Column
সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থাঃ বিরোধীদের নিরস্ত্র করলেন হাসিনা

08 Nov 2014

#

ঢাকা, নভেম্বর ৭ঃ গত ২৮শে সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের টাঙ্গাইল থেকে নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে আসা অভিবাসী বাঙালিদের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারের সময় টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিক হজ এবং তবলিগ জামাত সম্পর্কে মর্যাদাহানিকর এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা মানুষের ধর্মীয় আবেগকে আঘাত করে।

বিভিন্ন সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ভিডিও ক্লিপিঙে আপলোড করা প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সাজিব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কেও কিছু সমালোচনামূলক কথাও তিনি বলেছিলেন এবং তার ফলে ব্যাপক গণপ্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল।

 

কিন্তু অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবদুল লতিফকে মন্ত্রিত্ব এবং সেই সঙ্গে আওয়ামি লিগের প্রিসিডিয়াম থেকেও সরিয়ে দেওয়ায় হিংসাত্মকে আন্দোলনের মাধ্যমে যে অনিবার্য অস্থিরতা এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারত সরকারের পতন ঘটানোর ফিকিরের অপেক্ষায় থাকা মৌলবাদী এবং বিরোধীরা , তার থেকে বেঁচে গেল দেশ।

 

পবিত্র হজ, পয়গম্বর মহম্মদ এবং তবলিগ জামাত সম্পর্কে সিদ্দিক ঘৃণ্য, অবমাননাকর মন্তব্য করায় খালেদা জিয়া এবং তাঁর মিত্ররা সরকার বিরোধী আন্দোলন জোরদার করার একটি উপলক্ষ প্রায় পেয়ে গেছিলেন। সরকারকে ফেলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তান্ডব বাহিনী নামিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করার আগে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত চালিত করার জন্য এঁরা এত দিন ধরে একটি মোক্ষম বিষয়ের জন্য অধীর অপেক্ষায় ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁদের এই পরিকল্পনা সফল হয়নি।

 

এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যাতে খালেদা জিয়া কৌশলগত ভাবে না এগোতে পারেন, দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। সিদ্দিককে শুধু ক্যাবিনেট নয়, দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কমিটি, প্রিসিডিয়াম থেকেও ছেঁটে দিয়েছেন তিনি।

 

বরিষ্ঠ আওয়ামি লিগ নেতা সিদ্দিক, যিনি এক সময় তাঁর পিতা, শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গেও কাজ করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এক মূহুর্তও দেরি করেননি শেখ হাসিনা। দলের এক বিরাট মাপের নেতার বিরুদ্ধে অতি দ্রুত এই ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে বেকায়দায় পড়া বিএনপি এবং স্বাধীনতা বিরোধী জামাত সহ তাদের অন্যান্য মিত্র দলগুলির দুরভিসন্ধিমূলক পরিকল্পনা আর হালে পাণি পায়নি।

 

চরমপন্থী ইসলামি সংগঠনগুলি সিদ্দিকের বিচার ও শাস্তির দাবি করেছে। এর আগে বিএনপি, জামাত এবং তাদের মিত্র শক্তিগুলি ঘোলা জলে মাছ ধরতে চেয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার ওস্তাদের মার হয়ে দেখা দেওয়া সিদ্ধান্ত তাদের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে এবং একই সঙ্গে বিরাট সুবিধা এনে দিয়েছে শাসক দলের কাছে। নিউ ইয়র্ক থেকে দিল্লি হয়ে কলকাতায় চলে আসা সিদ্দিক এখন কিছুদিন ধরে ভারতেই আছেন।

 

নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটে অনুষ্ঠিত একটি দলীয় মিটিঙ চলার সময় হজ করা সময়ের অপচয় বলে মন্তব্য করে সিদ্দিক বলেছিলেন পয়গম্বর মহম্মদ হজের প্রচলন করেছিলেন আসলে তাঁর অনুগামীদের জীবনধারণের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য। তবলিগ জামাত সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, এটি অর্থনৈতিক মূল্য না থাকা একটি নিরর্থক আচার। তিনি বলেছিলেন, তবলিগ জামাতে যারা অংশ নেন, রাস্তা আটকে বসে থাকা ছাড়া সেই সব মানুষদের আর কোনও কাজই নেই।

 

তাঁর মন্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের বাইরের মুসলমানরা। সিদ্দিককে ধর্মত্যাগী ব্যক্তি আখ্যা দিয়ে তাঁর চরম শাস্তির দাবি করেন অনেকেই। যখনই বিএনপি-জামাত তাদের দুরভিসন্ধিমূলক পরিকল্পনা রূপায়িত করতে চায়, তখনই তারা তাদের বেআইনি কাজকর্মের যুক্তি খাড়া করতে \'জিহাদি আবেগ\' টেনে আনে। এই জিহাদের নামেই তারা মানুষ খুন, জনগণের সম্পত্তি ভাঙচুর করে এবং ক্ষমতা দখলের জন্য রাস্তায় বাহিনী নামিয়ে দেশ অচল করে দিতে চায়।

 

প্রধানমন্ত্রী তাঁর এক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় শুধু রাজনীতিকরা নন, সাধারণ ভাবে দেশের মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন। এর আগে, ফেব্রুয়ারি মাসে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে করা একটি তদন্তে দেখা গিয়েছিল এর আগের দফায় শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার সময় বস্ত্রমন্ত্রী হিসেবে সিদ্দিক একটি বড় রকমের বেনিয়মে জড়িত ছিলেন।

 

সিদ্দিকের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি আরও বেড়ে গেছে। আবদুল লতিফ সিদ্দিকের মত কিছু নেতা অপকর্ম করা এবং অনভিপ্রেত বিবৃতি দেওয়া সত্ত্বেও শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা এবং গ্রহনণযোগ্যতা ক্রমাণ্বয়ে উর্ধমূখী হয়েই চলেছে।

 

বস্তুতপক্ষে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সুনিশ্চিত করা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা করা এবং হিংসা-জঙ্গিপণা বন্ধ করায় যে ভূমিকা শেখ হাসিনা নিয়েছেন, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা দেশে এবং বিদেশে বেড়েই চলেছে। বিশ্বজোড়া মন্দার মাঝেও অর্থনৈতিক অগ্রগতি আনা, মিলেনিয়াম ডেভলপমেন্টের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা, দারিদ্রহার কমিয়ে আনা এবং শক্ত হাতে জঙ্গি কাজকর্ম দমন করায় তাঁর নেওয়া বিশাল ভূমিকা পৃথিবীর বৃহৎ শক্তিধর দেশগুলির নেতাদের প্রশংসা আদায় করেছে। দেশের মানুষ তাঁর নেতৃত্বের সমাদর করছেন এবং আস্থা রাখছেন তাঁর উপরে। সিদ্দিকের বিরুদ্ধে নেওয়া তাঁর সিদ্ধান্তকেও তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন।

 

হিংসা এবং পথে পথে সংঘর্ষের ক্রমাগত ঘটনায় দেশের মানুষ হতাশ। ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে ব্যাপক নৈরাজ্য সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করে যাচ্ছে বিএনপি এবং জামাতের নেতৃত্বে থাকা ইসলামি শক্তিগুলি এবং এই উদ্দেশ্যে তারা একের পর এক হরতাল ডেকে দেশকে অচল করে দিতে চেয়েছে। আর এই হরতালের মধ্যেই দলীয় কর্মীরা আক্রমণ করে হত্যা করেছে শান্তিররক্ষক, সাংবাদিক এবং স্বাধীনতা পন্থী ধর্মনিরপেক্ষ মানুষদের।

 

সিদ্দিকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে একটি পরিষ্কার বার্তা দিলেন শেখ হাসিনা- কোনও মহল থেকেই কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেননা তিনি।  




Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics