South Asia
'ভিলওয়ারা মডেল': ভারতের শহর আজ করোনাভাইরাসের লড়াইয়ে প্রথম শ্রেণীতে

Bangladesh Live News | @banglalivenews | 10 Apr 2020

Bhilwara Model: Indian city now leads country in COVID-19 fight
ভিলওয়ারাঃ ভারতের রাজস্থান রাজ্যের একটি ছোট জেলা শহর ভিলওয়ারা আজ ভারতের মানুষের কাছে মডেল রূপে দাঁড়িয়েছে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পথে।

আজকে এতটাই সফল এই 'মডেল' যে দেশজুড়ে সমস্ত হটস্পটগুলোতে সেই একই পদ্ধতি প্রয়োগ করার কথা ভাবা হচ্ছে।

 

'ভিলওয়ারা মডেল' নামে বেশ পরিচিত হয়েছে এখন এই পরিস্থিতি।

 

কঠোরভাবে মানুষজনকে ঘরে রেখেই দেখা যাচ্ছে এই মডেল বেশ ফল পেয়েছে।

 

ভিলওয়ারা  টেক্সটাইল হাব হিসেবেও বেশ পরিচিত।

 

একসময় করোনাভাইরাসের জন্য হটস্পট হয়েছিল এই শহর।

 

এক সময় ২৬ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন এই রোগে।

 

তারপরেই, পরবর্তী দশদিনে মোট ১৭ জন সুস্থ হন।

 

এই ভয়ঙ্কর রোগে আক্রান্ত হন একজন।

 

রাজস্থানের কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট বিবিসিকে জানাচ্ছেন, "আমরা সঙ্গে সঙ্গে ভিলওয়ারাতে এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করি – যে কন্টেইনমেন্ট প্রয়োগ করা হবে কঠোরভাবে ও কোনও ছাড় না দিয়ে – আর তাতে আমরা সফল হই।" 

 

"সরকারি রোডওয়েজের বাস, বেসরকারি যানবাহন বা ভ্যানের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। যতগুলো পজিটিভ কেস এসেছিল, তার প্রত্যেকটার ক্লাস্টার ম্যাপিং তৈরি করা হয় – পুরো জেলায় হাজার হাজার লোককে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়," উনি বলেন।

 

"মানুষের সহযোগিতায় পুরো ব্যবস্থাটা এমনভাবে করা হয় যাতে ভাইরাস কিছুতেই ছড়াতে না-পারে," বলছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

২২শে মার্চের মধ্যেই রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসন সাড়ে আটশো টিম গড়ে তুলে লোকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সার্ভের কার্যক্রম শুরু করেছিলেন।

 

প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষরও বেশি বাড়ির দরজায় গিয়ে তারা প্রায় চব্বিশ লক্ষ লোকের ওপর জরিপ চালায় – এবং যাদেরই ফ্লু-র মতো উপসর্গ দেখা যায়, তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়, বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে জানায়।

 

হিন্দুস্থান টাইমসের সাংবাদিক অদিতি প্রসাদ বিবিসিকে জানাচ্ছেন, "এর সঙ্গে প্রথম দিন থেকে গোটা এলাকায় জারি করা হয় কারফিউ। জেলার সীমান্ত সিল থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সরবরাহ কিন্তু নিশ্চিত করা হয়।"

 


"ফোন করলে পুলিশ গিয়ে বাড়ি বাড়ি খাবারদাবার ও ওষুধের হোম ডেলিভারি দিয়ে আসে।"

 

"একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় ধরা-পড়া প্রত্যেক রোগীর ক্ষেত্রেই। এর সঙ্গে প্রতিদিন চলতে থাকে জীবাণুমুক্ত করার অভিযান," জানাচ্ছেন মিস প্রসাদ। 

 

ভিলওয়ারা জেলার চিফ মেডিক্যাল অফিসার ড: অরুণ গৌড় এদিন বিবিসি বাংলাকে টেলিফোনে বলছিলেন, "স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্য ছাড়া এই কঠোর অভিযান কিছুতেই সফল হত না – তারাও প্রশাসনকে দারুণ সহযোগিতা করেছেন।"

 

"তবে তাদের এখনও বেশ কিছুদিন ওই নিয়মগুলোই মেনে চলতে হবে – সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, ঘর থেকে না-বেরোনো, হ্যান্ড হাইজিন খেয়াল রাখা ইত্যাদি।"

 

"নইলে কিন্তু এতদিনের পরিশ্রম জলে যেতে পারে – লড়াই যে এখনও শেষ হয়নি তা মনে রাখতে হবে", বলেন তিনি।

 


চীনের উহান থেকে শুরু হওয়ার পরে আজ এই রোগ দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়েছে।

 

ভারতেও ১৯৯ প্রাণ হারিয়েছেন।




Video of the day
More South-asia News
Recent Photos and Videos

Web Statistics