Column
আওয়ামি লিগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

12 Jul 2015

#

সকলেরই জন্মদিন থাকে, তা সে কোনও ব্যক্তি হোক অথবা সংগঠন, প্রতিষ্ঠান অথবা রাজনৈতিক দল।

 এই কলামের বিষয় বাংলাদেশের আওয়ামি লিগকে নিয়ে, ৬৬ বছর আগে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন জন্ম হয়েছিল যে দলের। আবদুল হামিদ খান ভাসানি ছিলেন এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম প্রেসিডেন্ট । প্রথম সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। প্রথমে দলটির নাম ছিল \'ইস্ট পাকিস্তান আওয়ামি লিগ মুসলিম লিগ"। গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতাই ছিল দলের চালিকা শক্তি। ১৯৫৫ সালে দলের নাম পরিবর্তিত হয়ে হয় \'ইস্ট পাকিস্তান আওয়ামি লিগ\'। তবে আদর্শের কোনও পরিবর্তন ঘটেনি।


১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় আন্তর্জাতিক রাজনীতি ক্ষেত্রে তোলপাড় তুলে দেওয়া এই দল মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিল ১৯৬৯ সালের আন্দোলনের সময়। এরই প্রতিফলন ঘটেছিল ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামি লিগের নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা পাওয়ার মধ্য দিয়ে। এই সময় দলের নেতৃত্বে ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর স্বপ্ন সফল করতে শেষ পর্যন্ত তিনি স্বাধীনতার ডাক দেন এবং সাধারণ মানুষদের নিয়ে শুরু করেন মুক্তি সংগ্রাম। এরই ফলশ্রুতি পূর্ব পাকিস্তান থেকে রূপান্তরিত হয়ে বাংলাদেশ নামে এক স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম। একই সঙ্গে দলের নামও আরও একবার পরিবর্তিত হয়ে হল \'বাংলাদেশ আওয়ামি লিগ।\'


দেশের সব থেকে প্রাচীন এই সংগঠণটি কী ভাবে নিজের ভাষা, গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার অধিকার অর্জন করতে হয় তার দিশা দেখিয়েছে মানুষকে। এই দলের জন্ম হয়েছিল মানুষের অধিকারের লড়াই করার জন্য, কোনও ব্যক্তি অথবা গোষ্ঠী বিশেষের উচ্চাকাঙ্খা পূরণের জন্য নয়। জাতীয় সম্পদ লুন্ঠনের জন্য এই দল কোনও দিনই কোনও অশুভ শক্তির সঙ্গে স্বার্থ সিদ্ধির আঁতাতে জড়িত হয়ে পড়েনি।


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকান্ডের পর বন্ধ হয়ে যায় সেই কাজ। একই বছরের নভেম্বর মাসে দলের অন্য শীর্ষ নেতারাও খুন হয়ে যান। এর পর কিছু দিনের জন্য পথ হারিয়ে ফেলে এই মহান, প্রাচীন দলটি। কিন্তু মুজিব পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বেঁচে যাওয়া শেখ হাসিনা, যিনি হত্যাকান্ডের সময় বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না, ১৯৮১ সালে হাল ধরেন আওয়ামি লিগের। সে কাজে সফল হয়ে মানুষের রায়ে ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হন তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার ২১ বছর পরে।

 আওয়ামি লিগ যখন বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিল, সেই সময় একাধিক বার শেখ হাসিনার প্রাণ নাশের চেষ্টা হয়ে। প্রথম বার ২০০১ সালে এবং দ্বিতীয়  বার ২০০৪ সালের ২১শে অগাস্ট তারিখে দলের জনসভায় গ্রেনেড আক্রমণ চালিয়ে। তবে প্রত্যেক বারই অল্পের জন্যে বেঁচে যান তিনি। ২০০৬ সালে দেশে জরুরী অবস্থার সময় জেলে যেতে হয় শেখ হাসিনাকে এবং বিভিন্ন সময় তাঁকে বহু প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ২০০৮ সালে তিনি দ্বিতীয় বার প্রধানমন্ত্রী হন এবং এর পরে আবারও- ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসের নির্বাচনে জয়ী হয়ে। এ বছর দলের ৬৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপনের সময় অনেকগুলি উন্নয়নমূলক কর্মসূচী গ্রহণ করেন তিনি।


স্বাধীনতা-পূর্ব সময় থেকে শুরু করে এই দলটি এখনও ধর্মনিরপেক্ষতা এবং গণতন্ত্রের নীতিকে অনুসরণ করে চলেছে। এই দলের নেতৃত্বে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, বিশ্ব ব্যাংকের সাম্প্রতিক রিপোর্টেই যার প্রমাণ পাওয়া যায়। দক্ষ প্রশাসনিক কাজের জন্য বহু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান শেখ হাসিনাকে পুরষ্কারে সম্মানিত করেছে। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ একটি উন্নত দেশে পরিণত হতে চলেছে।  দারিদ্র্য, ক্ষুধা দূর করা, শিশু মৃত্যু এবং বিভিন্ন অসুখ নির্মূল করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে এখন দেশে। এই সমস্ত পদক্ষেপই দেশে এবং বিদেশে প্রশংসা আদায় করেছে।


এই সমস্ত সাফল্য এবার আরও আলোকিত করে তুলেছে আওয়ামি লিগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপনকে।




Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics