Bangladesh
যাত্রা শুরু করল নতুন সংসদ, সবাইকে নিয়ে একসাথে চলবার কথা জানালেন হাসিনা

Bangladesh Live News | @banglalivenews | 30 Jan 2019

New Bangladesh Parliament starts journey, Hasina pledges to work with all
ঢাকা, জানুয়ারি ৩০ঃ আজ থেকে বাংলাদেশের সংসদে এক নতুন সরকার নব যাত্রার শুরু করেছে ও প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন যে নির্বাচনে সকলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছে।

গত মাসের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে বিজয় লাভ করেন শেখ হাসিনা ও ওনার আওয়ামী লীগ।

 

বিরোধী জোট একবারেই দাঁত ফোটাতে পারেনি এই নির্বাচনের যুদ্ধে। এক কথায় বলতে গেলে উড়ে গেছে তারা।

 

আজ বুধবার একাদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে নিজের বক্তব্য রাখার সময় নির্বাচনের প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

 

আজকে শিরীন শারমিন চৌধুরী টানা তৃতীয় মেয়াদে স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন স্পীকার হিসেবে। আর এই পথে উনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয় লাভ করেন।

 

একইভাবে  নির্বাচিত হন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন ফজলে রাব্বী মিয়া।

 

নিজের বক্তব্যে হাসিনা আবার একবার সকলের সমান সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।

 

সংসদে সব দলের সদস্যরা যাতে সমান সুযোগ পান সেটা দেখতে হবে, হাসিনা বলেন।

 

হাসিনা বলেন সরকারী দল সব সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে।

 

"গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমালোচনা সব সময় গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী দল যথাযথভাবে সরকারের সমালোচনা করতে পারবে। এখানে কোনো বাধা দেওয়া হবে না," হাসিনা বলেন।

 

"অনেক ঘাত প্রতিঘাত চড়াই উতরাই পার হয়ে আমরা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে পেরেছি। এবারের নির্বাচনে সকলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। একটি সফল নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে," উনি বলেন।

 

নিজের বক্তব্যে হাসিনা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গড়ে তোলবার প্রতিশ্রুতি দেন।

 

গত ৩০ ডিসেম্বর ২৯৯ সংসদীয় আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে গাইবান্ধা-৩ আসনের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল। আর নির্বাচনের দিন ব্রাক্ষণবাড়িয়া-২ আসনের তিনটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত হওয়ায় ওই আসনের ফল ঘোষণা করা হয়নি। তবে এর মধ্যে ওই আসনের স্থগিত ভোট কেন্দ্রের নির্বাচন হয়েছে। এতে বিএনপির উকিল আবদুস সাত্তার বিজয়ী হয়েছেন।


একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২৫৭টি আসন। জাতীয় পার্টি পেয়েছে ২২টি এবং বিএনপি পেয়েছে ৬টি আসন। এ ছাড়া ওয়ার্কার্স পাটি পেয়েছে ৩টি আসন, গণফোরাম ২টি (এর মধ্যে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে একজন এবং গণফোরামের ‘উদীয়মান সূর্য’ প্রতীক নিয়ে একজন), বিকল্পধারা বাংলাদেশ ২টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ২টি, তরিকত ফেডারেশন ১টি, জাতীয় পার্টি (জেপি) ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩টি আসনে জয়ী হন।


নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল আইএসআইঃ


বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবারের সদস্য এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

কিন্তু পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের ওই পরিকল্পনা বানচাল করে দেয়া হয়। ঢাকা থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘ইকোনোমিক টাইমস’ এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে।


সূত্রের বরাত দিয়ে ইকোনোমিক টাইমসে মঙ্গলবারে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘বাংলাদেশ সরকার তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগীদের নিয়ে ওই হত্যা পরিকল্পনা বানচাল করে দেয়। পরিকল্পনাটি করেছিল পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই।’ হত্যাকা- পরিচালনার জন্য তারা বিপুল অস্ত্রও সরবরাহ করে।


প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ‘আইএসআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাভিদ মোক্তার ওই হত্যা পরিকল্পনার প্রধানের ভূমিকা পালন করেন। জেনারেল নাভিদ ছাড়াও আইএসআইয়ের বেশকিছু এজেন্ট ওই হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কিছু সদস্য এ পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। তবে পাকিস্তান সমর্থিত মৌলবাদী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হত্যা পরিকল্পনায় ছিল কিনা- তা জানা যায়নি।’


এক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘গ্রিসের পতাকাবাহী একটি জাহাজে করে একে-৪৭, কারবিন বন্দুক ও গ্রেনেড নিয়ে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের বন্দরে প্রবেশের পরিকল্পনা করা হয়। তবে ওই জাহাজটি মাঝপথে ডুবে যায়। ২০০৪ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন দল ক্ষমতায় থাকাকালীন যেভাবে ১০ ট্রাক অবৈধ অস্ত্র দেশে নিয়ে আসে, একইভাবে এসব অস্ত্র আনার ব্যবস্থা করা হয়।’


আরেকটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করার মাধ্যমে একটা অরাজক পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা করেছিল ষড়যন্ত্রকারীরা। জাহাজ থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকায় বোমা বিস্ফোরণেরও পরিকল্পনা ছিল তাদের।’


ইকোনোমিক টাইমসের ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাস ওই হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিল।’




Video of the day
More Bangladesh News
Recent Photos and Videos

Web Statistics