Column
জামাতের হরতালঃ মানুষের প্রশ্ন

15 Aug 2013

#

বড় বিপদের মুখোমুখি হয়েছে জামাত। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের হুকুমের বিরুদ্ধে জামাতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লার আপীলের উপর সুপ্রিম কোর্টের অ্যাপেলেট ডিভিশনের চূড়ান্ত রায় ১৫ই সেপ্টেম্বরের পর যে কোনও দিন ঘোষিত হবে। িইতিমধ্যেই সম্ভাব্য রায় নিয়ে একটি সংবাদপত্রের লেখা দেখে জামাত হতাশা প্রকাশ করেছে। বিপদের উপর বিপদ, শীর্ষ নেতারা সবাই যখন যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত, তখন হাই কোর্টের আদেশে নির্বাচন কমিশনে দলের রেজিস্ট্রেশনও বাতিল হয়ে গেছে।আর এর ফলে জামাতের নির্বাচনী ভবিষ্যত বলতেও কিছু থাকলনা।

 বি এন পি-র নেতৃত্বাধীন ১৮টি রাজনৈতিক দলের জোটের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে কাজ করা ছাড়াও বর্তমানে চলতে থাকা যুদ্ধাপরাধ বিচার বন্ধ করে দিয়ে বিচারাধীন দলীয় নেতাদের মুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে চলেছে জামাত। ক্ষমতাসীন আওয়ামি লীগ এবং বিরোধী বি এন পি-র মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাতের ফলে দেশে যে অশান্তি ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে, তা এবারের ঈদের উৎসবকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে। এরই মধ্যে এক হিংসাত্মক কর্মসূচী নিয়েছে জামাত।এর ফলে ক্রমেই আরও বেশি অগ্নিগর্ভ এবং অনিশ্চিত হয়ে উঠছে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। একই সাথে হেফাজত-এ-ইসলাম চেষ্টা করে চলেছে তাদের দাপট দেখানোর। অতি সক্রিয় হয়ে ওঠা হেফাজতের সেক্রেটারি জেনারেল মওলানা জুনায়েদ বাবুনগরি ঈদের আগে একের পর এক ইফতার পার্টিতে যোগ দিয়ে হিংসাত্মক কাজকর্ম চালানোর উদ্দেশ্যে মানুষকে জড়ো করে প্ররোচিত করেছেন। এর মধ্যে পাঁচটি শহরে পুর নির্বাচনের ফলাফলে ১৮ দলের জোটের হয়ে তুমুল প্রচার করা হেফাজতের কর্মীরা উল্লসিত। হেফাজতের কার্যকলাপ দমন করতে নিরাপত্তা বাহিনীর বাড়াবাড়ি নিয়ে মানবাধিকার রক্ষা সংস্থাগুলির বিরূপ মন্তব্য এবং তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রচার তাদের আরও উৎসাহিত করেছে। 

 
নির্বাচন কমিশনে দলের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার জন্য আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে অগাস্টের ১৩ এবং ১৪ তারিখ দেশব্যাপী দুদিনের যে হরতালের ডাক দিয়েছিল জামাত-এ-ইসলামি, বিরোধী জোটের নেতৃত্বে থাকা বি এন পি কিন্তু প্রকাশ্যে তাকে সমর্থন জানায়নি। অতীতেও বিভিন্ন বিষয়ের উপর জামাতের ডাকা হরতাল তাদের সমর্থন পায়নি। ঘন ঘন হরতাল নিশ্চিতভাবেই দেশের উন্নয়নের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।শিশু মৃত্যুর হার কমানো এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের মত বেশ কিছু সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প রুপায়নে বাংলাদেশ সরকারের সাফল্য ইতিমধ্যেই ব্রিটিশ দৈনিক, ফাইনান্সিয়াল টাইমসের একটি নিবন্ধে প্রশংসিত হয়েছে।কিন্তু একের পর এক হরতাল এবং সেইসঙ্গে ধ্বংসাত্মক কাজকর্ম, ব্যাপক হিংসা আর রক্তপাত যেটুকু অগ্রগতি এপর্যন্ত করা গেছে, তা নষ্ট করে দেশকে পিছনের দিকে ঠেলে দেবে।
 
বর্তমান সরকার এবং তার ঠিক আগের তদারকি সরকারের পুলিশের ধরপাকড়ের ফলে জামাতের মদতপুষ্ট দেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি অনেকটাই দূর্বল হয়েছে। কিন্তু জামাত ও তাদের ছাত্র সংগঠন শিবির কোয়ামি মাদ্রাসা-ভিত্তিক উগ্র ধর্মীয় সংগঠন হিফাজত-এ-ইসলামের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশে চরম হিংসা আর বর্বরতা চালাচ্ছে। উদ্বিগ্ন দেশের মানুষ জানতে চান তিন সংগঠনের এই বিপজ্জনক জোট আর একটি জামায়িতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশে পরিনত হবে কি না। দেশের মানুষ এ ব্যাপারেও ক্ষুব্ধ যে, পাকিস্তানের জামাত রাজাকার, আও বদর এবং আল শামসের মত বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিগুলির সমর্থনে বিবৃতি দিয়েছে, যা এ দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপেরই সামিল। বাংলাদেশের জামাত যদি বিশ্বাস করে যে, দেশকে আবার স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে, তবে তারা দিবাস্বপ্ন দেখছে।



Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics