Column
ভারতে আরও কূটনৈতিক মিশন স্থাপনে আগ্রহী বাংলাদেশ

19 Jul 2015

#

ভারতে আরও কূটনৈতিক মিশন খুলবে বাংলাদেশ। বর্তমানে ভারতের তিনটি প্রধান শহরে কূটনৈতিক মিশন আছে বাংলাদেশের - নয়া দিল্লি, কলকাতা এবং মুম্বাই।

 এবার বাংলাদেশ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তার কূটনৈতিক উপস্থিতির প্রসার ঘটানোর প্রস্তাব দিয়েছে।  বাণিজ্য, দু দিকের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্কের বৃদ্ধি ঘটানো এর উদ্দেশ্য। এই প্রস্তাবে ভারত রাজী হয়েছে।  


নয়া দিল্লির ইতিবাচক মনোভাবের প্রত্যুত্তরে বাংলাদেশও ভারতকে রংপুর এবং সিলেটে তাদের কূটনৈতিক কেন্দ্র খুলতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।


আগরতলায় সম্প্রতি স্থাপিত বাংলাদেশ মিশনটিকে অচিরেই অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশন পর্যায়ে উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিদেশমন্ত্রকের অফিসারেরা। তাঁরা বলেছেন, আসামের গুয়াহাটিতে বাংলাদেশের একটি নতুন ডেপুটি হাই কমিশন স্থাপন করার প্রস্তাবে রাজি হয়েছে  ভারত 


 অফিসারেরা বলেছেন, গুয়াহাটিতে প্রস্তাবিত ডেপুটি হাই কমিশনটির আওতায় থাকবে আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড এবং অরুনাচল প্রদেশ। এই হাই কমিশনটি সামনের বছরের গোড়া থেকে কাজ শুরু করবে। 


তাঁরা জানিয়েছেন, আগরতলা মিশনকে উন্নীত করার কাজ এই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হবে। এর ফলে আরও জোরদার হবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, দু\'দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান । 


ত্রিপুরা এবং ভারতের অন্যান্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্য বাড়াতে খুবই আগ্রহী।


 ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যের আর্থিক 

পরিমাণ আগামী বছর ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। ত্রিপুরা সরকারের শিল্প দফতরের ডিরেক্টর পি এল আগরওয়াল বলেছেন, " আমাদের লক্ষ্য ২০১৬ সালে বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়া, আর বাংলাদেশে নতুন শিল্প গড়ে ওঠার ফলে তা খুবই সম্ভব। আগরওয়াল আরও জানিয়েছেন, ত্রিপুরা এবং বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ যেখানে ১৯৯৪ সালে ছিল শুণ্য, সেখানে তা ১৯৯৬ সালে চার কোটি টাকা এবং ২০১২-১৩ সালে ৩৪০ কোটি টাকায় চলে গেছে। এই বাণিজ্য সম্পূর্ন ভাবেই আমদানি নির্ভর এবং সেই বাণিজ্যের ভারসাম্য নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের পক্ষে।


বাংলাদেশ ও ভারত এর আগে আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় এবং মিজোরামে থাকা ২৭টি শুল্ক স্টেশনের আধুনিকীকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। উত্তর-পূর্ব ভারতে বেশি সংখ্যায় বাংলাদেশি কূটনীতি কেন্দ্র স্থাপিত হলে ব্যবসা-বাণিজ্যও আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন ত্রিপুরা চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট এম এল দেবনাথ।


বাংলাদেশি লগ্নি ত্রিপুরায় আসতে শুরু করেছে। ভারতের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠার ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী বাংলাদেশের ব্যবসায়ী মহল। ভারতের \'মেক ইন ইন্ডিয়া\' প্রচারে উৎসাহিত হয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতে লগ্নি করতে চাইছেন তাঁরা।


বাংলাদেশের পোষাক প্রস্তুতকারকরা ত্রিপুরা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য জায়গায় ব্যবসা স্থাপন করতে আগ্রহী এবং ত্রিপুরা সরকারও তৈরি তাঁদের পরিকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা দিতে। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বাংলাদেশের পোষাক ব্যবসায়ীদের উৎপাদন কেন্দ্র খোলার জন্য পশ্চিম ত্রিপুরার বোধজংনগর ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে জমি এবং অন্যান্য পরিকাঠামোগত সাহায্য দিতে রাজীও হয়েছেন।


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জুন মাসের ছয় এবং সাত তারিখে ঢাকা সফরের সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দু\'দেশের মধ্যে বাণিজ্য এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধির ব্যাপারে সব রকম আলোচনা করেছেন। দু\'দেশের মধ্যে স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত দ্রব্যসামগ্রীর বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে বাংলাদেশ  এবং ভারত এ পর্যন্ত চারটি সীমান্ত হাট স্থাপন করেছে-দু\'টি মেঘালয় এবং দু\'টি ত্রিপুরা সীমান্তে। ত্রিপুরা (৮৫৬ কিমি), মেঘালয় (৪৪৩ কিমি), মিজোরাম (৩১৮ কিমি) এবং আসাম (২৬৩) বরাবর মোট ১৮৮০ কিমি আন্তর্জাতিক সীমান্ত আছে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে।




Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics