Column
ধরা পড়ে গেছে জামাত-শিবিরের নয়া কৌশল

19 Nov 2013

#

স্কুল-কলেজের সরলমতি ছাত্রদের বিপথগামী করার যে নতুন কৌশল নিয়েছে জামাত ও ইসলামি ছাত্র শিবির,

 মানুষের কাছে এখন তা ধরা পড়ে গেছে। সম্প্রতি ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা জামাত-শিবিরের নিয়ন্ত্রণাধীন সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলিতে তাদের দলীয় কর্মীরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। উদ্দেশ্য, মিথ্যা প্রচারের মাধ্যমে ধর্মীয় আবেগ খুঁচিয়ে জাগান এবং এই নিরাপরাধ কিশোর-তরুণদের দলের সমর্থক অথবা কর্মীতে পরিণত করা। এর আগেও \'ওয়াজ মেহফিল\' সংগঠিত করে এইসব অতি সরল তরুণদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিল জামাত-শিবির, তবে তা ব্যর্থ হয়েছিল। 

 
১৯৪১ সালে জন্ম  হলেও জামাত কিন্তু এতদিন ধরে ধর্মীয় আবেগ জাগিয়ে তুলে মানুষকে প্রভাবিত করতে পারেনি। এই কারনে দীর্ঘকাল ধরে কোনও নির্বাচনেই তারা তিন শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। এর কারণ, মানুষ বোঝেন যে, জামাত নিজেদের ধর্মীয় সংগঠন বলে দাবি করলেও আসলে তা নয়। জামাতের প্রধান নিজেই বলেছেন, নামাজ পড়া ইসলামের আসল জিনিষ নয়, তা শুধু একটি প্রশিক্ষণ।আসল উদ্দেশ্য ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা করা। অন্যদকে, শিবির বলে, যাঁরা প্রতিদিন নামাজ পড়েননা, ্তাঁদের জন্য সংগঠনে কোনও জায়গা নেই এবং মেসে তাঁদের খাবার দেওয়া হবেনা। এ সব আসলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা।
 
জামাত শুধুমাত্র ছাত্রদেরই দলে টানার চেষ্টা করে। তাদের কাছে মহিলাদের নেতৃত্ব \'হারাম\'। এই 
এই সংগঠন নারী শিক্ষা এবং ক্ষমতায়নের বিরুদ্ধে।  এরা চায় মেয়েরা থাকুক ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দী হয়ে। তার কারণ, শিক্ষিত হয়ে উঠলেই মেয়েরা মুক্তমনা এবং যোগ্যতাসম্পন্ন হয়ে উঠবে এবং জামাতের কৌশলে ভুলবেনা। তাই জামাত বলে থাকে যে, মেয়েদের কাজ হল শুধু সন্তান  উৎপাদন করা ও তাদের পরিচর্যা করা এবং ঘরকন্নার কাজ সামলানো। 
 
উনিশশো একাত্তর সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধিতা করা এই জামাতই মুক্তি যোদ্ধাদের উপর অমানুষিক অত্যাচার চালিয়েছিল। ওই সময় মানবতা বিরোধী অপরাধ করার দায়ে বহু জামাত নেতারই এখন বিচার চলছে। তাই যুদ্ধাপরাধ বিচার বন্ধ করার উদ্দেশ্যে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে মত গঠনের মরীয়া চেষ্টা করছে সংগঠনটি। আর এই কাজ করতে গিয়ে তারা প্রচার করছে যে,  যুদ্ধাপরাধ বিচার আসলে বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মুছে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। কোরান ও ইসলামকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করা এই দলটি দেশের ভিতরে এবং বাইরে কোটি কোটি টাকা খরচ করে চলেছে যুদ্ধাপরাধ বিচার বন্ধ করার জন্য সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে। আর এই কাজে তাদের কাছে যে সব দেশ থেকে গোপনে অর্থ সাহায্য আসছে, তাদের মধ্যে আছে পাকিস্তান, যে পাকিস্তান বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে যে কোনও মূল্যে রুখতে চেয়েছিল। জামাতের আর একটি উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মধ্য পাকিস্তানপন্থী মনোভাব তৈরি করা, যাতে বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছাকাছি আসে। 
 
জামাত চাইছে মানুষ ভুলে যাক যে, স্বাধীনতার লড়াইকে দমন করতে এক সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে এক সময় তাদেরই কর্মীরা তিরিশ লক্ষ স্বাধীনতা সংগ্রামীকে হত্যা করেছিল, ধর্ষণ করেছিল তিন লক্ষ নারীকে। জামাত  মূলত পাকিস্তানি সংগঠন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে এদের নাড়ির যোগ এখনও ছিন্ন হয়নি। তাই যুদ্ধাপরাধে এখানকার জামাত নেতাদের বিচার পাকিস্তানের জামাত নেতাদের মনে সহানুভূতি জাগিয়ে তুলেছে এবং এই বিচার বন্ধ করতে বাংলাদেশ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে সেখানকার সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন ব্যাপারে নিঃসন্দেহে এটি একটি নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ। 
 
আর কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশে দশম সাধারন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের তাদের রাজনৈতিক পরিসর খুব দ্রুত ছোট হয়ে আসায় জামাত তাদের ভারত বিরোধী বক্তব্য আরও উচ্চগ্রামে নিয়ে গেছে, যা স্পষ্ট বোঝা যায় তাদের পত্র পত্রিকা এবং দল-নিয়ন্ত্রিত সোশাল নেটওয়ার্ক সাইট অথবা ব্লগ থেকে। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীদের গুলিতে নিহত ফেলানির কাঁটাতারে ঝুলন্ত দেহ অথবা বাংলাদেশী গোরু পাচারকারীদের নগ্ন করে বি এস এফ জওয়ানদের মারের ছবি নিয়মিতভাবে দেখা যায় এইসব সাইটগুলিতে। এই ধরণের ঘটনাগুলি নিন্দনীয়। কিন্তু মানুষের সত্যি জানারও দরকার আছে। সাধারনত এইসব দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাগুলি আইনভঙ্গকারীদের ক্ষেত্রেই ঘটে।নিরপরাধ বাংলাদেশী নাগরিককে কখনও এই ধরণের বর্বরতার শিকার হতে হয়নি। সর্বোপরি, একটি বিষয় পরিষ্কার করে দেওয়া দরকার। জামাত যখন বাংলাদেশে সরকারের শরিক ছিল, সীমান্তে এই ধরণের হত্যার ঘটনা কিন্তু তখনও ঘটেছে এবং সেই সময় তারা চুপ করে থেকেছে। যাই হোক, বাংলাদেশের মানুষ চান সীমান্তে এই ধরণের অর্থহীন হত্যা বন্ধ হোক।
বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভারত বিরোধী মনোভাগ জাগিয়ে তোলার যে চেষ্টা জামাত করছে, তারই অঙ্গ ভারতীয় জিনিষপত্র বয়কটের ডাক দেওয়া। তারা কি জানে, কি হবে এক দিনের জন্যেও ভারতের সীমান্ত \'সিল\' করে দিলে? সারা বাংলাদেশে তখন আলু, পেঁয়াজ, চিনি, নুন এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনষের তীব্র আকাল দেখা দেবে। কুরবানি বন্ধ করে দিতে হবে, কারণ এর জন্য প্রয়োজনীয় পশুর সত্তর শতাংশই আসে ভারত থেকে। বাংলাদেশ আমদানি নির্ভর দেশ। ভারতীয় জিনিষ বয়কট করা হলে বাংলাদেশ কি তার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষ অন্য দেশ থেকে আমদানি করতে পারবে? মানুষের ধর্মীয় আবেগে সুড়সুড়ি দিয়ে রাজনীতি করা সহজ। কিন্তু দেশ চালান সম্পূর্ন অন্য ব্যাপার। ধর্মীয় আবেগে হাওয়া দিয়ে কোনও  সমস্যার সমাধান হতে পারেনা। মানুষ কিন্তু সজাগ আছেন। তাঁদের ভুল পথে চালানর যে নতুন কৌশল জামাত নিয়েছে, তা কিন্তু তাঁরা বুঝে ফেলেছেন।



Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics