Column
চার বছরে বিরাট অর্থনৈতিক উন্নতি বাংলাদেশের

04 Nov 2013

#

উনিশশো একাত্তর সালের ১৬ই ডিসেম্বরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম এবং সেই সময় থেকে বিশ্বের মানচিত্রে সে জায়গা করে নিয়েছে।

 ১৪৭৫৭০ স্কোয়ার কিলোমিটার বিস্তৃত এই দেশে বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি।পৃথিবীর সবচেয়ে ঘন বসতিপূর্ন দেশগুলির একটি এই বাংলাদেশ। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বহু প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয় বাংলাদেশকে-- বিরূপ  আবহাওয়া এবং সাইক্লোন, টর্নাডো, প্রবল বৃষ্টিপাত ও বন্যার মত প্রাকৃতি বিপর্যয়--যা দেশের উন্নয়নে বাধা দেয়। গত দুই দশকে  প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে পৃথিবীতে যত মৃত্যু হয়েছে, তার ৬০ শতাংশই বাংলাদেশে। 

 
স্বাধীন বাংলাদেশে এপর্যন্ত ন\'বার সাধারন নির্বাচন হয়েছে। রাজনৈতিক দল ছাড়াও বিভিন্ন সময় এই দেশ সামরিক , একনায়ক এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনের সাক্ষী থেকেছে।বর্তমান রাজনৈতিক সরকার গঠিত হয় ২০০৯ সালের ৬ই জানুয়ারি। তার ঠিক আগে দু\'বছর ধরে দেশ শাসন করেছে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তারও আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত শাসন ক্ষমতায় থেকেছে নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা পেয়ে আসা বিএনপি-জামাত-এ-ইসলামি জোট সরকার। কিন্তু এই বিএনপি-জামাত সরকারের চরম দক্ষিনপন্থী ইসলামি ঝোঁক, যা দেশকে ইসলামি মৌলবাদের দোরগোড়ায় এনে ফেলেছিল, মানুষ গ্রহণ করতে পারেননি, কারণ তা তাঁদের অস্বস্তিতে রেখেছিল। ইসলামি ধর্মান্ধতা এই সময় দেশের প্রশাসনের ক্ষতি করে এবং  তার প্রভাব পড়ে বিচার ব্যবস্থার উপরেও। দেশ পিছনের দিকে হাঁটতে শুরু করে এবং এক বিপর্যয়ের সূচনা হয়। এই সময় বাংলা ভাইয়ের উত্থান এবং আত্মঘাতী মানব বোমার আমদানির ফলে সারা দেশ জুড়ে একই সময় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও চরম দূর্নীতি এবং অপরাধের ঘটনার সাক্ষী থেকেছে দেশ এই সময়। সংসদের জায়গায় হাওয়া ভবনের ইচ্ছানুযায়ী চলতে থাকে দেশ।
 
এর পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়া এবং তাঁর দুই পুত্র, তারিক রহমান ও আরাফত রহমানকে দেশের সম্পত্তি আত্মসাতের দায়ে কারারুদ্ধ করা হয়। খালেদা জিয়ার দুই পুত্র এখনও বিদেশেই থাকেন। তাঁরা তাঁদের যাবতীয় অপরাধের কারণে বাংলাদেশে ফিরতে পারছেননা।
 
দু\'হাজার আট সালের ডিসেম্বর মাসে নবম সংসদীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা পেয়ে আওয়ামি লীগ  ক্ষমতায় ফেরে এবং দেশে অপরাধের সংখ্যা অনেক কমে যায়। বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই সময় চোখে পড়ার মত উন্নতি ঘটে।হাতরিঝিল প্রকল্প রূপায়ণ এই আমলের একটি বড় কাজ। তবে এই আমলের  সবচেয়ে বড় সাফল্য ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকার জন্য রাজাকার এবং অন্যান্য স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিগুলির বিচারের ব্যবস্থা করা
 
ঢাকার শাহবাগ চত্বরে দেশের মানুষ জড়ো হয়ে রাজাকার এবং একাত্তরের অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদন্ডের দাবি জানাতে থাকেন।স্বাভাবিকভাবেই এই দাবির তীব্র বিরোধিতা আসে জামাতের পক্ষ থেকে। মিত্র দল হিসেবে বিএনপি-ও জামাতের সমর্থনে দাঁড়ায় এবং তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে শাহবাগ আন্দোলনকে স্তব্ধ করা উদ্দেশ্যে দেশজুড়ে নামিয়ে আনে হিংস্র আক্রমণ। কিন্তু আওয়ামি লীগ সরকার জামাত-বিএনপি-র সহিংস প্রতিবাদকে উপেক্ষা করেই যুদ্ধাপরাধ বিচার অব্যাহত রেখেছেন।
 
আইনশৃঙ্খলার উন্নতির পরেই যে মানদন্ডে সাধারনত একটি সরকারের কাজের মূল্যায়ন করা করা হয়, সেই বিচারে আইনশৃঙ্খলার উন্নতির পরেই আসবে ্দেশের অর্থনীতি। রানা প্লাজা ধ্বসে পড়ার পর পরই দেশে ঘটে যায় আরও কিছু মর্মান্তিক ঘটনা। এর মধ্যে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে আসা একটি ভাল খবর প্রায় সবারই নজর এড়িয়ে গেছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ২০০০ সালে যেখানে ছ কোটি ত্রিশ লক্ষ মানুষ দারিদ্র সীমার নীচে বাস করতেন, সেখানে ২০১০০ সালে সেই সংখ্যা ২৬ শতাংশ  কমে দাঁড়িয়েছে চার কোটি ত্রিশ লক্ষে। এর কৃতিত্ব বর্তমান সরকারকেই দিতে হয় দারিদ্র দূরীকরণে তাদের অক্লান্ত চেষ্টার জন্য। ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও দারিদ্র সীমার নীচে বাস করা মানুষের সংখ্যা কমেছে ২৬ শতাংশ। দারিদ্র সীমার নীচে থাকা মানুষ তাঁরাই, যাঁদের দিনপ্রতি আয় দু ডলারের কম এবং খাদ্যে ক্যালোরির পরিমাণ দৈনিক ২১০০ গ্রামের কম।
 
ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সমীক্ষায় এ কথাও প্রকাশ পেয়েছে যে, এই সময়ে বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর হার কমেছে এবং স্বাক্ষরতা বেড়েছে। একই সাথে দেশের ৯৮ শতাংশ মেয়েই প্রাইমারি স্কুলের পড়ুয়া।সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর মধ্যে বৈষম্য দূর করা এবং দেশে শিক্ষা বিস্তারের যে চেষ্টা এই সরকার করেছে, তা-ই  এর কারণ বলা যায়। 
 
 
আগের বিএনপি-জামাত সরকারের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে এই সরকারের আমলে কর্মসৃষ্টি বহুগুন বেড়েছে, আর স্বনিযুক্তি এবং আত্মনির্ভরতার বৃদ্ধি দশ শতাংশ। পরিবার পিছু রোজগেরের সংখ্যা বেড়ে একাধিক হয়েছে এবং ২০০২ থেকে ২০১২-এই দশ বছরে তাদের গড় আয় বেড়েছে ৫।৫ শতাংশ। দ্য নিউ এজ, ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল, দ্য ইকনমিস্ট এবং আরও অনেক আন্তর্জাতিক পত্রিকায় বলা হয়েছে  দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে সবথেকে বেশি  অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশে।  
 
 
কৃষি, পরিবেশ রক্ষা, বিপর্যয় মোকাবিলা, মানব সম্পদ উন্নয়ন প্রভৃতি নানা ক্ষেত্রেও গত পাঁচ বছরে অনেকটা এগিয়েছে বাংলাদেশ। ২০০০ সালে দারিদ্র সীমার নীচ থাকা মানুষদের মাত্র দশ শতাংশকে বৈদ্যুতিকরণ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছিল। ২০১২ সালে সেই ক্ষেত্রেই ৪৬ শতাংশ গরিব মানুষকে এই প্রকল্পভুক্ত করা হয়েছে।
 
শেষ, অথচ গুরুত্বপূর্ন তথ্য, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্কের অর্থনীতিকরা মনে করছেন, অদূর ভবিষ্যতেই বাংলাদেশ \'সেভেন পয়েন্ট ক্লাব\'-য়ের (সাত শতাংশ অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকারী দেশগুলি) সদস্য হয়ে যাবে । তা হলে তা হবে অত্যন্ত গর্বের বিষয়।



Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics