Column



আত্মপক্ষ সমর্থনে খালেদা জিয়ার বিবৃতিতে বিভ্রান্ত হবেনা মানুষ
আত্মপক্ষ সমর্থনে খালেদা জিয়ার বিবৃতিতে বিভ্রান্ত হবেনা মানুষ
জিয়া অরফ্যানেজ ট্রাস্ট গ্রাফট মামলা সম্পর্কে গত ১৬ ই অক্টোবর ঢাকা আদালতে দাঁড়িয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে গিয়ে বি এন পি-র প্রধান খালেদা জিয়া বলেছেন এই মামলা মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে।

"আমার বিরুদ্ধে যত মামলা আনা হয়েছে, সবই মিথ্যা। আমি কী অপরাধ করেছি যার জন্য আমাকে বার বার আদালতে আসতে হচ্ছে ? আমি চাই গণতন্ত্র  এবং মানুষের অধিকারকে পুনরুদ্ধার করতে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে। এটা কি কোনও অপরাধ, যার জন্য আমাকে এতগুলো মামলায় জড়িয়ে হয়রানি  করা হচ্ছে ?" তিনি বলেছেন।

 

জিয়া অরফ্যানেজ ট্রাস্ট নাম দিয়ে একটি ভুয়ো দাতব্য সংস্থা গঠন করে ২.১০ কোটি টাকা তছরুপ করেছেন বলে অভিযুক্ত হয়েছেন খালেদা জিয়া এবং তারিক রহমান। ১৯৯১ সালে ইউনাইটে সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ১,২৫৫,০০০ মার্কিন ডলারের, সে সময়কার বিনিময় মূল্যে যা ছিল ৪.৪৫ কোটি টাকার সমান অনুদান আসে প্রধানমন্ত্রীর অরফ্যানেজ ফান্ডের নামে। টাকা আসার অল্প কিছুদিন আগেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গঠন করেছিলেন এই ফান্ড।
জিয়া অরফ্যানেজ ট্রাস্ট নাম দিয়ে একটি ভুয়ো দাতব্য সংস্থা গঠন করে ২.১০ কোটি টাকা তছরুপ করেছেন বলে অভিযুক্ত হয়েছেন খালেদা জিয়া এবং তারিক রহমান। ১৯৯১ সালে ইউনাইটে সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ১,২৫৫,০০০ মার্কিন ডলারের, সে সময়কার বিনিময় মূল্যে যা ছিল ৪.৪৫ কোটি টাকার সমান অনুদান আসে  প্রধানমন্ত্রীর অরফ্যানেজ ফান্ডের নামে। টাকা আসার অল্প কিছুদিন আগেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গঠন করেছিলেন এই ফান্ড।

 

অ্যান্টি করাপশন কমিশন ২০০৮ সালের ৩রা জুলাই  রমনা থানায় জিয়া অরফ্যানেজ ট্রাস্ট সংক্রান্ত অভিযোগটি দায়ের করেছিল। এতে বলা হয়েছিল, খালেদা জিয়া, তাঁর জ্যোষ্ঠ পুত্র তারিক রহমান এবং আরও চার জন একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে  অনাথদের জন্য আসা অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

 

এই মামলার শুনানি অন্য আদালতে স্থানান্তরিত করার জন্য যে আবেদন খালেদা জিয়া করেছিলেন, সুপ্রিম কোর্ট তা খারিজ করে দেওয়ায় তাঁর দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং শাস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে। এর আগে এই একই পিটিশন হাইকোর্ট নাকচ করে দিয়েছিল।

 

দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বেশ কয়েকবছরের কারাবাস হতে পারে। দেশের আইন অনুসারে, দু' বছর কারাদণ্ড হলেই সংসদীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা চলে যায়।  খালেদা জিয়া এবং তাঁর পুত্র যদি অপরাধী প্রমাণিত হন এবং তার ফলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার হারান, তাহলে খুব সম্ভাবনা, বি এন পি এবং তার সমর্থকরা আদালতের সেই রায় নিয়ে বিরাট হৈ চৈ বাধিয়ে দেশজুড়ে তাণ্ডব শুরু করবে।

 

মামলা শুরু হওয়ার পর নভেম্বরের ২ তারিখে আদালতে খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন যে, শেখ  হাসিনা সরকার তাঁকে রাজনীতি এবং নির্বাচন থেকে  সরিয়ে রাখার চক্রান্ত করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভিন্ন মামলায়   জড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু তিনি এ কথা বললেন না যে, ২০০৮ সালে এই মামলা দাখিল করেছিল তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, যখন শেখ হাসিনা আদৌ ক্ষমতায় ছিলেন না।

খালেদা জিয়ার নাটক অথবা তাঁর রাজনৈতিক বিবৃতিতে আদালত ভূলবেনা। এ সবই জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ যথেষ্ট পরিণত। কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন করে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ করে তাঁদের ভোলানো যাবেনা।

 

"আমাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিয়ে পরবর্তী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অযোগ্য ঘোষণা করার অসৎ রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি নিয়ে নীল নকশা তৈরি করেছে ক্ষমতাসীন মহল," ট্রায়াল  কোর্টে দাঁড়িয়ে বলেছেন খালেদা জিয়া।

 

গত ছ'বছরে ১৪৩ বার শুনানির সময় অনুপস্থিত থেকে এবং লন্ডনে তিন মাস কাটিয়ে ফেরার পর অবশেষে তিনি ১৯ অক্টোবর আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিন নিয়েছেন।  তিনি আদালতে দোষী প্রমাণিত হওয়ার ভয় পেয়েছিলেন, তাই লন্ডন থেকে দেশে ফেরার দিন বারংবার পিছিয়ে দিচ্ছিলেন।

 

"সরকারের উচ্চ পদাধিকারীদের কাজকর্ম এবং প্রচেষ্টা পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে যে, আমাকে সুবিচার পেতে দেওয়া হবেনা। এ বিষয়ে জনগণের ধারণাও তাই," তিনি আদালতে বলেন।

 

আর একটি ঘটনায় খালেদা জিয়া অন্য একটি মামলা-'জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট করাপশন' মামলার উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন। ক্ষমতার অপব্যবহার ঘটিয়ে এই ট্রাস্টের জন্য অজ্ঞাত উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহের অভিযোগে  খালেদা জিয়া এবং তাঁর পুত্রের বিরুদ্ধে এই মামলা করেছে এ সি সি ।

 

এই মামলার ন'জন সাক্ষীকে যাতে তাঁর উকিল পালটা জেরা করতে পারেন, তার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া। আদালত অবশ্য জানিয়ে দিয়েছে যে বি এন পি নেত্রীর পুত্র তারিক রহমানের বিরুদ্ধে শুনানি চলার সময় এই সব সাক্ষীদের একবার জেরা হয়ে গিয়েছে, সুতরাং তাঁদের  আবারও জেরা করার কোনও প্রয়োজন নেই।

 

আদালতে হাজির হয়ে খালেদা জিয়া বলেন, তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বহু মামলা আনা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।  নাটকীয়ভাবে অশ্রুবিসর্জন করে আদালতকে তিনি জানান কীভাবে কয়েক দশকের বাসস্থান ক্যান্টনমেন্টের বাসভবন থেকে তাঁকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

 

তিনি এ কথাও বলেন, আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও দূর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, জবরদস্তি অর্থ আদায় এবং অনিয়মের অভিযোগে অনেকগুলি মামলা আছে। "কিন্তু হাসিনার সৌভাগ্য যে, আমার মত তাঁকে আদালতে এসে দাঁড়াতে হয়নি।"

 

তিনি বলেন, তিনি নিজেকে একজন সাধারণ মানুষ বলেই মনে করেন। কিন্তু নিজের সীমিত ক্ষমতা, মেধা এবং জ্ঞানকে দেশ, দেশের মানুষ এবং তাদের কল্যাণে তিনি নিয়োজিত করেছেন।

 

বস্তুতপক্ষে, আত্মপক্ষ সমর্থনে এই যে সব কথা তিনি আদালতে বলেছেন, তার সঙ্গে মামলার কোনও সম্পর্ক নেই। আসলে এগুলি সব রাজনৈতিক বিবৃতি, আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের ভাষা নয়।

 

বরং প্রাসঙ্গিক হত, যদি খালেদা জিয়া আদালতকে জানাতেন, কীভাবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি এবং তাঁর পুত্র বিশাল সম্পত্তি করেছেন। এর আগে একবার তিনি বলেছিলেন তাঁর স্বামী, দেশের প্রথম সামরিক একনায়ক, জেনারেল জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর নাকি তাঁর কাছে শুধু একটি ভাঙ্গা সুটকেস পড়েছিল।

 

খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র অর্থ পাচারের উদ্দেশ্যে দূর্নীতি এবং জালিয়াতি করার জন্য মামলা থেকে বাঁচতে  পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। একই উদ্দেশ্যে অসাধু কাজকর্ম করেছিলেন  খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে  আরাফত রহমান কোকো। তিনি সম্প্রতি মারা গেছেন।

 

খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন (২০০১-২০০৬) তারিক তাঁর কিছু বিশ্বস্ত অনুচর এবং গুন্ডার সাহায্যে হাওয়া মহল থেকে প্রকৃতপক্ষে এক সমান্তরাল প্রশাসন চালাতেন। তাঁর মা'র পদমর্যাদার সুযোগ নিয়ে  দেশের মধ্যে সব থেকে ক্ষমতাবান এবং দূর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি হয়ে উঠেছিলেন তারিক। বিচার এড়াতে চিকিৎসার অজুহাত দিয়ে  ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে এই ব্যক্তি লন্ডনে বসে রয়েছেন।

 

এর আগে, ২০১১ সালের ২৩শে জুন,  ঢাকার একটি আদালত সিঙ্গাপুরে ২০ কোটি টাকা পাচারের দায়ে আরাফত রহমান কোকোর অনুপস্থিতিতেই তাঁকে ছয় বছরের সশ্রম কারাদন্ড এবং  ৩৮.৮৩ কোটি টাকা জরিমানা করার আদেশ ঘোষণা করেছিল। ২০১৩ সালের ২৭শে অগাস্ট বাংলাদেশের প্রেস প্রথম পাতায় একটি খবর ছাপে। তাতে বলা হয়েছিল, সিঙ্গাপুরে কোকোর পাচার করা অর্থের ৭.৪ কোটি টাকা এ সি সি ফিরিয়ে এনেছে। এটি ছিল দ্বিতীয় কিস্তি। এর আগে, ২০১২ সালের ২২শে নভেম্বর এ সি সি পাচার করা ওই অর্থের প্রথম কিস্তি- ১৩.৬ কোটি টাকা পেয়েছিল।

 

খালেদা জিয়ার নাটক অথবা তাঁর রাজনৈতিক বিবৃতিতে আদালত ভূলবেনা। এ সবই জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ যথেষ্ট পরিণত। কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন করে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ করে তাঁদের ভোলানো যাবেনা। 




Video of the day
Morning Live Bangladesh TV News BD 16 December 2017 Bangla News 24 TV Online Bangla TV News
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics