Bangladesh

পদ্মায় দুর্নীতির প্রমাণ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানালেন মন্ত্রিসভা

পদ্মায় দুর্নীতির প্রমাণ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানালেন মন্ত্রিসভা

| | 13 Feb 2017, 06:26 am
ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ১৩ঃ মন্ত্রিসভা সোমবার পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের তোলা অভিযোগ কানাডার আদালতে প্রমাণিত না হওয়ার ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এই বিষয় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলবার সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলাম বলেছেনঃ "এই ব্যর্থতার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অনেক উজ্জ্বল হয়েছে।"

উনি বলেনঃ "সেই জন্য মন্ত্রিসভা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেছে।”

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার শেষে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন যে ওনারা সততা ছিলেন বলেই বিশ্ব ব্যাংকের করা অভিযোগের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাতে পেরেছিলেন।

কানাডার একটি আদালত এই প্রকল্পে আনা অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন।

 

দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ  তুলে এর আগে এই প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন স্থগিত ও পরে বাতিল করেছিলেন বিস্ব ব্যাংক। প্রসঙ্গত এই বিষয় আগে চুক্তি করা হয়েছিল।

 

"আমাদের কারণে বাংলাদেশের মানুষ এতটুকু লজ্জায় পড়তে পারে বা বাংলাদেশের মানুষের কোনো রকম মান- সম্মান ক্ষুন্ন হবে, অন্তত সেই কাজ আমাদের পরিবার, শেখ মুজিবের পরিবার এটা কোনো দিনও করবে না," হাসিনা একটি অনুষ্ঠানে এই কথাগুলি বলেছেন।

 

দেশের মানুষকে সেবা করবেন এমন ভেবেই হাসিনা কাজ করেন বলে জানান।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেনঃ "আপনাদের দোয়া চাই, মান-সম্মান নিয়ে যেন চলতে পারি।"

 

উনি বলেনঃ "সততার সেই শক্তি ছিল বলেই চ্যালেঞ্জ নিতে পেরেছিলাম।”

 


পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে বিশ্ব ব‌্যাংক অভিযোগ তোলার পরে যে মানুষেরা দুর্নীতির কথা বলেছিলেন তাদের উচিত এখন বাংলাদেশের সরকারের কাছে ক্ষমা চাওয়া, বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়।

 

কানাডার আদালতে এই প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নাকচ হয় গেছে।

 

তারপরেই, নিজের ফেসবুক পেজে, জয় এই মন্তব্য করেছেন।

 

"কানাডার কোর্ট পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলায় প্রকল্পটিতে কোন দুর্নীতির প্রমাণ পায়নি এবং সকল অভিযোগ বাতিল করে দিয়েছে। বিচারক বলেছেন "গাল-গল্প ও গুজব" এর উপর ভিত্তি করে সাক্ষ্য তথ্য সাজানো হয়েছে। অন্য কথায় বলতে গেলে, প্রসিকিউশন মামলা সাজিয়েছিল," উনি লেখেন।

 


জয় বলেনঃ "প্রমাণ ছিলো বিশ্বব্যাংকের মনগড়া। আমি নিজে এই সাক্ষ্য তথ্যর পুরো উপাখ্যান প্রত্যক্ষ করেছি। এটা পুরোপুরি সাজানো ছিলো কারণ এতে সুনির্দিষ্ট কোন বিবরণ ছিলো না, শুধু একটি অজ্ঞাত সূত্রের কথা বলা হয়েছে যার পরিচয় প্রকাশিত হয়নি, এমনকি কানাডার আদালতেও নয়। আসলে, বিশ্ব ব্যাংক আদালতে লড়েছিলো এবং আরও তথ্য প্রমাণ না দিয়েই সার্বভৌম অনাক্রম্যতা দাবী করে আসছিলো। তাই তারা অভিযোগ দায়ের করেছিলো ঠিকই কিন্তু তাদের দাবীর স্বপক্ষে কোন প্রমাণ উপস্থাপণ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিলো!"


"বিশ্ব ব্যাংক এই ষড়যন্ত্র করেছিলো আমার মায়ের বিরুদ্ধে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর সম্মানহানির উদ্দেশ্যে। এরপর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বিশ্ব ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছিলো পদ্মা সেতুর ফান্ড যেনো বাতিল করার মাধ্যমে আমাদের সরকারকে শাস্তি দেয়া হয়। সে তা করেছিলো কারণ মুহাম্মদ ইউনূস বারবার তাকে বলছিলো আমার মায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।আমি নিজে এই উপাখ্যানের সময় বেশ কয়েকবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে হিলারি ক্লিনটনের তফর থেকে আমাদের সরকারের প্রতি হুমকি পেয়েছি, যেনো ইউনূসকে মোকাবেলা না করা হয়," উনি বলেন।


উনি বলেনঃ "তার কারণে, বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বন্ধ করতে চেয়েছে যা কিনা কোটি কোটি লোকেদের উপকারে আসবে এবং আমাদের দক্ষিণ পশ্চিম অংশের মানুষের জীবন বদলে দিবে। ইউনূস ইচ্ছাকৃতভাবে চেষ্টা করেছে বিদেশী শক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের ক্ষতি করতে।"


জয় বলেনঃ "এদের সবার উচিৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর আওয়ামী লীগ সরকার এবং সকল সম্মানিত লোক যাদের তারা আঘাত করেছে তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের কাছে এদের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ।"