Column



নরমপন্থা চলবেনা সন্ত্রাস রুখতে
নরমপন্থা চলবেনা সন্ত্রাস রুখতে
সরকার-নিয়ন্ত্রিত বিমান বাংলাদেশের এক পাইলটকে ৯/১১ সন্ত্রাস-হানার কায়দায় প্লেন হাইজ্যাক করে ভয়ানক নাশকতা ঘটানোর পরিকল্পনায় জঙ্গিদের সংগে চক্রান্তে যুক্ত থাকার অভিযোগে গত ৩১শে অক্টোবর গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী।

ঐ পাইলট, সাব্বির ইমাম, এবং আরও তিনজন জঙ্গি সংগঠন জামায়তুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ ( জে এম বি) -এর সঙ্গে  যোগাযোগ থাকার দায়ে এখন আটক আছেন।  গত বছর হোলি আর্টিজান কাফে দখল করে বিদেশি সহ ১৮ জন মানুষকে হত্যার জন্য দায়ী এই সংগঠনটি।

       

দেশের অন্যতম সেরা নিরাপত্তাবাহিনী র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের বক্তব্য, সরকারের উচ্চপদস্থ আমলা এবং রাজনৈতিক নেতাদের বাড়ির সঙ্গে প্লেনের ধাক্কা লাগানো  অথবা যাত্রীদের পণবন্দী করে রাখার ছক কষেছিল সাব্বির জে এম বি -র জঙ্গিদের সঙ্গে। ১৯১৪ সাল থেকে বিমান চালকের পেশায় থাকা সাব্বির সবে, অর্থাৎ,  অক্টোবরের ৩০ তারিখে যাত্রীসহ কোনও একটি বোয়িং ৭৩৭ চালিয়েছে। কোনও এক সময় জে এম বি -র কাছে সন্ত্রাসবাদের দীক্ষায় দীক্ষিত হয়ে গিয়েছিল সে।

 

জে এম বি -র সাম্প্রতিক হানাগুলি -- ২০১৬ সালের ১ লা জুলাই ঢাকার আর্টিজান বেকারি আক্রমণ, যাতে বহু মানুষ নিহত হয়েছিলেন, তার পরের সপ্তাহেই, ৭ ই জুলাইতে ঈদের সমাবেশের উপর হানা এবং ডিসেম্বরের ১৪ তারিখে পুলিশি হানার সময় এক মহিলা এবং এক কিশোরের নিজেদের বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া- এ সব থেকে বোঝা যায় যে, খুব দ্রুত এই সংগঠনটি বেড়ে উঠছে এবং নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে।
জামাত-এ-ইসলামি এবং তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্র শিবিরের চরমপন্থী সদস্যদের নিয়ে গড়া জে এম বি -র একমাত্র লক্ষ্য  বাংলাদেশে তালিবান মডেলে ইসলামি বিপ্লব ঘটানো। ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে  নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও দেশজুড়ে যুগপৎ বোমা বিস্ফোরণ এবং অন্যান্য হিংসাত্মক কাজকর্ম চালিয়েছে এই জে এম বি। এরাই বাংলাদেশে আত্মঘাতী জঙ্গিহানার প্রচলন করে, যা এখনও চলছে।

 

জে এম বি -র সাম্প্রতিক হানাগুলি -- ২০১৬ সালের ১ লা জুলাই ঢাকার আর্টিজান বেকারি আক্রমণ, যাতে বহু মানুষ নিহত হয়েছিলেন, তার পরের সপ্তাহেই, ৭ ই জুলাইতে ঈদের সমাবেশের উপর হানা এবং ডিসেম্বরের ১৪ তারিখে পুলিশি হানার সময় এক মহিলা এবং এক কিশোরের নিজেদের বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া- এ সব থেকে বোঝা যায় যে, খুব দ্রুত এই সংগঠনটি বেড়ে উঠছে এবং  নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে।

শুধুমাত্র নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এই জঙ্গি সংগঠনকে আটকানো সম্ভব নয়। এই দলের পৃষ্ঠপোষক এবং পরামর্শদাতাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা এবং এদের অর্থের উৎসগুলিকে বন্ধ করা দরকার। তা না হলে যে ভয়ানক বিপদ জে এম বি নিয়ে এসেছে দেশের সামনে, তা চলতেই থাকবে।

 

জে এম বি -র পাক্তন আমির সাইদুর রহমান ২০১০ সালে তাঁর গ্রেপ্তারির পর সংগঠনের ;কার্যপদ্ধতি এবং অর্থাগমের উৎস সম্পর্কে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর জবানবন্দী অনুসারে, জে এম বি -র কর্মীরা শ্রীলংকার তামিল টাইগারদের কাছ থেকে 'অ্যাকশন'- এর পদ্ধতিপ্রকরণ শিখেছে। এদের থেকে বিস্ফোরক এবং অস্ত্র তৈরি এবং সে সব ব্যবহারের পাঠও নিয়েছে জে এম বি -র জঙ্গিরা।

 

তিনি আরও জানিয়েছেন, জে এম বি আল কায়দার আদর্শ অনুসরণ করে চলে  এবং বাংলাদেশে আল কায়দার ভিত্তি শক্ত এবং বিস্তৃত করতে কাজ করছে তারা। তিনি এ কথাও বলেছেন যে, ২০১০ সালে নিরাপত্তারক্ষীদের নাগালের বাইরে সুন্দরবনের দুর্গম এলাকায় জে এম বি -র লোকেরা তিনটি রকেট লঞ্চার থেকে পরীক্ষামূলকভাবে রকেট ছুঁড়েছিল। এই ব্যক্তি এ কথাও প্রকাশ করেছিল যে, জে এম বি -র সদস্যরা এমন বোমা তৈরি করা শিখেছে,  জলের সংস্পর্শে এলেও যার বিস্ফোরণ হয় এবং  দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা জে এম বি -র গোপন ডেরাগুলিতে মজুত আছে সেই সব বোমা।

 

জে এম বি -র আর্থিক শক্তির উৎস সম্পর্কে আইনরক্ষকদের ঘোর দুশ্চিন্তা। সাইদুরের কথা অনুযায়ী,  এই সংগঠনের যা  মাসিক আয়, তার থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা আসে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ইটালি, কানাডা, মালয়েশিয়া এবং মধ্যপ্রাচের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী সমর্থক-দরদীদের কাছ থেকে। এ ছাড়া বিভিন্ন  আন্তর্জাতিক এন জি ও থেকেও জে এম বি-র কাছে আর্থিক সাহায্য আসে বলে খবর। 

 

এ ছাড়াও, জে এম বি -নিয়ন্ত্রিত ট্যাক্সি ক্যাব, সি এন জি-তে চলা তিন চাকার গাড়ি, ভ্যান এবং রিকশা চালকদের কাছ থেকেও বিপুল অর্থাগম হয় এই দলের। সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশে জে এম বি সদস্যরা এই সব গাড়িগুলি চালায়। এ ভাবে তারা পরিশ্রমসাধ্য কাজেও অভ্যস্ত হয়। নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল রেলেশনস-এর  অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ জঙ্গি কার্যকলাপের উপর গবেষণার জন্য বড় রকমের লগ্নি করার উপরে জোর দিয়েছেন। এর কারণ অর্থসরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য জঙ্গিরা এখন অর্থ পাচারের মত পুরনো পদ্ধতিগুলি ছেড়ে এখন নতুন নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করছে।

 

জে এম বি -র প্রতিষ্ঠাতা শেখ আবদুর রহমান, তার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড বাংলা ভাই এবং দলের চার জন রিজিওনাল কমান্ডারকে জিহাদের নামে  হিংসাত্মক ঘটনা ঘটানোর জন্য মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল ঢাকার আদালত।  এর পর যুদ্ধাপরাধের দায়ে বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজাপ্রাপ্ত জামাতের প্রাক্তন এম পি এবং তাত্ত্বিক নেতা মৌলানা দেলোয়ার হোসেন সাইদি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে  এই জঙ্গিদের মৃত্যুদণ্ড  কার্যকর না করার জন্য অনুরোধ করে বলেন এদের বাস্তবক্ষেত্রে 'সম্পদ' হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। খালেদা জিয়া সরকারের মেয়াদ শেষ হলে সামরিক সমর্থনে আসা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসে এদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।

 

শুধুমাত্র নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এই জঙ্গি সংগঠনকে আটকানো সম্ভব নয়। এই দলের পৃষ্ঠপোষক এবং পরামর্শদাতাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা এবং এদের অর্থের উৎসগুলিকে বন্ধ করা দরকার। তা না হলে যে ভয়ানক বিপদ জে এম বি নিয়ে এসেছে দেশের সামনে, তা চলতেই থাকবে। 




Video of the day
Ekattor tv News today 16 january 2018 Bangladesh Latest News Today News Update bd news all bangla
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics