Column
জামাত একটি সুবিধাবাদী দল

14 Jul 2015

#

দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দেশের সর্ববৃহৎ বিরোধী দল, বিএনপি, অবশেষে বুঝতে পেরেছে যে, তাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকা জামাত আসলে সুবিধাবাদের রাজনীতি করছে।
এ নিয়ে দু\'দলের মধ্যে যথেষ্ট উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। জামাত নিশ্চিত ভাবে এখন বুঝতে পেরেছে যে অদূর ভবিষ্যতে  ২০ দলের বিরোধী জোট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে তাদের।  যদি  জামাত বেরিয়ে আসে, তাহলেও কিন্তু তাদের আওয়ামি লিগের সঙ্গে আঁতাত হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। কারণ জামাত তাদের আওয়ামি লিগ বিরোধী আন্দোলন করেই যাবে।

জামাত যে একটি সুবিধাবাদীদের দল, তা প্রকাশ পেতে থাকে ১৯৮৬ সাল থেকেই। ওই বছর বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু জেনারেল এরশাদের আমলে আওয়ামি লিগের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকা জামাত নির্বাচনে যোগ দিয়েছিল। আওয়ামি লিগের সঙ্গে তাদের জোটে যাওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দলের গায়ে লেগে থাকা একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের কলঙ্ক মুছে ফেলা। এই লক্ষ্যের কথা মাথায় রেখেই ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তারা বিএনপি-র বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। তাদের দাবি ছিল যে তারা  এই আন্দোলন করছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথা চালু করার সমর্থনে। শেষ পর্যন্ত বিএনপি অবশ্য সেই দাবি মানতে বাধ্য হয়। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামি লিগের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকা জামাত সংসদে তিনটি আসন পেয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা জামাতকে তাঁর সরকারে নেননি।

 এর পর থেকেই আওয়ামি লিগের নেতৃত্বাধীন তিন দলের জোট থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ খুঁজছিল জামাত। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৯ তাই করে তারা এবং যোগ দেয় বিএনপি-র চার দলের জোটে। এবার জামাত সরাসরি ধর্মের রাজনীতি করা শুরু করে এবং নতুন জোটের ভিতরে থেকে ২০০১ সালের নির্বাচনে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৮টি আসন পায় এই দল। বিএনপি  এবং চার দলের জোট নেত্রী খালেদা জিয়া জামাতের থেকে দু\'জন স্বাধীনতা বিরোধী, যুদ্ধাপরাধীকে বেছে নিয়ে তাদের নিজের সরকারের পূর্ন মন্ত্রী্র পদে বসান। এ ভাবেই জামাতকে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতির মূল স্রোতে নিয়ে আসেন।  খালেদার কাছে গুরুত্ব পাওয়া জামাত অচিরেই জোটের একজন প্রধান শরিক হিসাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে। তার ফলে কার্যত গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে অন্য শরিকেরা। 

এরপর আসে ১/১১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচন। বিএনপি এই নির্বাচনে যোগ দিতে চায়নি, কিন্তু জামাত তাদের ভুল পথে চালিত করে। তারা এমন কি জোট ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে  নির্বাচনে অংশ নেবে বলে হুমকি দিয়েছিল বিএনপিকে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিএনপি এবং মাত্র ৩০টি আসন পায় তারা। মানুষ সম্পূর্ন ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন জামাতকে। অন্যদিকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালন করতে গিয়ে ক্ষমতায় আসা আওয়ামি লিগ সরকার গঠনের অব্যবহিত পরেই ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে। এতে ক্ষিপ্ত জামাত বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে বিচার বন্ধ করার জন্য দেশজুড়ে নানা রকমের নাশকতামূলক, ধ্বংসাত্মক কাজ কর্ম করতে শুরু  অপচেষ্টা করতে শুরু করে। কিন্তু যখন খালেদা জিয়াকে তাঁর ক্যান্টমেন্টের বাসভবন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তখন জামাত ছিল একেবারে চুপ। জামাতের প্ররোচনাতেই  বেগম জিয়া বাংলাদেশে সফররত অতিথি, ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেন। কিন্তু এই বেগম জিয়াই আগে তাঁর দিল্লি সফরের সময় ভারতের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তাঁর এই অপকীর্তি শুধু বিএনপিকে নয়, গোটা দেশ, জাতিকে নীচে নামিয়েছে। ২০০৪-র নির্বাচনের সময় জামাতের অবস্থান এবং আওয়ামি লিগ সরকারের পতন ঘটানোর জন্য এ বছরের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু করা বিএনপি-র আন্দোলন নিয়ে বহু প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। সাম্প্রতিকতম তিনটি নগরের পুরসভা নির্বাচনে জামাত তাদের প্রার্থী তুলে নেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপিকে, তা তারা ভঙ্গ করেছে। জামাত নির্বাচনে লড়ে এবং তাদের প্রার্থীদের মধ্য থেকে দশ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসাবে জয়ী হন।



Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics