Column
হতে চলেছে দ্বিতীয় মৈত্রী ট্রেন

04 Jul 2015

#

এই মূহুর্তে মৈত্রী এক্সপ্রেসই এক মাত্র ট্রেন যা ঢাকা এবং কলকাতার মধ্যে ৩৭৫ কিমি দূরত্ব পাড়ি দেয়। এর জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশের রেল কর্তৃপক্ষ খুলনা এবং কলকাতার মধ্যে একটি দ্বিতীয় মৈত্রী ট্রেন চালু করার উপর জোর দিয়েছেন। সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনে এই প্রস্তাব রাখা হয় এবং এ বিষয় তিনিও তাঁর আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের এই প্রস্তাবটি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

 নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে যে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়, তাতে বলা হয়েছে খুলনা এবং ঢাকার মধ্যে দ্বিতীয় মৈত্রী ট্রেন চালু করার ব্যাপারে বিবেচনা করতে রাজি হয়েছেন তিনি। দুই প্রধানমন্ত্রীই মৈত্রী এক্সপ্রেসের যাত্রীদের জন্য আরও বেশি যাত্রী সহায়ক শুল্ক এবং অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নিজেদের দেশের অফিসারদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।


মোদি ঘোষণা করেছেন, মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং দু\'দেশের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষাকারী অন্যান্য ট্রেনের যাত্রীদের সুবিধার্থে শুল্ক ও অভিবাসনের ব্যবস্থা সহ ভারতের কোনও উপযুক্ত জায়গায় একটি আধুনিক আন্তর্জাতিক মানের প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল গড়ে তোলা হবে।


বিবৃতিটিতে আরও বলা হয়েছে যে, আখাউড়া-আগরতলা রেল যোগাযোগ এবং পুরনো রেল সংযোগগুলির পুনর্জীবনের ক্ষেত্রে দু দেশের সহযোগিতায় তাঁরা সন্তুষ্ট।


উন্নততর যোগাযোগের লক্ষ্যে আগরতলা এবং আখাউড়ার মধ্যে রেল সংযোগ গড়ে উঠতে চলেছে। এর জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহনের উদ্দেশ্যে এখন সমীক্ষার কাজ চলছে বাংলাদেশে। ভারতের আগরতলা এবং বাংলাদেশের আখাউড়ার মধ্যে ১৫ কিমি রেল লাইন পাতার জন্য ভারত ইতিমধ্যেই একটি ২৫২ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে।


আগরতলা-আখাউড়া রেল যোগাযোগের কাজ এখন অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। এর জন্য বাংলাদেশ সরকার যে ডিটেইলড প্রোজেক্ট (ডিপিআর) রিপোর্ট তৈরি করছে খুব শীগগিরই তার কাজ শেষ হয়ে যাবে। এই ডিপিআর তৈরি হয়ে যাওয়া মাত্রই রূপায়িত হবে প্রকল্প। এ ব্যপারে দু\'দেশের সীমান্তবর্তী জায়গায় যে সব করণীয় কাজ ছিল সেগুলি হয়ে গেছে।


বাংলাদেশ এবং ভারত-উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীই ঢাকা-শিলং-গৌহাটি এবং কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা বাস পরিষেবাকে স্বাগত জানিয়েছেন। রামগড়-সাব্রুমের মধ্যে ফেনি নদীর উপর সেতু তৈরির প্রস্তাব পর্যালোচনা করেন তাঁরা এবং এই কাজ ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট অফিসারদের নির্দেশ দেন।


দু\'দেশের মধ্যে বহুমূখী পরিবহন চুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় আলোচনা করা এবং এ ব্যাপারে একটি জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স গড়তে সম্মত হন দুই প্রধানমন্ত্রীই। উপ আঞ্চলিক ক্ষেত্রে জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ এবং ট্রানজিটের ব্যাপারে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত এবং নেপালের মধ্যে সহযোগিতা রক্ষাকারী জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা।


যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগের উপর জোর দিয়ে এ ব্যাপারে বেসরকারি ক্ষেত্রের গুরুত্বের কথা বলেছেন। ভারতীয় উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য একটি স্পেশাল ইকনমিক জোন তৈরি করার উদ্দেশ্যে  জমি নির্দিষ্ট করার জন্য সে দেশের সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মোদি।


নরেন্দ্র মোদির সফরকালে ভারতের রিলায়েন্স পাওয়ার লিমিটেড এবং আদানি পাওয়ার লিমিটেড  বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের সঙ্গে সে দেশে ৫.৫ মিলিয়ন ডলার ব্যায়ে ৪,৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দু\'টি পৃথক চুক্তি করেছেন।


যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক ভারসাম্যের অভাব যতদূর সম্ভব কমিয়ে আনার ব্যাপারে  দু\'পক্ষই জোর দিয়েছে। এ ব্যাপারে যে সব বাধা আছে সেগুলি দূর করে অবাধ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুনিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট অফিসারদের নির্দেশ দিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীই সমন্বয়ের মাধ্যমে স্থল সীমান্ত শুল্ক স্টেশন, স্থল বন্দর, চেক পোস্টগুলির আশু উন্নতি সাধনের উপর অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। সীমান্ত হাট (বর্ডার হাট) গুলি থেকে পাওয়া সদর্থক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাঁরা আরও এই রকম হাট তৈরির কথা বলেছেন।


ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ প্রস্তাবিত খুলনা-কলকাতা এবং যশোর-কলকাতা বাস পরিষেবা দু\'পক্ষের মধ্যে আলোচনার পর চালু করা যেতে পারে।


বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন দেশের প্রথম উপগ্রহ-\'বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১\' ২০১৭ সালে উৎক্ষেপণ করা হবে। সার্ক স্যাটেলাইট প্রকল্প নিয়ে ভারত যে কাজ করছে, তার প্রশংসা করেন তিনি।


দুই প্রধানমন্ত্রীই সমুদ্র-নির্ভর \'ব্লু ইকনমি\' এবং ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ব্যাপারে ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন।


বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) যাতে প্রসার ভারতীর ডিটিএইচ প্ল্যাটফর্মে আসতে পারে তার জন্য দূরদর্শন এবং বিটিভি চুক্তিবদ্ধ হবে।


বর্ধিত ইউ এন সিকিউরিটি কাউন্সিলে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।




Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics