Column
ত্রিপুরা থেকে ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবে বাংলাদেশ

07 Jul 2015

#

জানুয়ারি মাসের প্রথম দিক থেকে বাংলাদেশ ত্রিপুরা থেকে দৈনিক ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবে।
এই বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়ে যাবে ৬৫টি ট্রান্সমিশন টাওয়ারের কাজ শেষ হলে।  দক্ষিন এবং পশ্চিম ত্রিপুরায় পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া ইতিমধ্যেই ২০টি ট্রান্সমিশন টাওয়ার বসানোর কাজ শেষ করে ফেলেছে। বাকি ৪৫টি টাওয়ার বসানো এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হয়ে যাবে ডিসেম্বরের মধ্যে। অন্যদিকে বাংলাদেশের ভিতর ২৭ কিমি ট্রান্সমিশন লাইন সংযোগের কাজ করবে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অফ বাংলাদেশ। 
 
এই যে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশ পাবে তা ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা ৫০০ মেগাবওয়াটের অতিরিক্ত হিসাবে আসবে। অদূর ভবিষ্যতে এই রাজ্য থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট পাবে বাংলাদেশ। তখন ভারত থেকে বাংলাদেশে দৈনিক সরবরাহ হওয়া বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়াবে  ১১০০ মেগাওয়াট। জুন মাসের ৬ এবং ৭ তারিখে ঢাকা সরফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে ভারত বর্তমানের ৫০০ মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে বাংলাদেশকে ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর এবং বাংলাদেশের ভেড়ামারার ভিতর দিয়ে ৫০০ থেকে ১০০০ মেগাওয়াটের গ্রিড সংযোগ এবং দক্ষিন ত্রিপুরার পলাটনা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করার যে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীই। দু\'জনেই তাঁদের নিজের দেশের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। গ্রিড সংযোগ বাড়াতে দু\'দেশের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে, তাতে  বাংলাদেশের পশ্চিম দিকে অতিরিক্ত গ্রিড সংযোগের ব্যবস্থা করে   ভারত থেকে আরও বিদ্যুৎ আমদানির ব্যাপারে ঢাকার প্রস্তাবে নীতিগত ভাব সম্মত হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

 ত্রিপুরা থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রযুক্তিগত এবং অন্যান্য বিষয়গুলি ভারত এবং বাংলাদেশের আধিকারিকরা বেশ কয়েকটি বৈঠক করে চূড়ান্ত করেন। ত্রিপুরার সূর্যমনিনগর পাওয়ার গ্রিড থেকে বাংলাদেশের কুমিল্লা পাওয়ার গ্রিডের ভিতর বিদ্যুৎ পরিবাহী লাইন বসানোর সময় যাতে  জনবসতি, বনাঞ্চল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন  জায়গা এড়ানো যায়, সে ব্যাপারে সম্ভাব্য সব রকমের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

দু\'দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিবাহী লাইন বসানোর কাজ যাতে দ্রুত করা যায় তার জন্য এক সাথে কাজ করছেন পি জি সি আই এল, সেন্ট্রাল ইলেক্ট্রিসিটি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া, ত্রিপুরা স্টেট ইলেক্ট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ এবং পাওয়ার ডেভলপমেন্ট বোর্ড বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ার সহ উচ্চ পদস্থ আধিকারকরা। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেছেন তাঁর রাজ্যে দু\'টি বড় আকারের গ্যাস-নির্ভর বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে রাজ্যে অন্তত ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত হবে।  আগরতলা থেকে ৬০ কিমি দূরের পালাটনায় অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া তাদের বৃহত্তম, ৭২৬মেগাওয়াটের একটি বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করেছেন। আবার পশ্চিম ত্রিপুরার মনারচকে সরকারি সংস্থা নর্থ ইস্ট ইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন একটী ১০৪ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে। এই জায়গাটি আগরতলার ৭০ কিমি দক্ষিনে এবং বাংালাদেশ-ভারত সীমান্ত থেকে মাত্র ৮ কিমি দূরে।

ভারত বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে শুরু করেছে ২০১৩ সাল থেকে, বাংলাদেশ পাওয়ার বোর্ড এবং ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগমের মধ্যে ২০১২ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারিতে করা একটি চুক্তির ভিত্তিতে, যার সূচনা হয়েছিল ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময় করা আর একটি চুক্তির মধ্য দিয়ে। 




Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics