Column
ইসলামি সন্ত্রাসবাদী দলের হত্যা-হুমকি

12 Jul 2015

#

ইসলামি সন্ত্রাসবাদী দল আনসারুল্লা বাংলা টিম সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম এবং ঢাকা বিশ্ববিিদ্যালয়ের সহ উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিক সহ দশ জনকে খুনের হুমকি দিয়েছে।

 বিডিনিউজ২৪.কম-এর খবর অনুযায়ী ২০শে মে ডাক মারফত পাওয়া একটি চিঠিতে এই হুমকি পান সহ উপাচার্য। চিঠিতে ইমামকে \'ইসলাম বিরোধী উপদেষ্টা\' এবং সিদ্দিককে \'ইসলামের এক নম্বর শত্রু\' বলা হয়েছে।


২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েক জন ব্লগারকে হত্যার দায়িত্ব স্বীকার করেছে আনসারুল্লা বাংলা টিম। এর মধ্যে সাম্প্রতিক ঘটনা অভিজিত রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু এবং অনন্ত বিজয় দাসের হত্যাকান্ড।


আনসারুল্লা বাংলা টিমের পরিচয়, এটি আল কায়দার মদতপুষ্ট একটি অতি উগ্র জঙ্গি সংগঠন। ২০১৩ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি শাহবাগ-আন্দোলন কর্মী রাজীব হায়দারকে নৃশংস ভাবে হত্যা করে এরা প্রথম জনসমক্ষে নিজেদের অস্তিত্ব জাহির করে। রাজীব-হত্যার প্রধান চক্রী সালমান ইয়াসির মাহমুদ অতীতে জামাতের ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্র শিবিরের সদস্য ছিল। শাহবাগের আর এক আন্দোলনকারী আসিফ মহিউদ্দিনের উপরেও আনসারুল্লা বাংলা টিম আক্রমণ চালিয়েছিল, কিন্তু দৈবাৎ প্রাণে বেঁচে যান তিনি। 


এরপর থেকে এই সন্ত্রাসী দলের জঙ্গিরা তিন মাসের মধ্যে তিনটি বর্বর হত্যাকান্ড ঘটি্যেছে ব্লগার অভিজিত রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু এবং অনন্ত বিজয় রায়ের উপর আক্রমণ চালিয়ে।


এবিটি বলে একটি উগ্রবাদী সংগঠন যে আছে, তা প্রকাশ পেয়েছিল ২০১৩ সালের মার্চ মাসে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি নামে ঢাকার একটি নামী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঁচ ছাত্রকে পুলিশি জেরার সময়। এদের সবাইকেই রাজীব হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। 


বাংলাদেশে এবিটির মত আল কায়দার একটি শাখা সংগঠনের অস্তিত্বের ব্যাপারে পুলিশ প্রথম জানতে পারে আনসার-আল-মুজাহিদিন ইংলিশ ফোরাম নামের আল কায়দার মদতপুষ্ট একটি ওয়েবসাইট থেকে। সেখানে \'ফাইভ লায়নস অফ উম্মা\' শিরোমাম দিয়ে রাজীব হত্যায় জড়িত পাঁচ ছাত্রের গ্রেপ্তারের খবর বেরিয়েছিল। 

ঢাকা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ এর পরে অনুসন্ধান করে আর একটি ওয়েবসাইট, পাকিস্তানের \'বাব-উল-ইসলাম নেট-এর খোঁজ পায়। এই ওয়েবসাইট থেকে জানা যায় যে এবিটির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে এবং এটি তৈরিই হয় ইরাকি আল কায়দা দল, আনসার-উল-ইসলামের ধাঁচে।  সম্ভাব্য কর্মী নিয়োগের জন্য এই চরমপন্থী সংগঠন সব সময়ই ইংরাজি মাধ্যম স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের তাক করত। 

 

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে থাকা আনসারুল্লা বাংলা টিমের সদস্যরা ২০১২ সাল থেকেই এ এ এম ই এফ-এর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সক্রিয় হতে থাকে। এই ওয়েবসাইটে বাংলা, উর্দু এবং আরবি ভাষায়  বাংলাদেশে সশস্ত্র জিহাদের প্রচার শুরু করে এরা। সাম্প্রতিক কালে আহমেদ রাজীব হায়দার, অভিজিত রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু এবং অনন্ত বিজয় দাসের হত্যায় যারা জড়িত ছিল তারা এই সব দুষ্কর্মে উদ্দীপ্ত হয়েছিল দলের ধর্মীয় নেতা, উগ্র ইসলামবাদী মুফতি জসিমুদ্দিন রহমানির ভাষণে। এই মুফতি জসিমুদিন রহমানিকে তাঁর ৩০ জন অনুগামী সহ বরগুনা জেলার দক্ষিন খেজুরতলার একটি গোপন আস্তানা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


 রহমানি ছিলেন আল কায়দার ইয়েমেনি ধর্মীয় তাত্ত্বিক নেতা আনোয়ার আল আওলাকির অনুচর। ২০১১ সালে আমেরিকার ড্রোন আক্রমনে নিহত হয়েছিলেন আই আওলাকি। রহমানিকে গ্রেপ্তারের সঙ্গেই তাঁর কাছে থেকে একটি খতম তালিকা উদ্ধার করে পুলিশ।   


আল কায়দা-পন্থী আরও কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন, যেমন বাংলাদেশে বর্তমানে নিষিদ্ধ জামায়েতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জে এম বি) এবং হরকত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামি এখন বিভিন্ন নামে তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। এদের অনেক কর্মীই যোগ দিয়েছে এবিটিতে।


ঢাকায় এবিটির প্রধান ঘাঁটি মারকাজুল উলুম ইসলামিয়া এখন জে এম বি এবং হুজি সহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের কর্মীদের কেন্দ্রস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৪ সালের মার্চ মাসে গ্রেপ্তার হওয়া চক্ষু চিকিৎসক ডাঃ ফরিদ উদ্দিন, ফরিদপুর জেলায় জামাতের এক জন প্রাক্তন আমির, স্বীকার করেছিলেন যে এই মারকাজুল উলুম ইসলামিয়েতেই তিনি মুফতি জসিমুদ্দিন রহমানির সঙ্গে বেশ কয়েক বার বৈঠকে বসে বাংলাদেশে খেলাফত (আল্লাহর শাসন) প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা সমস্ত ইসলামি সংগঠনগুলিকে কী ভাবে এক ছাতার তলায় আনা যায়, তা নিয়ে কৌশল ঠিক করতে আলোচনা করেছেন।  


এই মুফতি রহমানির অধীনে অন্তত ৪,০০০ জঙ্গি আছে, যারা সশস্ত্র জিহাদে বিশ্বাস করে।




Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics