Column
প্রসঙ্গ--জামাত সঙ্গ ত্যাগের ইঙ্গিত খালেদা জিয়ার

17 Jan 2014

#

জানুয়ারি মাসের ৬ তারিখে, অর্থাৎ বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের ঠিক এক দিন পরে নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে বিএনপি-র চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ঘোষণা করেছেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের গুরুত্বপূর্ন শরিক জামাতের সঙ্গে যখন প্রয়োজন, তখনই সম্পর্ক ছেদ করবেন তিনি।

 বিএনপ নেত্রী অবশ্য এ কথাও যোগ করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এখনই জামাতের সাথে সম্পর্কের ইতি ঘটানো প্রায় অসম্ভব।

 


আওয়ামি লিগ সরকারের বিরুদ্ধে দেশে মূলত হিংসাত্মক প্রতিবাদ-আন্দোলন সংগঠনে জামাত বরাবরই অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। উনিশশো একাত্তরে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় দখলদারি পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে গণ হত্যায় অংশ নেওয়া এই দক্ষিনপন্থী দলটি এই বছরের ৫ই জানুয়ারির আগে ও অব্যবহিত পরে বিভিন্ন সময় চরম হিংসাত্মক আন্দোলনেও নেতৃত্ব দিয়েছে। তাতে নিহত হয়েছেন বহু মানুষ এবং সরকারি সম্পত্তির ঘটেছে ব্যাপক ক্ষতি। এর আগেই বাংলাদেশে চলতে থাকা যুদ্ধাপরাধ বিচার বানচাল করে দিতে দেশে হিংসার আগুন জ্বালিয়েছে এই ইসলামি দলটি।

 

 

এই অবস্থায় এই প্রশ্নটি এখন উঠছে যে, বিএনপি কি কখনও জামাতের সঙ্গ ত্যাগ করতে পারবে ?

 

 

বিএনপি এবং জামাত, উভয়েই পাকিস্তানপন্থী মানসিকতার দল এবং তাই তারা স্বাভাবিক মিত্র। তাই একাত্তরের মুক্তি আন্দোলনকে গুঁড়িয়ে দিতে যে জামাত এক সময় জঘন্যতম অপরাধের রাস্তা নিয়েছিল, বিএনপি  তাদের  কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারবে কি না , সে বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা  এখন মুখ খুলছেননা। 

 

 

অতীতের দিকে তাকালে দেখা যাবে, বিএনপি সহ সমস্ত স্বাধীনতা বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠনগুলি, যাদের দেশ স্বাধীনতা লাভ করার পরেই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তাদের ইতিহাসের আস্তাকুঁড় থেকে তুলে এনে ফের প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন আর কেউ নন, বিএনপি-র প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসক, প্রয়াত জিয়াউর রহমান। উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে তা সংহত করা। সেই সময় দেশে প্রাধান্য নিয়ে চলা রাজনৈতিক দল, আওয়ামি লিগের বিরুদ্ধে শক্তি বৃদ্ধি করতেই জিয়াউর রহমান এই সব সংগঠনগুলির পুনর্বাসন দিয়ে তাদের রাজনৈতিক জায়গা করে দেন।  

 

 

স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধিতা করা বহু পাকিস্তানপন্থী মানুষকে তখন জেনারেল জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ন মন্ত্রী, এমন কি প্রধানমন্ত্রীও বানিয়ে দিয়েছিলেন। একই সাথে ধর্মনিরপেক্ষতা, যা সংবিধানের চারটি মূল নীতির একটি ছিল, পাকিস্তানপন্থী ধর্মীয় রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে তার অপসারণ ঘটালেন তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তানে পালিয়ে যাওয়া জামাত প্রধান গুলাম আজমকেও ফিরিয়ে আনেন জিয়া। প্রয়াত স্বামী জেনারের জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক মতাদর্শ অনুসারে চলেই তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়াও এখন দেশের শাসনভারের দখল নিতে হাত মিলিয়েছেন জামাতের সঙ্গে। জামাতের আলিঙ্গনাবদ্ধ বিএনপি-র আজকের অবস্থান তাই তার অতীতের রাজনীতির থেকে মোটেই আলাদা নয়।  

 

উনিশশো উনআশিতে তাদের জন্মলগ্ন থেকেই স্বাধীনতা সংগ্রামের বিষয়ে বিএনপি দোদুল্যমান থেকেছে। সেই সময় ৩০ লক্ষ মানুষের গণহত্যা এবং আড়াই লক্ষ মহিলার ধর্ষণের ব্যাপারটির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের প্রয়োজনীয়তা কখনই তারা অনুভব করেনি। পাকিস্তানী বাহিনীর সহযোগী এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধিতা করা জামাত এবং অন্যান্য পাকিস্তানপন্থী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিগুলির উপর যে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছিলেন রাষ্ট্রের জনক শেখ মুজিবুর রহমান, ১৯৭৬ সালে তা তুলে নিলেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। আর এর ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পাকিস্তানে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া জামাত এবং অন্যান্য স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিগুলি পুনর্বাসিত হল বাংলাদেশের মাটিতে।

 

একাত্তরের দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এই সব যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে ছিল জামাত এবং অন্যান্য ইসলামি দলগুলির নেতারা-- দখলদারি পাকিস্তানি বাহিনীকে গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুটপাট, প্রভৃতি দানবীয় কান্ড ঘটাতে যারা সরাসরি সাহায্য করেছিল। কোলাবরেটর\'স অ্যাক্ট এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট অনুসারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং তাতে কয়েকজন দোষীও সাব্যস্ত হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর প্রথম আইনটি বাতিল করে দেওয়া হয় এবং দেশের আইন সংশোধন করে জেনারেল জিয়াউর রহমান পাকিস্তানপন্থী সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বাড়তে এবং জামাতকে দেশে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হতে দিলেন।

 

উনিশ শো পঁচাত্তর থেকে যে পাঁচ বছর ধরে জেনারেল জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে তাঁর একনায়কতান্ত্রিক শাসনের ভিত দৃঢ় করেছেন, সেই সময় রাজনৈতিক ভাবে সব থেকে বেশি ক্ষতি করা হয়েছে বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের নামের ও তাঁর আওয়ামি লিগ দলের। শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যায় সরাসরি লাভ হয়েছিল জেনারেল জিয়াউর রহমানের। কারণ তিনি হয়েছিলেন সেনা প্রধান। যদিও ১৯৭৫ সাকের ১৫ই অগাস্টে মুজিবের বীভৎস হত্যাকান্ডের পিছনে জেনারেল জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা বিশেষ   কিছু জানা না গেলেও তা খুব স্বচ্ছও ছিলনা। এ ব্যাপারে লন্ডন থেকে প্রকাশিত \'জনমত\' পত্রিকায় একটি সাক্ষাৎকারে শেখ মুজিবের সময়কার সেনা প্রধান জেনারেল শফিউল্লা বলেছেন, " তিনি(জেনারেল জিয়াউর রহমান) যে চক্রান্তের বিষয়ে সব কিছু জানতেন, তা কোনও অনুমানের বিষয় নয়।" 

 

দখলদারি পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগীদের দেশে জায়গার করে দেওয়ার জন্য সমস্ত রকম পরিকল্পিত প্রচেষ্টা জেনারেল জিয়াউর রহমান করেছিলেন এবং যতদিন তিনি ক্ষমতায় ছিলেন ততদিন যাবতীয় সরকারী আনুকূল্য পেয়েছিল ওই সব ব্যক্তিরা। শাহ আজিজুর রহমানের মত এক জন সুপরিচিত রাজাকারকে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন। কুখ্যাত পাক সহযোগী এই শাহ আজিজুর রহমান এক সময় স্বাধীনতা সংগ্রামের নিন্দা করেছিলেন এবং স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে যাতে বাংলাদেশ জন্ম না নিতে পারে তার জন্য হাত মিলিয়েছিলেন জামাতের প্রাক্ত আমীর গুলাম আজম এবং বর্তমান আমীর মতিউর রহমান নিজামি (দু জনেই যুদ্ধাপরাধে দন্ডিত)-সহ সমস্ত পাকিস্তানপন্থী, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিগুলির সঙ্গে। এমন কি ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে রাষ্ট্র সংঘে একটি পাকিস্তানি প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামকে ইসলামি  \'সৌভ্রাতৃত্বে ফাটল ধরানোর জন্য  ভারতের চক্রান্ত\' এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের \'ভারতের প্ররোচনা পাওয়া দুষ্কৃতি\' বলে বর্নণা করে অত্যন্ত জোরাল ভাষায় বক্তব্য রেখেছিলেন। এর পর স্বাধীনতার যুদ্ধে পাকিস্তান পরাস্ত হলে শাহ আজিজুর রহমান পাকিস্তানে থেকে যান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে যাতে মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলি অস্বীকার করে তার জন্য দরবার করতে থাকেন। উনিশ শো পঁচাত্তরে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর জিয়াউর রহমানের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে ফেরেন তিনি।

