Column
দ্রুত ক্ষয় হচ্ছে জামাতের

14 Jul 2015

#

পাপ কাজ করে কখনো ভাল কিছু করা যায়না। চলতি কথায় একটি কথা চালু আছে-"পাপ কখনও নিজের বাপকেও ছাড়েনা।

 এ কথা সত্যি। এ রকম হতে হয়তো কিছু সময় লাগতে পারে, কিন্তু এক সময় নিশ্চিত ভাবে তা হয়। আমরা এ বিষয়ে এখন জামাত-এ-ইসলাম বাংলাদেশের কথা বলছি, যারা ১৯৭১-এ স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় তাদের পাপ, অপরাধকর্ম শুরু করেছিল। কী করেছিল তারা ওই সময়? ৩০ লক্ষ দেশবাসীর রক্তে নিজেদের হাত রাঙিয়েছিল, ধর্ষণ করে সম্ভ্রম কেড়েছিল বহু মা-বোনের। এখন সময় এসেছে তাদের দুষ্কর্মের উপযুক্ত প্রতিদান পাওয়ার।  দেশে এখন সব দিকে থেকেই কোনঠাসা হয়ে পড়েছে এই দলটি।  যখন এই দলের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল কাদের  মোল্লার যুদ্ধাপরাধ আদালতের বিচারে  প্রমাণিত হয় এবং তার ফাঁসি হয়, তখন কিছু আন্তর্জাতিক সংগঠন সরব হয়েছিল এর বিরুদ্ধে। কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন হয় জামাতের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি কামারুজ্জামানের বিচারের সময় থেকে। এর পর দেশের সর্বোচ্চ আদালত জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল আলি আহসান মহম্মদ মুজাহিদেরও চরম দন্ডের আদেশ বহাল রেখেছে। 


রাষ্ট্র সংঘের সেক্রেটারি জেনারেলের বিশেষ প্রতিনিধি আগে এনেক বার এ দেশে এসে  তাঁর বি্বৃতি দিয়েছেন। কিন্তু তিনি এখন নীরব। 


বাংলাদেশের রাজধানীর মগবাজারে জামাতের কন্দ্রীয় দফতর গত চার বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এই দলের রাজনৈতিক কর্মীদের সংখ্যা হয়তো কমে যাচ্ছে, কিন্তু আর্থিক ভাবে এরা এখনও খুব শক্ত জায়গায় দাঁড়িয়ে। সংগঠন পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসার থেকে বছরে ৩০০ মিলিয়ন ডলার আয় করা ছাড়াও বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণের অর্থ সাহায্য নিয়মিত ভাবে পেয়ে থাকে জামাত। যে সব সংস্থা থেকে অর্থ আসে, তাদের মধ্যে আছে কাতার চ্যারিটেবল সোসাইটি, কুয়েতের রিভাইভাল অফ ইসলামিক হেরিটেজ সোসাইটি এবং ব্রিটেনে অবস্থিত ইনস্টিটিউট অফ ইসলামিক পলিটিকাল থট অ্যান্ড মুসলিম এইড। সাধারণ মানুষেরা জানেন যে বেশ কিছু দেশ থেকে এদের কাছে অর্থ সাহায্য আসে। অসাংবিধানিক এবং সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মের জন্য বব্যহৃত হয় এই সব তহবিল।


কিন্তু সাম্প্রতিক কালে দেশের উন্নত আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি এবং অর্থনীতি জামাতের মতলব ভেস্তে দিয়েছে। ব্রিটেনের ইন্টারন্যাশনাল কনসাল্টিং অর্গানাইজেশনের একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ৩১তম স্থানে রাখা হয়েছে। পি ডাব্লু সি-র সমীক্ষা অনুযায়ী, যে ভাবে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে উন্নয়নশীল থেকে উন্নত দেশ হয়ে উঠবে বাংলাদেশ। অর্থনীতির এই উন্নতিতে স্বাভাবিক ভাবেই মানুষ যেমন খুশি, তেমনি একঘরে হয়ে পড়ছে জামাত। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনীতিকরা তাঁদের অবস্থান বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং তার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ পাওয়া গেছে ২২শে জুন ঢাকায় জামাতের ঢাকা ইফতার পার্টিতে উপস্থিতি থেকে। 


তবে জামাত শুধু একাই ক্ষয়ের পথে যাচ্ছেনা, এ পথে তারা তাদের মিত্র দল বিএনপি-কেও নিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় যুদ্ধাপরাধের জন্য দেশের উচ্চতম আদালত চার জনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছেন। এবার পালা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরির, যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচারাধীন বিএনপি-র প্রথম নেতা। ২০১০ সালে গ্রেপ্তার হওয়া এই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে  মুক্তি যুদ্ধের সময় মানবতা বিরোধী অপরা ও গণহত্যা ঘটানো, অপহরণ করা এবং মানুষকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করার অভিযোগ আণা হয়েছে। ট্রাইবুনালের রায়ের বিরুদ্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্টে যে আপীল করেছিলেন, তার শুনানি সম্পূর্ণ হয়েছে এবং এ বিষয়ে এখন চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা করছেন সবাই। 

  

জামাতের শেষের শুরু হয়ে গেছে, আর বিএনপি-ও চলেছে সেই পথের পথিক হতে। তবে মানুষ চাইছেন দেশের প্রয়োজনে বিনপি ত্যাগ করুক জামাতকে।




Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics