার গড়ে ১.১৬ শতাংশ বাড়লেও গরীব এবং অতি গরীবের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৩.৮৫ কোটি এবং ১.৫৭ কোটি। উল্লেখযোগ্য যে, অতি দরিদ্র্য সীমায় বাস করা মানুষদের ৪৫ শতাংশ উপরে তুলে আনা হয়েছে গত পাঁচ বছরে।

 

বাংলাদেশ ব্যুরো অফ স্ট্যাটিসটিক্‌সের দেওয়া তথ্য অনুসারে, বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প তৈরির ব্যাপারে সরকার চারটি মূল নীতি অনুসরণ করে চলেছে ঃ

 

(১) বিশেষ ভাতা দিয়ে অতি দরিদ্রদের আর্থিক ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা

 

(২) অতি দরিদ্র্দের জন্য কাজ এবং স্বনির্ভরতার সুযোগ তৈরি কর

 

(৩) বিনা মূল্যে অথবা সামান্য মূল্যে খাদ্য সাহায্য দিয়ে অতি দরিদ্রদের খাদ্য সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা


(৪) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ দিয়ে অতি দরিদ্রদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা

উন্নয়নের যে গতিতে এখন দেশ চলছে, তা অব্যহত থাকবে, যদি আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফেরে। মনে রাখতে হবে, দেশে এখন যে বিশাল আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কাজ চলছে, তা প্রথম শুরু হয়েছিল ১৯৯৬ সালে, আওয়ামী লীগ প্রথমবার ক্ষমতায় আসার সময়। কিন্তু তা প্রবল ধাক্কা খায় যখন ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে সরে যায় এবং সরকার গঠন করে বি এন পি-জামাতের জোট।

 

খাদ্য, আশ্রয়, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের মত মানুষের ন্যূনতম চাহিদাগুলি পূরণ করার উদ্দেশ্যে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলি তৈরি করা হয়েছে। এই লক্ষ্যে যে প্রকল্পগুলি হাতে নেওয়া হয়েছে, সেগুলি হল ফুড ফর ওয়ার্ক (এফ এফ ডাব্লু), ভালনারেবল গ্রুপ ডেভলপমেন্ট (ভিজিডি), ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ), ওল্ড এজ অ্যালাওন্সেজ ফর রিটার্ডেড পিপল, অ্যালাওয়ন্সেজ ফর উইডোজ অ্যান্ড ডিসট্রেসড উইমেন এবং গ্র্যান্টস ফর অরফ্যানেজেস। 

 

এ  ছাড়াও আছে মাইক্রো ক্রেডিট প্রোগ্রাম, অ্যালাওয়েন্সেজ ফর ফ্রিডম ফাইটার্স, ইত্যাদি। সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় থাকা মানুষদের মধ্যে দুর্গত মহিলা, শিশু এবং বিকলাংগ মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই ধরণের প্রকল্পগুলি আবার দু'টি ভাগে বিভক্তঃ সামাজিক সুরক্ষা এবং সামাজিক ক্ষমতায়ণ। সামাজিক সুরক্ষা শ্রেনীর প্রকল্পগুলিতে নগদে ভাতা প্রদান, খাদ্য সুরক্ষা প্রদান এবং নতুন কর্মসূচী রূপায়নে অর্থ বরাদ্দ করা হয়ে থাকে। অন্য দিকে সামাজিক ক্ষমতায়নের প্রকল্পগুলিতে গৃহনির্মাণ এবং পুনর্বাসন, ক্ষুদ্র ঋণ,বিবিধ তহবিল এবং উন্নয়ণমূলক কর্মসূচী নেওয়া হয়।

 

.খাদ্য সুরক্ষার জন্য সরকার থেকে বিভিন্ন ধরণের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য সুরক্ষা প্রকল্পগুলির মধ্যে আছে ভালনারেবল গ্রুপ ফান্ডিং (ভিজিএফ), ওপেন মার্কেট সেলস (ওএমএস), ক্যাশ ফর ওয়ার্ক (সিএফডাব্লু), ফুড ফর ওয়ার্ক (এফ এফ ডাব্লু), ভালনারেবল গ্রুপ ডেভলপমেন্ট (ভিজিডি), গ্র্যাচুইশাস রিলিফ (জি আর) এবং হান্ড্রেড ডেজ এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিম।

 

ব্যুরো অফ স্ট্যাটিসটিক্সের দেওয়া তথ্যে প্রকাশ, ১৯৯০ সালে থেকে ধরলে বাংলাদেশে দারিদ্র্য ৬০ শতাংশ থেকে নেমে ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর কারণ সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা। সরকারের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্য ১৩.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা। মাধ্যমিক স্কুলগুলিতে ভর্তির ক্ষেত্রে লিঙ্গ অসাম্য দূর হয়েছে, শিশু মৃত্যুর হার অর্ধেক হয়েছে ১৯৯০ সালে থেকে এ পর্যন্ত এবং ২০১২ সালের মধ্যে মানুষের গড় আয়ু দশ বছর বেড়ে ৬৯ বছরে দাঁড়িয়েছে, যা ভারতের থেকে ৪ বছর বেশি।  দক্ষিন এশিয়ায় সামান্য কয়েকটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি দেশ যে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলস-এর প্রায় সব ক'টি লক্ষ্যমাত্রায় সফল হয়ে এখন পরবর্তী লক্ষ্যের দিকে এগোনোর জন্য তৈরি হচ্ছে।

 

প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তুমুল সাফল্য সত্ত্বেও বি এন পি এবং তাদের সহযোগীদের মিথ্যা প্রচারে বিভ্রান্ত এক শ্রেণীর মানুষ মনে করেন আওয়ামী লীগ সরকার দূর্নীতিগ্রস্ত। কিন্তু তাঁদেরও এ কথা দ্বিধাহীনভাবে স্বীকার করতে হয় যে, গত ন'বছরে দেশে যে সার্বিক উন্নয়ন হয়েছে, তা নজিরবিহীন।

 

দেশের অর্থনীতি ক্রমাগতভাবে ছ' শতাংশ হারে বাড়তে থাকায় বেশির ভাগ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে এবং গত দু' বছর ধরে দেশ একটি স্থিতিশীল অবস্থা  বজায় রেখে চলেছে। অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং মানব উন্নয়নের মাপকাঠিতে এখন বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে ধরা হচ্ছে।  দু'হাজার চোদ্দ সালে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার সময় থেকে এ পর্যন্ত দেশে যে বিশাল পরিবর্তন এসেছে, তার ফলে বাংলাদেশ এখন নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশের স্তরে উন্নীত হয়েছে। মিলেনিয়াম ডেভলপমেন্ট গোলস-এর লক্ষ্যমাত্রা পূরণের ব্যাপারে এই দেশের অগ্রগতিকে এখন উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে সব থেকে বড় সাফল্য ব লে মনে করা হচ্ছে।  সাসটেনেবল ডেভলপমেন্ট গোলস-এর ক্ষেত্রে দেশের সাম্প্রতিক সাফল্য পৃথিবীকে এক নতুন পাঠ দিয়েছে বলে বলা হচ্ছে।

 

তবে ডিসেম্বর অথবা ২০১৯ সালে একাদশতম জাতীয় নির্বাচন হতে চলা এই দেশে ২০১৮ সাল আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে কঠিন বছর হয়ে দেখা দেবে। 

 

ভয়ানক আকারে দেখা দেওয়া রোহিঙ্গিয়া সমস্যা ছাড়াও সমস্ত বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্পগুলি শেষ করার এক বিপুল দায়িত্ব এখন এই সরকারের কাঁধে। এই ধরণের প্রকল্পগুলির মধ্যে আছে পদ্মা সেতু প্রকল্প, যার খরচ সম্পূর্ন নিজস্ব। প্রকল্পটি সম্পূর্ন হওয়ার কথা ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে। ৬. ১৫ কিমি দীর্ঘ এই রোড-রেল ব্রিজটি বাংলাদেশের দক্ষিন-পশ্চিম অংশের সংগে উত্তর এবং পূর্বের অঞ্চলগুলিকে জুড়বে। এতাবৎকালের মধ্যে দেশের সব থেকে বড় পরিকাঠামো প্রকল্প এটি। 

 

দেশের পরিবর্তন সাধনের উদ্দ্যেশ্যে  "ভিশন ২০২১" প্রয়োগ করে শেখ হাসিনা এই বিস্ময়কর উন্নয়ন মডেলের কারিগর হয়ে উঠেছেন। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনের আগে দলীয় ইস্তাহারে এই ভিশনের কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। উন্নয়নের গতানুগতিক মডেলগুলিকে ভেঙ্গে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের পর্যায়ে নিয়ে যাবার লক্ষ্যে সেই থেকে ক্রমাগত সাহায্য করে চলেছেন তিনি। 

উন্নয়নের যে গতিতে এখন দেশ চলছে, তা অব্যহত থাকবে, যদি আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফেরে। মনে রাখতে হবে, দেশে এখন যে বিশাল আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কাজ চলছে, তা প্রথম  শুরু হয়েছিল ১৯৯৬ সালে, আওয়ামী লীগ প্রথমবার ক্ষমতায় আসার সময়। কিন্তু তা প্রবল ধাক্কা খায় যখন ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে সরে যায় এবং সরকার গঠন করে বি এন পি-জামাতের জোট।

 

এই কথা স্মরণে রেখে এবং অধীত সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে দেশের একটি বড় অংশের মানুষ শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেব দেখতে চান। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত নিয়েলসন বাংলাদেশের একটি সমীক্ষা জানিয়েছিল ৬৭ শতাংশ মানুষই শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চান। ব্রিটিশ কাউন্সিল, অ্যাকশন এইড  বাংলাদেশ এবং ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের যৌথভাবে করা   অন্য একটি সমীক্ষায় প্রকাশ, দেশের ৭৫ শতাংশ তরুণ তরুণী মনে করেন আগামী ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ দেশ হয়ে উঠবে। 




Video of the day
Jamuna tv News today 17 november 2017 Bangladesh Latest News Today News Update bd news all bangla
Recent Photos and Videos

Web Statistics