 

জেনারেল জিয়াউর রহমান জামাতকে রাজনৈতিক পুনর্বাসন দেওয়ার পর দলটি সরকারি ভাবে এই অবস্থান নেয় যে, ১৯৭১ সালে তারা কোনও ভুল করেনি এবং অবিভক্ত পাকিস্তানের আদর্শ রক্ষার জন্য যা করা প্রয়োজন মনে হয়েছিল, সেই সময় তারা তাই করেছিল। এই অবস্থান স্বতঃসিদ্ধ ভাবে এটাই বোঝায় যে জামাত স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং পাকিস্তানের থেকে মুক্ত হওয়াকে স্বীকার করেনা। এমন কি  এর বহু পরে, ২০০৭ সালে, এই চরমপন্থী দলটি পরিষ্কার বার্তা দেয় যে, স্বাধীনতার ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির কোনও পরিবর্তন হয়নি। দলের অনুগামীদের কাছে তাই পাকিস্তান, ইসলাম এবং জামাত সমার্থক।

 

জেনারেল জিয়াউর রহমানের স্বৈরাচারী শাসনকালে স্বাধীনতা দিবস অথবা বিজয় দিবস উদযাপনের সময়  যে দখলদারি বাহিনী দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর  নিকৃষ্টতম গণ হত্যা করে গেছে, তাদের প্রসঙ্গে কখনোই \'পাকিস্তান\' শব্দটি এক বারের জন্যেও উচ্চারিত হয়নি। বাংলাদেশকে পাকিস্তানের কবল থেকে মুক্ত করতে যে আওয়ামি লিগ স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু করেছিল, তাদের অসামান্য ভূমিকার ব্যাপারে কোনও ইঙ্গিত মাত্র থাকতনা এই সব অনুষ্ঠানে।

 

স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পর্কে বিএনপি-র চিন্তা-ভাবনা প্রকাশ পেল তখন, যখন \'শাপলা চত্বর\' অবরোধকারী হিফাজত-এ-ইসলামের জঙ্গিদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানকে বর্নণা করতে গিয়ে খালেদা জিয়া \'গণ হত্যা\' শব্দটি ব্যবহার করলেন। উনিশ শো একাত্তরে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় যে ব্যাপক নরমেধ যজ্ঞ ঘটেছিল, \'গণ হত্যা\' শব্দটি সেই পরিপ্রেক্ষিতেই ব্যবহৃত হয়। 

 

যুদ্ধাপরাধী জামাতের শীর্ষ নেতাদের দন্ড দানের বিরুদ্ধে জামাত ও তার ছাত্র সংগঠন, ইসলামি ছাত্র শিবিরের একের পর এক হিংসাত্মক তান্ডবের পরেও খালেদা জিয়া মৌন ছিলেন। জামাত কর্মীরা   জাতীয় পতাকা পোড়ালে অথবা শহিদ মিনার অপবিত্র করলেও চুপ থেকেছেন তিনি। বরং তিনি উদ্বিগ্ন হয়েছেন শাপলা চত্বরে যাকে তিনি \'গণ হত্যা\' বলে বর্নণা করেছেন তার কিংবা স্লোগান মুখর তরুণ-তরুণীদের ভীড়ে আক্রান্ত শাহবাগ চত্বরে \'ইসলামের অবমাননা\'-র ব্যাপারে। ওই তরুণের দলের স্লোগান ছিল, "আগে আমরা বাঙ্গালি, তার পরে মুসলমান,বা হিন্দু, বৌদ্ধ অথবা খ্রিস্টান।"

 

 

গণ হত্যা কী ? গণ হত্যা হল সেই জিনিষ, যা স্থানীয় স্বাধীনতা বিরোধী লোকেদের সহযোগিতায়  করে গেছে দখলদারি পাকিস্তানি বাহিনী। আর ইসলামের অবমাননা হয়েছে তখন, যখন স্থানীয় সহযোগীদের নিয়ে সেই পাক সেনারা ধরে ধরে হত্যা করেছে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের, ধর্ষণ করেছে বাংলাদেশের নারীদের আর তাদের তান্ডবে বিধ্বস্ত গ্রামগুলিতে পুড়েছে কোরান।

 

 

স্বাধীনতার ৪২ বছর পরেও স্বাধীনতা বিরোধী স্পর্ধিত জামাত ১৯৭১-এ তাদের খুনে, পাকিস্তানপন্থী ভূমিকার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী নয়। বরং যন নতুন শক্তি পেয়ে তারা পুড়িয়েছে জাতীয় পতাকা, অপবিত্র করেছে শহিদ মিনার। তাদের এই সমস্ত কাজে খালেদা জিয়ার নীরবতা এবং প্রচ্ছন্ন সমর্থন জামাতকে হিংসাত্মক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে প্রত্যেক বার আরও বেশি করে প্ররোচিত করছে।

 

 

জামাত নেতাদের মন্ত্রীত্বের পদ দিয়ে সেই দলের আমির মতিউর রহমান নিজামি এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলি আহসান মোহাম্মদ মোহাজিদের মত যুদ্ধাপরাধীদের চাঁইদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে খালেদা জিয়া কিছুমাত্র দ্বিধা বোধ করেননি। পরিকল্পিতা ভাবে ইতিহাসকে অস্বীকার করার চেষ্টায় তিনি এমন কি \'জয় বাংলা\' স্লোগান নিয়েও প্রশ্ন উঠিয়ে বলেছেন, ১৯৭১ সালে যে সরকার ক্ষমতায় এসেছিল, তার গোঁড়া চরিত্রের কারণে নাকি এই স্লোগান তার প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। ধর্ম নিরপেক্ষ বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল এই \'জয় বাংলা\' স্লোগান, কারণ তা দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় ধর্ম-বর্ন নির্বিশেষে লক্ষ লক্ষ স্বাধীনতা সংগ্রামীকে চরম আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ করেছিল। সেই \'জয় বাংলা\' স্লোগান, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে সমার্থক ছিল, তাকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয় ১৯৭৫ সালে, শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর। এর পরে ক্ষমতায় আসা জেনারেল জিয়াউর রহমান চালু করছিলেন \'বাংলাদেশ জিন্দাবাদ\' স্লোগানটি, যা \'পাকিস্তান জিন্দাবাদ\' স্লোগানের সঙ্গে বেশ মানানসই।

 

 

খালেদা জিয়ার যুদ্ধাপরাধ বিচারকে একপেশে, পক্ষপাতমূলক বলে বর্নণা করা অথবা সমস্ত যুদ্ধাপরাধীদের জেল থেকে মুক্তির জন্য তোলা তাঁর দাবি থেকে এ কথা পরিস্কার যে, বিএনপি আর যাই হোক, এটি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের দল কখনওই নয়। এবং এই কারণেই বিএনপি আর জামাত মিলে এখন বাংলাদেশকে পাকিস্তানের একটি উপগ্রহ বানানোর লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

 

তাই বিএনপি আর জামাত যেন অচ্ছেদ্য যমজ।জামাতের মত বিএনপিরও মৌলবাদী ঝোঁক আছে। এই বিএনপি-র আমলেই যুদ্ধাপরাধীরা বাংলাদেশে বড় বড় পদ পেয়েছে। জামাতের মতই বিএনপি-ও দক্ষিনপন্থী এবং পাকিস্তানপন্থী সাম্প্রদায়িকদের ধাতৃগৃহ। তাই জামাতের পক্ষে বিএনপি-র সঙ্গে ভবিষ্যতে সম্পর্ক ত্যাগ করার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। 




Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics