Column
বিডিআর বিদ্রোহঃ সমাধান না হওয়া কিছু বিষয়

19 Mar 2014

#

বিএনপি এবং তার মিত্র জামাত বাংলাদেশের মানুষকে বিশ্বাস করাতে চায় যে, ২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারির বিডিআর বিদ্রোহের পিছনে ছিল আওয়ামি লিগের কারসাজি।

 তার কারণ নাকি এই যে, আওয়ামি লিগ চেয়েছিল বিডিআর এবং দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দূর্বল করে দিয়ে বাংলাদেশকে ভারতের অনুগত রাষ্ট্রে পরিণত করতে। ক্ষমতা দখল করার জন্য  দেশে নৈরাজ্য এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সরকারকে ফেলে দেওয়ার যে মতলব বিএনপি-জামাত এঁটেছিল, তা ব্যর্থ হবার পর থেকেই এই উদ্ভট এবং বিদ্বেষপূর্ন অপপ্রচার তারা চালিয়ে যাচ্ছে।

 
বিডিআর বিদ্রোহ ছিল একটি নিখুঁত ষড়যন্ত্রের ফসল এবং এতে বিএনপি, জামাত এবং পাকিস্তানের আই এস আই-য়ের জড়িত থাকার ব্যাপারটি পরিষ্কার। এই ঘটনার তদন্ত করা আনিসুজামান কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছিল, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেনা, তারা এই বিদ্রোহে প্ররোচনা দিয়েছিল এবং চেষ্টা করেছিল বিডিআর ও  সেনাবাহিনী যাতে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই ঘটনার পিছনের মূল চক্রীদের মুখোশ খোলার জন্য আরও তদন্তের সুপারিশ করে রিপোর্টে প্রাক্তন বিএনপি এম পি নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু, বিএনপি-র প্রাক্তন ওয়ার্ড কমিশনার সুরাইয়া বেগম এবং তাঁর দুই পুত্র ছাড়াও কিছু জামাত কর্মীর জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। 
 
ওই ঘটনার দিন পিলখানায় বিডিআরের সদর দপ্তরের কাছে বিদ্রোহীদের সমর্থনে যে একটি মিছিল বের করা হয়েছিল, রিপোর্টে সে কথা বিশেষ ভাবে বলা হয়। মিছিলকারীরা \'বিডিআর-জনতা ভাই ভাই, খুনি মইনের বিচার চাই\', প্রভৃতি স্লোগান দিয়ে আরও সেনা অফিসারদের হত্যা করার জন্য বিদ্রোহীদের উৎসাহিত করতে চেয়েছিল। বিদ্রোহ ব্যর্থ করতে সেই সময় বাংলাদেশের সেনাপ্রধান  জেনারেল মইন গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত সরকারকে দৃঢ় ভাবে সমর্থন দিয়েছিলেন। তদন্ত রিপোর্টে ঢাকায় পাকিস্তানি হাই কমিশন এবং বিদ্রোহ ঘটানোর জন্য যে অর্থ ঢালা হয়েছিল,  তার তির্যক উল্লেখও রয়েছে।
 
এর আগে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে এই ঘটনায় বিএনপির সাংসদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরির জড়িত থাকার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছিল। পাকিস্তানের আই এস আই এবং বিএনপি-র চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই কাদের চৌধুরির পরে যুদ্ধাপরাধ বিচারে মৃত্যুদণ্ড হয়। বিদ্রোহের ঠিক পরেই বিডিআরের ডিজি হওয়া ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মইনুল ইসলাম স্বীকার করেছিলেন যে,  ঐ ঘটনার ভিডিও ফুটেজে বিডিআরের পোষাক পরা অনেক বহিরাগত ব্যক্তিকে বিডিআরের সদর দপ্তরে হত্যা, ধর্ষণ এবং লুন্ঠনে অংশ নিতে দেখা গেছে। এ কথা সুবিদিত যে, বহু সশস্ত্র গুন্ডা, অপরাধীর পৃষ্ঠপোষক সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরি। জামাতেও এই ধরণের লোকের অভাব নেই এবং এরাই ওই সব হত্যা, ধর্ষণ এবং লুটপাটে জড়িত ছিল।  বিদ্রোহের পুরোভাগে থাকা বিডিআরের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডার তৌহিদ আসলামও স্বীকার করেছিলেন যে, বহিরাগতরা ওই ঘটনায় যুক্ত ছিল। 
 
বিদ্রোহের দিন পিলখানায় বিডিআরের সদর দপ্তরের কাছে যে সব গাড়ি, অস্ত্র, গোলাবারুদ দেখা গিয়েছিল, সেগুলি বিডিআর অথবা সেনাবাহিনী ব্যবহার করেনা বলে সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছিল। আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্রিটেনে থাকা খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান ঘটনার দিন দুবাই চলে গিয়ে সেখান থেকে পিলখানার ঘটনাবলীর উপর নজর রাখছিলেন। এমন কি সামরিক অভ্যুত্থানের গুজব ছড়াতে আগে থেকেই ঢাকার কয়েকটি জায়গায় লিফলেট বিলি করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, \'একটি বিদেশি রাষ্ট্রের সহায়তায়\' দেশে নৈরাজ্য এবং অরাজকতার সৃষ্টি করে আওয়ামি লিগ-নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফেলে দিতেই ঐ বিদ্রোহ ঘটানো হয়েছিল।
 
বস্তুতপক্ষে বিএনপি-জামাতের কিছু নেতার সহযোগিতায় এই দুষ্কর্মের নীল নকশা রূপায়িত করতে আই এস আই-য়ের দীর্ঘ দিনের চর এবং দুষ্কৃতি ও মাফিয়াদের সাথী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরিকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিদ্রোহের সময় ও তার আগে এবং পরে যে সব চক্রান্ত করা হয়েছিল, তদন্তের ফলে সেগুলি প্রকাশ পেয়েছে।
 
জানা গেছে, চক্রান্তের বিশদ ছক কষতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরির সঙ্গে বিএনপি-জামাতের কিছু নেতা এবং সেই সঙ্গে বিএনপি অথবা জামাতের অনুগামী বেশ কিছু প্রাক্তন সামরিক অফিসারের বৈঠক হয়েছিল। এঁদের মধ্যে ছিলেন বিডিআরের প্রাক্তন ডিজি মেজর জেনারেল ফজলুর রহমান, যিনি তীব্র ভারত-বিরোধী ও জামাতপন্থি এবং ২০০১ সালের বিডি আর-বিএসএফ সংঘর্ষের জন্য যিনি একক ভাবে দায়ী। বিদ্রোহ ঘটার আগে এই ধরণের দুটি বৈঠক হয়--একটি ২০০৯ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি তারিখে কক্স বাজারের সিগাল হোটেলে এবং অন্যটি ঢাকার আল ফালাহ অডিটোরিয়ামে, ১৩ই ফেব্রুয়ারি। এই বৈঠকগুলিতে ঠিক হয়েছিল যে, ২০০৯ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি বিডিআরের লোকেরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তাদের দাবির তালিকা পেশ করবে এবং সেই দাবি প্রধানমন্ত্রী না মানলে সে দিনই তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হবে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে হয় কিছু বিডিআর সেনার আপত্তিতে। তাঁরা চেয়েছিলেন দাবিগুলি পরের দিন দরবারের সময় পেশ করা হোক। 
 
এই চক্রান্তে বিডিআরের লোকদের উৎসাহিত করতে এবং তাদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরি বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় করেছিলেন বলে জানা গেছে। ষড়যন্ত্রকারীদের যতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা সবাই ভাল রকম টাকা পয়সা পেয়েছিল। বিডিআরের মধ্যে ধূমায়িত একটা ক্ষোভ ছিলই এবং তার ফলে অতীতে নিচু তলার কর্মচারীদের মধ্যে বিদ্রোহের ঘটনাও ঘটেছিল। এই ক্ষোভকেই কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরি এবং তাঁর বিএনপি ও জামাত সঙ্গীরা। সেই উদ্দেশ্যে মেজর জেনারেল ফজলুর রহমানকে ৪০ কোটি টাকা দেওয়া হয়। তিনি আবার আগাম হিসেবে ৫ কোটি টাকা করে দেন তুহিদ আলম (বিদ্রোহের পুরোভাগে ছিলেন) সহ চার জন ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেকটরকে এবং এক কোটি করে সেপাই স্তরের ষড়যন্ত্রকারীদের। পরে দেখা যায় যে, ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার হওয়া বিডিআর  বিদ্রোহীদের সঙ্গে তিন লক্ষ করে নগদ টাকা ছিল। 
 
বিদ্রোহের ঘটনা ঘটার ঠিক পরেই ২৫শে ফেব্রুয়ারি তারিখে ঢাকার মারুফ ফাউন্ডেশনের প্রেক্ষাগৃহে  একটি বৈঠক হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন জামাতের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য মোমিনুল ইসলাম পাটোয়ারি, ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশের বোর্ড অফ ডিরেকটরসের প্রেসিডেন্ট জাহিদুর রহমান,  ইসলামি ছাত্র শিবিরের প্রেসিডেন্ট এবং ঢাকা শহরে জামাত ও শিবিরের সমস্ত থানা স্তরের সেক্রেটারিরা। বৈঠকে ঠিক হয় ঘটনাস্থল থেকে বিদ্রোহীরা যাতে নিরাপদে বেরিয়ে যেতে পারে, তার জন্য সমস্ত রকম সহায়তা দেওয়া হবে এবং এই মর্মে টেলিফোনে দেশের সর্বত্র জামাত-শিবিরের কর্মীদের নির্দেশও দেওয়া হয়। এর পর ২৬শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্ররা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি ছাত্র শিবিরের কর্মীরা মিলে বিডিআর বিদ্রোহীদের পালিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত করে। এই উদ্দেশ্যে বিডিআর বিদ্রোহীরা যাতে চিনতে পারে, সেই রকম ব্যানার লাগানো নৌকা তৈরি রাখা হয় বুড়ি গঙ্গা নদীতে। এ ছাড়াও পিলখানার কাছে রাস্তার  উপর বিদ্রোহীদের জন্য পঞ্চাশটি  ট্যাক্সিও রাখা হয়েছিল। যদিও ২৫শে ফেব্রুয়ারির সকালের ওই অভ্যুত্থানে বিডিআর সদর দপ্তরে থাকা বেশির ভাগ সামরিক অফিসারই নিহত  হয়েছিলেন, বিদ্রোহীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এই হত্যালীলার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অন্ধকারে রেখে তাঁর সঙ্গে আলোচনা দীর্ঘায়িত করতে, যাতে পালিয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সময় পাওয়া  যায়। 
 
বিদ্রোহের পর বিদ্রোহীদের উত্তেজিত করে যাতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে খোলাখুলি সংঘর্ষে নিয়ে যাওয়া যায়, তার জন্য  বিএনপি এবং জামাতের নেতারা দলের কর্মীদের বিদ্রোহীদের পক্ষে মিছিল করার জন্য টেলিফোনে নির্দেশ দেন। বিএনপি নেতা এবং প্রাক্তন মন্ত্রী নাসিরুদ্দিন আহমেদ পিন্টু বিডিআর চবিদ্রোহীদের হাজারিবাগ দিয়ে নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন, আর চট্টগ্রাম ও এবং কক্সবাজার দিয়ে পালানোর ব্যবস্থা করেছিলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরি এবং তাঁর অনুগতরা।  বিডিআর বিদ্রোহীদের এ ভাবে সাহায্য করেছিলেন মতিঝিল, কুমিল্লা এবং সিলেটের আরও অনেক জামাত নেতারা। বিডিআরের প্রাক্তন ডিজি মেজর জেনারেল ফজলুর রহমান ছিলেন জামাতের একজন রকুন। বিডিআরে তাঁর পদের সুযোগ নিয়ে তিনি ২০০৮ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ৫০০০ জামাত কর্মীকে বাহিনীতে নিয়োগ করেন। এই কর্মীরাই প্রধানত বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিল। এ ছাড়াও ছিল সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরির পোষা সমাজবিরোধীরা।
 
বিদ্রোহের সময়, অর্থাৎ সকাল নটা থেকে এগারোটার মধ্যে বিডিআরের দায়িত্বে থাকা সব উচ্চপদস্থ সেনা অফিসাররা খুন হয়ে যান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধোঁকা দিয়ে তৌহিদ আলমের নেতৃত্বে কিছু বিডিআর অফিসার তাঁর সঙ্গে নিজেদের ক্ষোভ বিক্ষোভ নিয়ে আলোচনা চালাতে থাকেন। আসলে এ ভাবে আই এস আই-য়ের ছক অনুযায়ী তাঁরা বিদ্রোহীদের পালিয়ে যাওয়ার সময় আদায় করছিলেন। 
 
তাৎপর্যপূর্ন ব্যাপার এই যে, ঢাকায় পাকিস্তান হাই কমিশনের ডিফেন্স অ্যাটাশে সাজ্জাদ রসুলের কাছে ২৫শে ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে বারোটার সময় পিলখানায় কী ঘটছে, তার বিস্তৃত খবর ছিল, যেখানে শেখ হাসিনা গোটা ব্যাপারটি সম্পর্কে অন্ধকারেই ছিলেন।  রসুলই প্রথম ব্যক্তি যিনি ঢাকা এবং ইসলামাবাদে তাঁর পরিচিতদের কাছে জানান যে, বিডিআরের ডিজি মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ এবং অন্যান্য সেনা অফিসাররা নিহত হয়েছেন। সংবাদমাধ্যম অথবা অন্য কারুর পক্ষে ঠিক কী হয়েছে, তা ২৮শে জানুয়ারির আগে জানা সম্ভব হয়নি। কিন্তু ২৫শে ফেব্রুয়ারির দুপুরের আগেই বিডিআরের ডিজি এবং অন্যান্যদের হত্যার ব্যাপারে রসুলের দেওয়া রিপোর্ট আই এস আই-য়ের সদর দপ্তরে পৌঁছে গিয়েছিল। 
 
এটা খুবই বিস্ময়ের যে, বিদ্রোহ সম্পর্কিত অধিকাংশ বিষয়গুলিরই ঘটনার পাঁচ বছর পরেও কোনও ফয়সালা হয়নি। আনিস-উজ-জামান কমিটির সুপারিশ মেনে বিদ্রোহের পিছনে থাকা চক্রীদের মুখোশ খোলার জন্য আরও তদন্তের কোনও উদ্যোগ আজ পর্যন্ত সরকারের তরফে নেওয়া হয়নি। 
 
সি আই ডি তদন্তে এই ঘটনার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক অথবা বিদেশি যোগাযোগ পাওয়া  যায়নি। সি আই ডির তদন্তকারী অফিসার আবদুল কাহার আকান্দ এই সিদ্ধান্তে এসেছেন যে, বিডিআর সেনাদের বেতন, কাজের পরিবেশ, উন্নতির সুযোগ ইত্যাদি ব্যাপারে ক্ষোভের থেকেই এই বিদ্রোহ হয়েছিল। ২০১৩ সালের ৫ই নভেম্বর ঢাকার একটি আদালতে বিদ্রোহের সময় সামরিক অফিসারদের পাশবিক হত্যার জন্য ১৫০ জন বিডিআর সেনা এবং দুজন অসামরিক ব্যক্তির   মৃত্যুদন্ড ঘোষণা করা হয়। বিএনপি-র প্রাক্তন সাংসদ নাসিরুদ্দিন আহমেদ পিন্টু সহ ১৬১ জনের জন্য হয় যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা। 
 
নিহত সেনা অফিসারদের বিধবা পত্নীরা, যাঁদের একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে আর্থিক সাহায্য নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, আইনের হাত এড়ানো চক্রীদের চিহ্নিত করতে সরকারের ব্যর্থতার ব্যাপারে তাঁদের অসন্তোষ গোপন রাখেননি। শুধুমাত্র বেতন কাঠামোর বৈষম্য অথবা কাজের পরিবেশ এবং উন্নতির সুযোগের ব্যাপারে ক্ষোভের কারণ দিয়ে ৫৭ জন সেনা অফিসার এবং তাঁদের স্ত্রীদের বর্বরোচিত হত্যার ব্যাখ্যা দেওয়া যায়না। যে ভাবে তাঁদের দেহগুলিকে বিকৃত করে নিকাশি নালার মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা মনে করিয়ে দেয় যা করেছিল পাকিস্তানি সেনারা তাদের জামাত সঙ্গীদের নিয়ে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়।



Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics