Column
অপহরণ আর হত্যা--প্রশাসনকে হেয় করতে জামাতের ছক

13 May 2014

#

দু'হাজার ছয় সালের অক্টোবর মাসে দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয় এবং তার ফলশ্রুতি হিসেবে ঘটে যাওয়া এক এগারোর ঘটনার জের চলে দু' বছর ধরে।

 এর পরে ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে দেশের ক্ষমতায় আসে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকার। পরে আবার একই রকমের চরম অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল ২০১৩ সালে, দেশজুড়ে জামাত-শিবিরের হত্যালীলা, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযানের মধ্যে দিয়ে। ক্ষমতায় থাকা দেশের গণতান্ত্রিক সরকার অবশ্য শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা বিরোধী, সন্ত্রাসবাদী শক্তির এই তান্ডব নিয়ন্ত্রণে আনে। এই নিয়ন্ত্রণের কাজে যখন সরকার ব্যস্ত, সেই সময় এই দলগুলির আড়াল থেকে বিএনপি সমর্থন যুগিয়ে গিয়েছিল এই বলে যে, এই আন্দোলন আসলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন। তবে শুধু বিএনপি অথবা জামাতই নয়, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং স্থায়িত্ব বিরোধী এই আন্দোলনের প্রতি কিছু পশ্চিমী দেশও সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও যে  এই অরাজকতা দমন করা গিয়েছিল,  তার কারণ ধ্বংস এবং হত্যার বিরুদ্ধে থাকা দেশের সাধারণ  মানুষ ছিলেন সরকারের পিছনে।  এর পরে এল জানুয়ারি মাসের সাধারণ নির্বাচন এবং দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় থেকে গেল একই জোট সরকার। এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি এবং তা ছিল এক মস্ত বড় রাজনৈতিক ভুল। এর মধ্যেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য তাদের দাবি দূর্বল হয়ে পড়েছিল। বেগম জিয়ার বয়স এবং দলের মধ্যে অব্যবস্থার কথা বিবেচনা করলে বলতে হয়, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলেই তাদের ভাল হত। 

 
 সরকার যখন একের পর এক সাফল্য লাভ করছিল, তখনই শিবির তাদের পুরনো কৌশলের রাস্তা নেয়। গত মাসের ২৮ তারিখ রাজশাহি বিশ্ববিদ্যালয়ে যা ঘটে গেছে, তা এক  সন্ত্রাসবাদী কাজের থেকেও ভয়ানক। এ ছাড়াও দেশের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে নতুন এক রাস্তা নিয়েছে জামাত-শিবির, তা হল অপহরণের রাজনীতি। এদের প্রধান লক্ষ্য হল, প্রশাসন, বিশেষ করে পুলিশ এবং র‍্যাবের ভূমিকা নিয়ে জনমানসে সন্দেহ সৃষ্টি করা। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ তারিখে কী ভূমিকা ছিল পুলিশ এবং তৎকালীন ই পি আর-এর এবং কী দেশকে সন্ত্রাসবাদী আর পাকিস্তানের অনুগামীদের হাত থেকে বাঁচাতে কী তারা করেছিল, সে কথা  জামাত এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিলক্ষণ জানা। এখন সেই পুলিশ এবং ব্যাব সম্পর্কে মানুষকে সন্দিহান করে তুলতে চেষ্টা চালাচ্ছে জামাত-শিবির এবং তাদের  প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থকরা। অপহরণ ও হত্যার এই নতুন কৌশল নেওয়ার উদ্দেশ্য পুলিশ-র‍্যাবকে এর জন্য দোষ দেওয়া এবং যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি আদায় করা। এদের এই ঘৃণ্য অপকৌশল একাত্তরের সেই হত্যা, ধর্ষণ এবং লুটপাটের কথা মনে করিয়ে দেয়। এরা চায় পুলিশ এবং র‍্যাবের ভাবমূর্তি এতটাই নিচে নেমে যাক, যাতে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মের জন্য জামাতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে তাকে মানুষ সমর্থন না করে। 
 
এ ব্যাপারে এখনই সরকারকে সাবধান হতে হবে এবং এই সব খুনি, অপহরণকারীদের খুঁজে বের করার জন্য জোরদার চিরুনি তল্লাসি চালাতে হবে। জামাতের এই ছকের ফলে ঘটনাপ্রবাহ যে বড় ধরণের মোড় নিতে পারে তার ইঙ্গিত এক বিএনপি নেতার \'গেরিলা আক্রমণ\' চালিয়ে সরকারকে ছুঁড়ে ফেলার হুমকি দেওয়া সাম্প্রতিক বিবৃতি থেকেই পাওয়া যায়। জামাত এবং বিএনপি ছাড়াও কিছু টেলিভিশন চ্যানেলও অর্থের বিনিময়ে নীতি বিসর্জন দিয়ে পাকিস্তানপন্থি প্রচার চালাচ্ছে। এ সব কিছুই দেশের স্থায়িত্বের পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে দেখা দিতে পারে। দু\'হাজার তেরো সালে কিছু বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়ে শেখ হাসিনার সরকার দেশকে দ্বিতীয় পাকিস্তানে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করেছিল। দেশের মানুষ চান আরও সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে দেশকে এবার স্থিতিশীল অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে নিয়ে যান তিনি। 



Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics