Bangladesh
সন্তানের ফেরার অপেক্ষায় শতবর্ষী মা

Bangladesh Live News | @banglalivenews | 15 Dec 2019

Mother waiting for return for child
নিজস্ব প্রতিনিধি , ঢাকা, ডিসেম্বর ১৫ : ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন নুরুল ইসলাম নুরু। বাবা-মায়ের দোয়া নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়া ২২ বছর বয়সী নুরুল ইসলাম যুদ্ধ চলাকালীন একবার মা-বাবাকে দেখতে এসেছিলেন। এরপর আর মায়ের কোলে ফিরতে পারেননি তিনি। দেশ স্বাধীন হলে অন্য সব মায়ের মতো সন্তানের ফেরার অপেক্ষায় থাকেন নুরুলের মা। কিন্তু মাস পেরিয়ে বছর গেলেও আর ফেরেননি নুরুল ইসলাম।

এরই মধ্যে খবর পান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন নুরুল ইসলাম। সেই থেকে শুরু হয় তার কান্না। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও কান্না থামেনি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের মা ফুলবানুর। বর্তমানে শতবর্ষী এই মা বিছানায় পড়ে আছেন।

১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শহীদ নুরুল ইসলামের মাকে দেখতে যান সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। শনিবার দুপুরে দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের বাড়িতে যান ডিসি।

এ সময় ডিসি আহাদকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন নুরুল ইসলামের মা ফুলবানু। শতবর্ষী মাকে বুকে জড়িয়ে আবেগাপ্লুত হন ডিসি। পরে রত্নগর্ভা মাকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি। একই সঙ্গে শতবর্ষী মাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন এবং তার জন্য নিয়ে আসা বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তুলে দেন।

সুনামগঞ্জের ডলুরা শহীদ সমাধিসৌধে ৪৮ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সমাধিস্থলের ৮নং সমাধিস্থলে রয়েছেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম নুরু।

শহীদ নুরুল ইসলামের ছোট ভাই আমিনুল ইসলাম বলেন, বাবা-মায়ের আদরের সন্তান ছিলেন মোজো ভাই নুরুল ইসলাম। আমাদের মধ্যে তিনিই ছিলেন শিক্ষিত। সুনামগঞ্জের সরকারি জুবীলি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে যখন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে ভর্তি হয়েওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধে চলে যান। যুদ্ধের সময় একবার বাড়িতে এসেছিলেন ভাই। এরপর আর ফিরে আসেননি। দেশ স্বাধীনের পর খবর পেলাম ভাই যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। মায়ের বয়স ১১০ বছর। এখন মা হাঁটতে পারেন না। খাওয়া-দাওয়া গোসলসহ সব কিছুই ঘরেই করতে হয়। এখনো ভাইয়ের জন্য কাঁদেন মা।

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, মা সবসময় ভাইয়ের জন্য কাঁদেন। মোজো ভাইয়ের বন্ধুরা বাড়ির পাশ দিয়ে গেলে তাদের দিকে তাকিয়ে কাঁদেন মা। হঠাৎ কোনো যুুদ্ধের গান বা যুদ্ধের গল্প শুনলে ভাইয়ের জন্য কান্না থামে না মায়ের।

সুনামগঞ্জের ডিসি আব্দুল আহাদ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা শহীদ হয়েছেন তাদের মধ্যে নুুরুল ইসলাম ছিলেন একজন। স্বাধীনতার এণ বছর পরও নুরুল ইসলামের মা বেঁচে আছেন জেনে দেখা করার আগ্রহ তৈরি হয়। তাই শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসটা যথাযথভাবে পালনের জন্য রফিনগর গ্রামের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের মাকে দেখতে যাই।




Video of the day
More Bangladesh News
Recent Photos and Videos

Web Statistics