Column
সন্ত্রাসবাদীদের ফাঁদে পা দেওয়া নয়ঃ নির্বাচনে অংশ নিন

28 Nov 2013

#

জাতীয় নির্বাচনের জন্য দিন গোনা শুরু হয়ে গেছে।

 সংবিধান অনুযায়ী ২৭শে অক্টোবর থেকে ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন হওয়ার কথা। অন্যভাবে বলতে গেলে, ২৪ শে জানুয়ারির মধ্যে হতে হবে নির্বাচন। এই ৯০ দিনের মধ্যে ৩০টি দিন চলে গিয়েছে। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী এই সময়সীমার মধ্যে যদি নির্বাচন না হতে পারে, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ  অনিশ্চিত এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়বে। কিন্তু এই ব্যাপারে কোনও সমঝোতার লক্ষণ এখনও পর্যন্ত দেখা যাচ্ছেনা। নির্বাচন করার ব্যাপারে দেশের সরকার সংবিধানের সংশোধিত ধারা অনুযায়ী চলছে। অন্যদিকে বিরোধীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনও রাজনৈতিক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তারা অংশ নেবেনা। সর্বদলীয় সরকার অথবা তদারকি সরকার--কার অধীনে নির্বাচন হবে--এই এখন দু\'তরফের মধ্যে বিবাদের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ইতিমধ্যে এই ৩০ দিনের মধ্যে প্রথম ২০ দিনেই বিরোধীরা দু\'দফায় মোট ৬০ ঘন্টা হরতাল পালন করেছে এবং তারপরে আরও একটি হরতাল হয়ে গেছে।বহু মানুষের প্রাণ গিয়েছে এই হরতালের দিনগুলিতে। সাধারণ মানুষ চরম অসুবিধা এবং দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে জামাত বিএনপি-র একগুঁয়েমির পুরোপুরি সুবিধা নিয়ে চলেছে। তাদের সশস্ত্র এবং প্রশিক্ষিত কর্মীরা সম্পত্তি ভাঙচুর, হত্যা, এবং অগ্নিকান্ড ঘটিয়ে দেশে এক সন্ত্রাস এবং নৈরাজ্যের আবহ  তৈরি করেছে। শাসক এবং বিরোধী দলের মধ্যে যাতে  সমঝোতা এবং ঐকমত্য তৈরি হওয়ার সমস্নাত দরজা বন্ধ করতে যা যা করা সম্ভব, তাই করছে। মানুষও বুঝতে পারছেন যে, আলোচনার মধ্যে দিয়ে মীমাংসার যে কোনও সম্ভাবনা ব্যর্থ করে দিতে জামাত বদ্ধপরিকর।


 লাহোর থেকে প্রকাশিত ডেইলি নিউজ (নভেম্বর ৩)-য়ের একটি সাম্প্রতিক নিবন্ধে পাকিস্তানের মন্ত্রী ইশাক খান বাংলাদেশে বর্তমানে চলতে থাকা যুদ্ধাপরাধ বিচারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এর কারণ,ট্রাইব্যুনালের বিচারে তাঁর পারিবারিক বন্ধু সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরির প্রাণদন্ডের আদেশ হয়েছে। তিনি এও দাবি করেছেন যে, বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ পাকিস্তানের সমর্থক আছে। যুদ্ধাপরাধ বিচারের বিরোধিতা না করার জন্য বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকেও তিনি এক হাত নিয়েছেন।

বিএনপি, আওয়ামি লিগ এবং সুশীল সমাজের অনেক ব্যক্তি বিশ্বাস করেন যে, ১/১১-র সঙ্গে তুলনীয় পরিস্থিতি দেশে ফিরে আসতে পারে। এই দিনে দেশের সেনাবাহিনী বকলমে ক্ষমতা নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছিল। এবং তা হয়েছিল সংসদীয় নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য সর্বজনগ্রাহ্য এবং বিশ্বাসযোগ্য একটি ব্যবস্থা চালু করার ব্যাপারে দেশের প্রধান দু\'টি রাজনৈতিক দলের ঐক্যমতে পৌঁছোতে না পারায়  দেশে যে দীর্ঘস্থায়ী টালমাটাল অবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার জন্য। 

এবারেও যদি বিএনপি-জামাত জোট সেই ধরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়, যেখানে অগণতান্ত্রিক শক্তিগুলি মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে, তা হলে তারা ভুল করবে। এই ধরনের পরিস্থিতের সম্ভাবনা খুব ক্ষীন হয়ে গেছে। আর সে রকম কিছু হলেও অগণতান্ত্রিক শক্তিগুলি কিন্তু এমন কিছুই করবেনা যার থেকে বিএনপি-জামাত রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করতে পারে। 

নির্বাচনের ব্যাপারে সমঝোতায় আসা কিন্তু অসম্ভব মোটেই নয়, যদি দু\'পক্ষেরই আন্তরিকতা এবং সদিচ্ছা থাকে। এই ধরণের আন্তরিকতা এবং সদিচ্ছা থেকেই অতীতে খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা একই মঞ্চ থেকে কাজ করেছেন এবং তাঁদের যৌথ সংগ্রামের ফলেই এরশাদের একনায়কতান্ত্রিক শাসনের অবসান হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে দুই নেত্রীর মধ্যে সেই মানসিকতার অভাবই নির্বাচনের ব্যাপারে সহমত হও য়ার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে।  

সাম্প্রতিক অতীতে শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে অনেকগুলি পুরসভা নির্বাচন হয়ে গেছে এবং এই নির্বাচনগুলিতে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলেননি। সুতরাং নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গড়ার যে প্রস্তাব শেখ হাসিনা দিয়েছেন, বিএনপি-র উচিৎ তাতে সাড়া দেওয়া এবং নির্বাচনে দলের অংশগ্রহন সুনিশ্চিত করা। সন্ত্রাসবাদী এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির ফাঁদে পা না দিয়ে এবং তাদের সাথে হাত না মিলিয়ে বিএনপি  গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে, দেশের মানুষ তাই দেখতে চান। 



Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics